Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৩-২০১২

রেকর্ড ভাঙা প্রবাসী আয়

আবদুর রহিম হারমাছি


রেকর্ড ভাঙা প্রবাসী আয়
ঢাকা, জানুয়ারি ০২ - অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রবাসীরা ডিসেম্বর মাসে ১১৪ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন।

এর আগে এক মাসে কখনই এ পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে আসেনি। গত বছরের অগাস্ট মাসে আসা ১১০ কোটি ১৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স ছিল এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান রেমিটেন্স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা হলো বিদায়ী বছরের এবং স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স। এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”

তিনি বলেন, “ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমরা নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা তারই প্রতিফলন।”

“আমরা চাই ১০০ শতাংশ রেমিটেন্সই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসুক। আর সে লক্ষেই আমরা কাজ করছি,” যোগ করেন তিনি।

রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষক জায়েদ বখত বলেন, “যে মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিতে সংকট চলছে। তখন এটা একটা ওয়েলকাম ইমপ্র“ভমেন্ট (খুবই ইতিবাচক সূচনা)। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ব্যালান্স অব পেমেন্টে (লেনদেনের ভারসাম্যে) যে সমস্যা চলছে তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।”

তার মতে, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা এখন দেশে তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “অনেক প্রবাসী হয়তো বিদেশে টাকা জমিয়েছিলেন। এখন ডলারের দাম খুব বেশি বাড়ায় তারা তাদের জমানো অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এ কারণে রেমিটেন্স বেশি আসতে পারে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্যাংকগুলো প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ৮২ টাকায়।

গত এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। শুধু ডিসেম্বর মাসেই ডলারের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকার মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬০৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫৫০ কোটি ডলার।

শতকরা হিসেবে এ সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।

২০১০-১১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক্ষত্রে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১ শতাংশের সামান্য বেশি।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১০১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে। অগাস্ট মাসে আসে ১১০ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

সেপ্টেম্বরে আসে ৮৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এসেছে যথাক্রমে ১০৩ কোটি ৯৪ লাখ ও ৯০ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স এসেছে।

২০১০ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে রেমিটেন্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।

সাধারণত দুই ঈদের আগে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে থাকে। কিন্তু সে ধরনের কোনো উৎসব না থাকার পরও ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে।

এদিকে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কিছুটা বেড়েছে। সোমবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯৬৪ কোটি (৯ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন) ডলার।

১৫ দিন আগেও এই রিজার্ভ ৯২০ কোটি ডলারের নেমে এসেছিল।

গভর্নর আতিউর রহমান জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোয় প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিদেশে সব দ্রুতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সমস্যা হলে প্রবাসীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৫ লাখ ডলার।

৩০ বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৩০ লাখ ডলার।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে