Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের উদ্যোগ

রোজিনা ইসলাম ও মোশতাক আহমেদ


সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের উদ্যোগ

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন অথবা এ-সংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশেরকয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যে হামলা হয়েছে, তা নিয়ে সরকার শঙ্কিত। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির ভোট শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি তৈরি করেছে।

সাংসদ অপু উকিল এ বিষয়ে গত ৮ ডিসেম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এরপর তাগিদ দিয়ে ২ জানুয়ারি আবার চিঠি দেন তিনি। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচার করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা থেকে ওই নোটিশের ব্যাখ্যাও পাঠানো হচ্ছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, রামুসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি লুট ও সম্পত্তি দখলের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কার্যক্রম নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা শফিক আহমেদ গতকাল বলেন, প্রস্তাবটি পেলে বিবেচনা করা হবে। তবে হামলাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যেতে পারে। এ ছাড়া নিপীড়নকারীদের দমনে একটি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে।

এদিকে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার কর্মকর্তারা সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রসচিবকে অবহিত করেন। স্বরাষ্ট্রসচিব দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর অনেকগুলো হামলা হয়। বর্তমান আমলেও একই ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু দায়ী ব্যক্তিরা কেউ শাস্তি পাচ্ছে না। ২০০১ সালের ঘটনায় বেশ কিছু মামলা হয়েছিল।

পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা যেভাবে ঘটছে, তার তুলনায় মামলার সংখ্যা নগণ্য। এমন ঘটনাও আছে যে পুলিশ কোনো হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গেলেও কেউ অভিযোগ করতে চান না। মামলা করে আরও রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় অনেকে মামলা করতে চান না।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতা বলেন, নির্বাচনের পরে এমন অবস্থা যে হবে, তা নিয়ে তাঁরা আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, ২০০১ সালের ঘটনায় হামলাকারীদের শাস্তির বিধান করা তো দূরের কথা, সবার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মামলাই করা যায়নি। বর্তমান সরকার ওই ঘটনায় দেশের ১২টি জেলায় মোট ৩৭টি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে ১১টিতে সব আসামি খালাস পেয়েছেন। নয়টি বিচারাধীন। আরও ছয়টি ঘটনা তদন্তের পর্যায়ে আছে। আরেকটি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে।

সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলার বিষয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ গত রাতে বিবিসিকে বলেন, সারা পৃথিবীতে যেকোনো জায়গায় কোনো মসজিদে একটি ঢিল পড়লেও বাংলাদেশের মন্দিরে আগুন লাগে। আগুন লাগায় জামায়াত। কিন্তু লুটের সময় বড় রাজনৈতিক দলের লোকেরাও তার মধ্যে থাকে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে