Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৯-২০১৪

পহেলা বৈশাখে থাকবে জিরো ডিগ্রি

অনিমেষ আইচ


পহেলা বৈশাখে থাকবে জিরো ডিগ্রি

ঢাকা, ০৯ জানুয়ারি- বন্ধু সোহাগকে বললাম আমার জন্য একটা নাটকের গল্প রেডি কর। তখন সে বলেছিল এখন না আর কিছুদিন যাক। নাটক নয় সিনেমার গল্প লিখব। ওর কথা শুনে আমিও ভাবলাম তাই করা যাবে। এরও বেশ কিছুদিন পর সোহাগ আমাকে একটা গল্পের প্লট (আইডিয়া) দিল। বলছি প্রায় পাঁচ বছর আগের কথা। প্রথমে ভেবেছিলাম প্লট দিয়ে কি হবে? পরে অনেক ভাবনার পর প্লটটাকে নিজের মত করে সাজালাম। হয়ে গেল একটা চিত্রনাট্য। তখন থেকেই শুরু হল শুধু চিত্রনাট্যকে জীবন্ত করে তোলার আয়োজন।

গল্প তো রেডি। এখন দরকার প্রযোজক। অনেক জায়গায় ঘোরাঘুরির পর ঠিক হল দুজন প্রযোজক। আমি ও  আনসারুল আলম লিঙ্কন। যদিও শুটিং শুরুর পর মাহফুজ ভাই আমাদের সাথে প্রযোজনায় আসলেন। ভালোই হলো। এখন প্রযোজনায় আছি আমরা তিনজন। গল্প অনুসারে লোকেশন সিলেকশন এবং অভিনেতা নির্বাচন করতে গিয়ে প্রথমেই মনে হল ৪০ থেকে ৪২ বছর বয়সের একজন দক্ষ অভিনেতা দরকার। ভেবে ভেবে মনে পড়ল অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের মুখ। বিষয়টা তাকে জানাতেই রাজি হয়ে গেলেন। নায়িকা ঠিক করার ব্যাপারটা প্রথমেই মৌসুমী এবং জয়াকে প্রস্তাব দিলাম।

গল্পে মৌসুমীর নেগেটিভ চরিত্র থাকায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু রাজি হলেন জয়া। পরে মৌসুমীর জায়গায় রুহিকে ঠিক করা হল। রুহি যেন এমন একটি প্রস্তাবের জন্যই অনেকদিন অপেক্ষা করেছিলেন। এই তো গেল নায়ক নায়িকার গল্প।

এরপর ছবির বিভিন্ন চরিত্রের জন্য ঠিক হলো ইফতেখার জাইব, মীর রাব্বি, রনন রয়, তারিক আনাম খান, টেলিসামাদসহ আরও অনেকে। চিত্রগ্রাহকের কাজ করছেন নেহাল কোরেশি তার সাথে শিল্প নির্দেশনা করবেন মারুফ ইবনে সাইদ এবং রুপসজ্জায় থাকবেন মোহম্মদ ফারুক। আর পোশাক পরিকল্পনায় থাকবে নাসরিন সরকার টুনটুন।

এই হলো আমার পুরো শুটিং ইউনিট টিম। গত বছরের পহেলা নভেম্বর থেকে শুরু হলো ছবির শুটিং। কি! খুব জানতে ইচ্ছে করছে ছবির নামটা? ছবির নাম তো ঠিক করাই আছে। ঐটা না হয় শেষেই বলি। ততক্ষণে ঘুরে আসি শুটিং স্পট থেকে। শুটিং এর প্রথম স্পটটি ছিল রেলওয়ে হাসপাতালে। এরপর হাতিরঝিলের পাশে একটা আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে। সেখানেই চারপাশে বেড়া দিয়ে বেশকিছুদিন শুটিং করলাম। ঢাকার শুটিং শেষ করে গত ১ ডিসেম্বর চলে গেলাম ধামরাই এবং আরিচাতে। চারদিন শুটিং করা হল সেখানে। তারপর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবির প্রয়োজনে যেখানে যেখানে প্রয়োজন শুটিং করতে থাকলাম।

যেহেতু ছবিতে মাহফুজ ভাইয়ের চরিত্রটি একটা মানসিক রোগীর তাই চরিত্রের প্রয়োজনেই মুখভর্তি দাড়ি রাখলেন। ছবির মহরতের দিন অবশ্য তার এই গেটআপ দেখে সবাই অবাক। শুটিংয়ে মাহফুজ তার অভিনয় কঠোর পরিশ্রম এবং সময় সবকিছু দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছে। তার বিপরীতে অভিনয় করছেন জয়া। তাকে একজন ভারসাম্যহীন মানুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে ছবিতে জয়াকে যে চরিত্রে দেখা যাবে তার এই ধরনের রুপ এর আগে দর্শক দেখেনি। তার অভিনয় দক্ষতা সম্পর্কে তো আর নতুন করে কিছু বলতে হবে না। এই দুইজনের সাথে রুহি ও কাজ করেছে সমান তালে। সব মিলিয়ে পুরো ছবিটাই তৈরি হচ্ছে অ্যাকশন থ্রিলার ধাঁচে। সামনে এগুচ্ছি দুজন ভারসাম্যহীন মানুষের পেছনের এবং সামনের ঘটনা নিয়ে।

পাঠকদের জানিয়ে রাখা ভালো ছবির শুটিং করার সময় এ বছর সবথেকে বড় বাঁধা ছিল দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। দেশের এই অস্থিরতা আমাদেরকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। শুটিংয়ে সিডিউল ঘাপলায় পরতে হয়েছে বার বার। এ করণেই দর্শককে সময়মত ছবিটা উপহার দিতে পারছি না। যাই হোক, আমি সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করতে পছন্দ করি। সবকিছুকে ছাপিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ শুটিংয়ের কাজ শেষ। বাকিটুকুর জন্য যাওয়া দরকার সিঙ্গাপুর। এটাও ছবির প্রয়োজনেই। কিছুদিন পরেই আমার ইউনিটকে নিয়ে পাড়ি জমাবো সিঙ্গাপুরে।

এবার জানাচ্ছি ছবিটির আংশিক কাহিনী সংক্ষেপ। মানসিক হাসপাতালে অনেক রোগীর মধ্যে মাহফুজ আর জয়া দুজন। এদের পাগল হওয়ার পেছনের কারণটা এমন-মাহফুজের স্ত্রী রুহি বিদেশ গিয়ে বসবাস করে আর একটি ছেলের সাথে। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ছোট সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর থেকেই পাগল হয়ে যায় মাহফুজ। আর জয়া গ্রামের প্রভাবশালী এবং অত্যাচারী বাবার মেয়ে। তার হাত থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে চলে আসে ঢাকায়। নানা প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হয়ে আত্মহত্যা করতে গেলে তাকে বাঁচায় মীর রাব্বি।  প্রেম হয় দুজনের। কিন্তু প্রেমের ফাঁদে ফেলে জয়াকে বিক্রি করে দেয় কবি। ধর্ষিত হয় জয়া। অবশেষে তাকে ভর্তি করানো হয় মানসিক হাসপাতালে।

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে এই দুজন মানসিক রোগী। আর এখানেই গল্পের শুরু। সুস্থ হয়েই খুঁজতে থাকে তাদের জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনা মানুষ নামের অমানুষদের। দুজনের মন হয়ে যায় প্রতিশোধ পরায়ণ। এই প্রতিশোধের তীব্রতা যে কত গভীর হতে পারে তা দর্শক দেখতে পারবেন ছবিতে। আমার মনে হয় আপাতত এইটুকু জানলেই পরেরটুকুতে দর্শকের আকর্ষণ থাকবে। এভাবেই এগুতে থাকে ছবি নামক একটি গল্প। নাম তার ‘জিরো ডিগ্রি’।

ছবির নাম জিরো ডিগ্রি হবার কারণটা অবশ্য দর্শক বুঝতে পারবেন গল্পের শেষে। বাস্তবে আমরা সবাই যে শুন্য অবস্থানে আছি এই বিষয়টাই আমার ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সব কিছু ঠিকঠাকভাবে হলে এবং দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকলে আগামী পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র মুক্তির তালিকায় জিরো ডিগ্রি নামের আর একটি ছবি যোগ হবে। দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী এবং যে ধরনের দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা দেখে তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে ছবিটি। আমার শুটিং ইউনিটটিও সেই চেষ্টা করছে। বাকিটা নির্ভর করছে দর্শকের উপর। তবে আমি কিন্তু ছবিটা নিয়ে আশাবাদী।

লেখক : চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক
অনুলিখন : ফেরদৌসী হিমু

ঢালিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে