Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৯-২০১৪

পূণ্যভূমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিয়ে বিড়ম্বনা ও সুচিত্রার ছবি

পূণ্যভূমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিয়ে বিড়ম্বনা ও সুচিত্রার ছবি

ঢাকা, ০৯ জানুয়ারি- দিনের আলো তখনও শেষ হয়নি। সন্ধ্যা নামে নামে ভাব। ঢাকার সেগুন বাগিচার শিল্পকলা একাডেমীর মূল ফটকের সামনে নিত্যদিনের ভিড়টা চোখে পড়লো না। চায়ের দোকানের সামনে দু’তিনজন করে দল বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে। মূল ফটক পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো সবুজরাঙা একটা ব্যানার। ব্যানারে লেখা আছে ‘ট্রিবিউট সুচিত্রা সেন, সুচিত্রা-উত্তম অভিনীত চলচ্চিত্র নিয়ে উৎসব’। লেখাটার একপাশে সুচিত্রা সেনের একটা ছোট ছবি অন্য পাশে উত্তম কুমারের। ‘শিল্পকলা একাডেমীর লোকজনের কালার সেন্স একটু কেমন যেন। এরকম সস্তা ব্যানার করে কেউ?’ ব্যানারটা দেখতে দেখতে কথাগুলো কানে আসলো। ঘুরে তাকাতেই দেখলাম দুজন তরুণ চলে যাচ্ছেন।

সুচিত্রা সেনের চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। হাতে একটু সময় আছে। ঘুরে আসা যাক একাডেমীর অন্য হলগুলো থেকে। নাট্যশালার মূল হল ফাঁকা। পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রবেশের আগেই চোখে পড়লো নির্দেশক ও অভিনেতা আতাউর রহমান বসে আছেন একলা একা বিশাল ফাঁকা জায়গায়। কাঁচা গাদা ফুল দিয়ে পরীক্ষণ থিয়েটার হলের প্রবেশ মুখের খালি জায়গাটা সাজানো হয়েছে। চোখে পড়লো কয়েকটি ব্যানার। সেগুলো পড়ে বুঝা গেল, থিয়েটার পূণ্যভূমি তাদের প্রতিষ্ঠার তিন বছর পূর্তি উৎসবের আয়োজন করেছে। হল রুমের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল পুরো হল ফাঁকা। চার পাঁচজন দর্শক বসে আছেন। মঞ্চে মহড়া করছেন মঞ্চ দলটির কর্মীরা। কথা হয় দলটির একজন সদস্যের সঙ্গে।

তিনি বলেন ‘দুপুর ২টা থেকে আমাদের অনুষ্ঠান শুরু করেছি। তবে মূল অনুষ্ঠান এখনো শুরু হয়নি। অবরোধের কারণে অনেকে আসতে পারছেন না। তাই দর্শক একটু কম। তবে আশা করছি দর্শক বাড়বে।’ দর্শক বাড়ুক হল ভরে উঠুক এমন আশা মনে নিয়ে স্টুডিও থিয়েটার হলে একটু ঢু মারতে গেলাম। সেখানে নাকি ‘বিয়ে বিড়ম্বনা’ চলছে। দেশে এখন কতকিছু নিয়েই বিড়ম্বনা চলছে এর মাঝে আবার বিয়ে নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ানোর কি দরকার ছিলো ভাই? এমন প্রশ্ন শুনে হাসলেন নাটকের দল নাটুকের আল নোমান। তাকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো। কারণ তিনি বুধবার সকাল থেকেই ‘বিয়ে বিড়ম্বনা’ নিয়েই আছেন। মানে তিনি সারাদিন ধরে মহড়া করে যাচ্ছেন নাটকটির। তিনি বলেন ‘তিন মাস পর নাটকটির শো করছি আমরা। হরতাল অবরোধ আর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খারাপের কারণে এতদিন শো করছিলাম না। কিন্তু এখন দেখলাম এভাবে বসে থাকলে তো হবে না। আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে। তাই সাহস নিয়ে নেমে পড়লাম।’

তার সাহসের কথা শুনে দর্শকও নিশ্চয়ই সাহস পাবেন নাটক দেখতে আসার। এবার যাওয়া যাক সুচিত্রা সেন ও উত্তম কুমারের কাছে। লিফটের কাছে আসতেই দেখি এক ভদ্রলোক বেজায় চটে আছেন। তিনি বলছেন, ‘আরে কাল বলে এক কথা আজ এক কথা। কাল দেখলাম লেখা আছে সুচিত্রা সেন উৎসব হবে ফিল্ম আর্কাইভের হলে। তাই এখানে আসলাম। এসে শুনি না ওনারা স্থান পরিবর্তন করেছেন।’ আর কোন কথা বললেন না তিনি। লিফটের পাশে লাগানো সাদা কাগজে চোখ গেল। কাগজটিতে লেখা সুচিত্রা-উত্তম অভিনীত চলচ্চিত্র নিয়ে চলচ্চিত্র উৎসব, জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে। এবার বুঝা গেল বিষয়টা।

মাঠ পেরিয়ে সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের দিকে যেতে যেতে চোখ গেল কফি হাউসের দিকে। কফি হাউসের সেই আড্ডাটা নেই। চেয়ারগুলো একটার উপর একটা রাখা। মাঠে তেমন মানুষ নেই। সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে প্রবেশ করার মুখেই বাঁধা দিলেন একজন যুবক। তিনি বললেন ‘আপনি কি ফরম পূরণ করেছেন।’ আমি বললাম কিসের ফরম, আমি তো ভাই সুচিত্রা সেনের ছবি দেখতে এসেছি।’ যুবকটি বেশ জোর গলায় বললেন ‘হ্যাঁ, ছবি দেখতে হলে ফরম পূরণ করতে হয় জানেন না। ওদিকে গিয়ে ফরম পূরণ করেন।’ আমি বাধ্য ছেলের মত একটা ফরম নিয়ে পূরণ করলাম। সেখানে লিখে দিলাম, নাম, ফোন নম্বর, রক্তের গ্রুপ, এবং পেশা। ফরমের নিচের একটি অংশ পূরণ করতে গিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করলাম ‘ভাই এখানে লেখা আছে আপনি চলচ্চিত্র, নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্র প্রদর্শনী, কোনটি দেখতে পছন্দ করেন। যে কোন একটিতে টিক চিহ্ন দেন।’ তাদের একজন বলল ‘হ্যাঁ, ঠিকই তো আছে যে কোন একটিতে টিক চিহ্ন দেন’। আমি বললাম ভাই আমি তো সবগুলোই পছন্দ করি। তাহলে কি করবো? সবগুলোতে যদি টিক চিহ্ন দেই তাহলে কি খুব অপরাধ হবে? এ অপরাধে কি আমি মহানায়িকার ছবি দেখা থেকে বঞ্চিত হবো? লোকটি তখন বলল ‘সব কয়টায় টিক চিহ্ন দেন আপনার মন চাইলে।’ আমি সবগুলোতে টিক চিহ্ন দিয়ে প্রবেশ করলাম মহানায়িকার ছবি দেখতে। হল রুমে ঢুকে একটু অবাকই হতে হলো। কারণ পুরো হলরুম ভর্তি দর্শক। এই অবরোধ হরতালের সময়েও মানুষ মহানায়িকা সুচিত্রার ছবি দেখতে ছুটে এসেছেন দৃশ্যটা দেখে ভালোই লাগলো।

শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মসিউদ্দিন শাকের যৌথভাবে মঞ্চে ট্রিবিউট টু সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করলেন। দু‘চারটে কথা বলে নেমে গেলেন। আর শুরু হয়ে গেল উৎসবের প্রথম দিনের ছবি ‘শিল্পী’।

এ উৎসব চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় একটি চলচ্চিত্র দেখা যাবে এখানে বিনা টাকায়। তবে একটি ফরম পূরণ করতে হবে কিন্তু। এতে করে আপনি এরপর ঘরে বসেই খবর পাবেন কবে কখন কোন ছবি শিল্পকলায় বিনা টাকায় দেখতে পারবেন সপরিবারে।

ঢালিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে