Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৩-২০১২

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গণ-আবেদন

শরিফুজ্জামান


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গণ-আবেদন
ছাত্রলীগের চারজন সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। একাধিক সাংসদ ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেতে সহানুভূতি চেয়েছেন। আর মন্ত্রিপরিষদের অধিকাংশ সদস্য এক বা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সুপারিশ করেছেন।
প্রায় এক বছর ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়ার তোড়জোড় চললেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। নানামুখী চাপ ও সুপারিশের কারণে এগোনোর পথ খুঁজে পাচ্ছিল না মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যোগ্যতা ও শর্ত মেনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সরেজমিন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় এসব প্রতিবেদনের আলোকে করণীয় সম্পর্কে একাধিক সভা করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে অনেক সময় লেগেছে। দু-এক সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
২০১০ সালের ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের গেজেট প্রকাশ হয়। ওই আইনের আলোকে প্রায় এক বছর ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা পড়েছে ৯২টি আবেদন। আর ইউজিসি ৭২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরেজমিন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সনদ অর্জনে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার আগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া ঠিক হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না মন্ত্রণালয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেয়, যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি সেগুলো ২০১১-এর সেপ্টেম্বরের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। কিন্তু এরপর চার মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছাত্রভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জরুরিভাবে জমি কিনেছে। তবে যারা নিয়ম মানেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রলীগের সাবেক চার নেতার আবেদন: গত ১৯ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (১৯৯৮ থেকে ২০০২) বাহাদুর ব্যাপারির আবেদনের ওপর পরিদর্শন প্রতিবেদন। তিনি রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন করেছেন। ওই দিন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়া পরিদর্শন প্রতিবেদনের সংখ্যা ছিল ৭২।
এর আগে ছাত্রলীগের সাবেক দুই সভাপতি এনামুল হক শামীম (পোর্ট সিটি, চট্টগ্রাম) ও লিয়াকত শিকদার (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী) আবেদন করেছেন। এনামুল হক ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত এবং লিয়াকত শিকদার ২০০২-২০০৬ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। অপর আবেদনকারী নজরুল ইসলাম (নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, মধ্য বাড্ডা, ঢাকা) ২০০২-২০০৬ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সূত্রমতে, ছাত্রলীগের এই চার নেতার আবেদন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। সরকার ও দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসব বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি দেওয়ার জন্য চাপ আসছে।
কৌশল, তদবির ও সুপারিশ: খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক খুলনায় নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর নাম সামনে রেখে অন্যরা অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেয়েছেন। ঢাকায় সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানের নাম রয়েছে। তবে এর মূল উদ্যোক্তা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজিসহ প্রায় একডজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিক গাজী এম এ সালাম।
একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক বা একাধিক মন্ত্রী ও সাংসদ সুপারিশ করছেন। খুলনার ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির জন্য সুপারিশ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। রাজশাহীর কিংস ইউনিভার্সিটির জন্য সুপারিশ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ। রাজশাহীর টাইমস ইউনিভার্সিটির জন্য অনানুষ্ঠানিক চিঠি (ডিও) দিয়েছেন ওই অঞ্চলের চার সাংসদ।
গাজীপুরের খাজা মঈনুদ্দিন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জন্য সুপারিশ করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানসহ কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদ। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশের প্রধান আবুল হোসেন এটির উদ্যোক্তা। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিচার বিভাগীয় যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন আবুল হোসেন। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য শাখায় বিভক্ত হয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রায় সব শাখার বিরুদ্ধে সনদ কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
কুমিল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশ করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম। টাঙ্গাইল ইউনিভার্সিটি অব রিসার্চ অ্যান্ড মডার্ন স্টাডিজের জন্য সুপারিশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।
ময়মনসিংহের ইউনিভার্সিটি অব দ্য ইস্ট-এর পক্ষে-বিপক্ষে চলছে জোর তদবির। ২১ আগস্ট বোমা হামলায় আহত এক ছাত্রলীগের নেতা লিখিত অভিযোগ করেছেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি এবং তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি প্রশ্নবিদ্ধ। উদ্যোক্তা এম আহম্মদ আলী মল্লিক মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, এটা ঠিক নয়। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত শামসুর রহমানকে এর প্রস্তাবিত উপাচার্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।
জয়পুরহাটের মডার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন একজন সাংসদ, বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ মাহফুজা মণ্ডল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ডিও দিয়েছেন।
মূল উদ্যোক্তা স্থানীয় একটি কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ মিয়া। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভুল-বোঝাবুঝির কারণে নারী সাংসদ বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ডিও দিয়েছেন।
রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের আবেদন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেছে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, রেড ক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন, সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সাংসদ আ ন ম শামশুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নূর আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ব্যবসায়ী এ এস এম মাঈনুদ্দিন মোনেম, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের কাজী কামরুজ্জামান, বারডেমের এ কে আজাদ খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুল খালেক, ইউসিসি কোচিং সেন্টারের মালিক এম এ হালিম পাটোয়ারী প্রমুখ।
রাজশাহী ও চট্টগ্রামে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেছেন পিএইচপি গ্রুপের সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, খুলনা ও রাজশাহীতে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আহ্ছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক কাজী রফিকুল আলম আবেদন করেছেন।
ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান এবং নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার বাইরে বড় শহরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন খুব বেশি। অনেকে বিনিয়োগ করে এবং শর্ত মেনে অপেক্ষা করছেন। ঢাকায় মানসম্মত দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের মান চিন্তা করে এই অনুমতি দেওয়া উচিত।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে