Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.6/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

অপরাধ- তারা সংখ্যালঘু, তারা ভোট দিয়েছে

অপরাধ- তারা সংখ্যালঘু, তারা ভোট দিয়েছে

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি- সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং নির্যাতন সাম্প্রতীক সময়ে বেশ প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন থেকে তাদের ওপর দমন-পীড়নে আক্রান্ত এলাকাগুলোয় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, তাদের অপরাধ- তারা সংখ্যালঘু এবং তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

রোববার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছু পর থেকেই যশোর, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, লালমনিরহাট, রাজশাহী এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, লুট, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

যশোরের মোলাপাড়া গ্রামের বিশ্বজিৎ সরকার জানান, ‘১৯৭১-এ পাকিস্তান আর্মি ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা আমাদের এলাকায় আগুন দিয়েছিল। আবার এই ২০১৪ সালে এসে আমরা একই পরিস্থিতির শিকার।’

বিশ্বজিৎ সরকারের দোকান লুট এবং তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দূর্বৃত্তরা। বিশ্বজিতের প্রতিবেশী মায়ারানী, যে বাসাবাড়িতে বুয়ার কাজ করে, তার বাড়িতে জামাত-শিবিরের ক্যাডাররা সব লুটে নিয়ে গেছে। মায়ারানী জানান, তার সংরক্ষিত সামান্য চালটুকুও লুটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এখন তার পরনের কাপড় ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই বলে জানান তিনি।

এর আগে প্রেমবাগ, চাঁপাডাঙ্গা, বাহিরঘাট, বেলাডাঙ্গা এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোয় ভোট না দিতে হুমকি দিয়ে যায় জামাত-শিবির ক্যাডাররা বলে অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসী সে হুমকি অগ্রাহ্য করে ভোট দিলে সেদিন সন্ধ্যাতেই চার-পাঁচশ’ জামায়াত কর্মী ঐসব এলাকায় হামলা চালায় বলে জানায় তারা। এসময় দুই শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ এবং প্রায় একশ’ বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।


অভয়নগর
জানা যায়, ১২শ’ থেকে ১৫শ’ গ্রামবাসীর মধ্যে প্রায় ৭শ’ মানুষ হামলার সাথে সাথেই গ্রাম ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাহায্যের জন্য তারা মোবাইল ফোনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, প্রশাসনকে আবেদন জানালেও কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে গ্রাম ত্যাগ করা বেশিরভাগ মানুষ। জীবন বাঁচাতে ভৈরব নদী অতিক্রম করে দেয়াপাড়া গ্রামে আশ্রয় নেয় তারা।

মোলাপাড়া গ্রামের কালীদাসী সরকার জানান, নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়াদের মধ্যে তিনিও একজন। ১৫ দিন বয়সের সন্তানকে নিয়ে ভৈরবে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি জীবন বাঁচাতে। প্রায় ৫০ মিটার প্রশস্ত নদী বাচ্চাকে নিয়ে কীভাবে পার হবেন, তার জানা ছিল না। তিনি শুধু জানতেন, পার হতে হবে।

নদীর অপরপ্রান্তে ৫৫ বছর বয়স্ক সবীতা সরকারসহ অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন ঝাঁপিয়ে পড়া মানুষগুলোকে সাহায্য করতে।

সবীতা সরকার বলেন, ‘নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে মানুষগুলোকে সরষে ক্ষেতের মধ্য দিয়ে দৌড়াতে দেখে আমার ’৭১-এর কথা মনে পড়ে যায়। এভাবে সেসময়ও আমরা প্রানরক্ষা করতে দৌড়েছি।’


দিনাজপুর
এদিকে রোববার নির্বাচনের রাতে যশোরের মনিরামপুরের হিন্দুপাড়ায় সশস্ত্র মুখোশধারীরা শাসিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পৌর শহরের বিজয়রামপুর গ্রামের পালপাড়ার গৌরপাল অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেছে হামলাকারীরা। রামদা উঁচিয়ে চাকরিজীবী ছেলেকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে তারা জানিয়ে যায়, না হলে বোমা মেরে বাড়িঘর উড়িয়ে দেবে।

এর আগের রাতে একই পাড়ার নিতাই পাল ও রতন পাল অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ির বিচালির গাদা ও গোয়াল ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর পর থেকে পালপাড়ার ১৩ পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এত কিছুর পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিকার থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছে এই এলাকার মানুষ। তারা অভিযোগ করে, খবর দিলেও সময়মত আসছে না আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অন্যদিকে নৌকা প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় যশোর-২ আসনের (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের শ্রীকান্ত ঘোষ, পানিসারা গ্রামের চান্দুসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে গোপালপুর গ্রামের প্রায় পাঁচশ’ পরিবার প্রান ভয়ে আশ্রয় নিয়েছে নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ চেতনা সোসাইটির মন্দিরে।

অপরদিকে দিনাজপুরে প্রীতমপুর, সাহাপাড়া, প্রফুল্লপাড়া, তেলিপাড়া, মাধবপাড়া ও অজয়পাড়া গ্রামের প্রায় ৩৫০ টি বাড়ি ও ৫০টি দোকান লুট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ঠাকুরগাঁও
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত-শিবিরের প্রায় ২০০০ স্বশস্ত্র ক্যাডার কার্নাই গ্রামে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে হামলা চালায়।

চট্টগ্রামে রোববার রাতে সাতকানিয়া, লোহাগড়া এবং বাঁশখালি উপজেলায় হিন্দু পরিবারগুলোকে হুমকি-ধামকি দেয় জামায়াত-শিবির বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে, লোহাগড়ায় বেশ কয়েকটি হিন্দু মালিকানাধীন দোকানে লুট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এসময় দুর্বৃত্তরা নিকটবর্তী মন্দিরেও নাশকতা চালানর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়দের বাধার মুখে তা করতে পারেনি।

এদিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা এবং বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, রোববার রাতে মাগুরায় বাটাজোড় গ্রামের নৃপেন্দ্রনাথ নামে এক কৃষকের পানের বরজ পুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় এক একর জমির পান ও প্রায় একশ’ মেহগনি গাছ পুড়ে যায়। নৃপেন্দ্রনাথ সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ নির্বাচনে ভোট না দেয়ার জন্য স্থানীয় একটি মহল এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে তারা ভোট দেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পানের বরজে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে