Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

ছবির মানুষ তাসলিমা আখতার

তৌহিদা শিরোপা


ছবির মানুষ তাসলিমা আখতার

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- টাইম এ প্রকাশিত ছবিটি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার কাজের সময় তোলেন তাসলিমা আখতার। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দুজন নারী-পুরুষ পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে আছেন। টাইম এই ছবির শিরোনাম দিয়েছে ‘শেষ আলিঙ্গন’। বিশ্বের প্রভাবশালী ম্যাগাজিনে নিজের ছবি ছাপা হয়েছে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন? এর উত্তরে তাসলিমা বলেন, ‘রানা প্লাজা আমার জন্য তাড়া করে বেড়ানো ভীষণ পীড়াদায়ক অনুভূতির নাম, একই সঙ্গে এই ভয়াবহতা আমাকে নতুন করে সাহসী করেছে, শক্তি দিয়েছে। শক্তি জুগিয়েছে এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। ২৫ এপ্রিল রাত দুইটার দিকে আমার সংগঠনের বন্ধুদের সঙ্গে রানা প্লাজার পেছনের দিকে যাই। তিনতলা কি চারতলা হবে। দেখলাম চারপাশে এখানে-সেখানে লাশ আর লাশ, মাঝখানে দুজন মানুষ (নারী-পুরুষ) পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে আছে। তাদের শরীরের নিচের অংশ ভবনধসের নিচে পড়ে আছে। আমি মাত্র মিনিট দুইয়ের মধ্যে কয়েকটা ছবি তুলেই নেমে গেলাম। কিন্তু কিছুতেই ওই দৃশ্য মাথা থেকে দূর করতে পারছিলাম না। দুই-তিন দিন পরে ফেসবুকে ছবিটি আপলোড করি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধি যোগাযোগ করেন ছবিটি ব্যবহারের জন্য। অনেক শেয়ারও হয়।

তখন টাইমও যোগাযোগ করে। আমি মনে করি, এই ছবি সবার সামনে শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবেশে কাজ-এর প্রশ্নসহ তাদের নানা অধিকারের কথা নিয়ে আসবে।’

ছোটবেলা থেকে ছবি তোলার শখ ছিল। মেয়ের শখ দেখে বাবাই প্রথম একটা কমপ্যাক্ট ক্যামেরা কিনে দেন। টুকটাক ছবি তুলতেন কলেজে পড়ার সময়ই। এরপর কলেজ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হলেন। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা থেকেই যুক্ত হলেন বাম রাজনীতিতে। মনে করলেন, যে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জীবনের স্বাদ তিনি চান, তা একমাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হলেই পাবেন। মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। তাই বামপন্থী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে যুক্ত হলেন। কাজের ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হন। পরে নারী সংগঠন ও ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও জড়িত হন। এত কিছুর মধ্যেও তাঁর ছবি তোলার শখ ছিলই। শখের আলোকচিত্রী হয়ে উঠলেন ফ্রিল্যান্সার আলোকচিত্রী। তাঁর তোলা ছবি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ম্যাগাজিন টাইম-এর ২০১৩ সালের দ্য ইয়ার ইন পিকচার্স শিরোনামে আলোচিত ১০টি ছবির মধ্যে প্রথম স্থান পেয়েছে। এই আলোকচিত্রী বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সমন্বয়কারী ও বিপ্লবী নারী সংহতির যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন।তাসলিমার ছবি টাইম ম্যাগাজিনে

২০০৭ সালের শেষভাগ। দেশে রাজনীতিতে অস্থিরতা। এমন সময় তাসলিমা ভাবলেন, এখন মিছিল-মিটিংয়ের কাজ চাইলেও করা যাবে না। তাই সময়টা কাজে লাগাতে আর নিজের আগ্রহের বিষয় ফটোগ্রাফি শিখতে ভর্তি হয়ে গেলেন পাঠশালায়। করলেন গ্র্যাজুয়েশন। এর আগে অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিলও করেন তিনি। বর্তমানে তাসলিমা পাঠশালার একজন শিক্ষকও।

রাজনৈতিক কর্মী ও আলোকচিত্রী, দুটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের কাজ কীভাবে এক সূত্রে ফেললেন? উত্তরে তাসলিমা আখতার বলেন, ‘আমার কাছে আমার ছবি তোলা আমার রাজনৈতিক কাজেরই অংশ। আমার চিন্তা, আমার প্রতিবাদ
ছবির ভাষায় পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করুক, সেই চেষ্টাই আমি করি। আলোকচিত্র সাংবাদিকতার ছাত্র হিসেবে আমি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জীবন এবং সংগ্রাম নিয়ে কাজ করছি তাও প্রায় ছয় বছর পার হলো। এর পাশাপাশি লালন সাধকদের জীবন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন নিয়ে ছবি তুলেছি। এ ছাড়া ভারতের নন্দীগ্রামের পরবর্তী অবস্থা নিয়ে ২০১২ সালে কাজ করেছি।

২০১১ তে ম্যাগনাম ফাউন্ডেশন এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বৃত্তি পেয়ে নিউইয়র্কে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ফটোগ্রাফি কোর্স করার সময় “সিঙ্গেল মাদার” নামের একটি ফটো স্টোরি করি।’ নানা রকম সামাজিক বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

তাসলিমা আখতার পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার। চীনে পঞ্চম ডালি আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে পেয়েছেন সেরা আলোকচিত্রীর পুরস্কার। এ ছাড়া তাঁর অর্জনের ঝুলিতে আছে জুলিয়া মার্গারেট ক্যামেরন পুরস্কার।

 

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে