Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

ফাঁকা মাঠ পেয়েও গোল দিতে পারেননি ১২ জন

ফাঁকা মাঠ পেয়েও গোল দিতে পারেননি ১২ জন

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- প্রধান বিরোধী দলবিহীন একতরফা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের আলোচিত ১২ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। বাকিরাও বর্তমান সংসদ সদস্য।

পরাজিত প্রভাবশালী তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ। তিনি দলীয় সভানেত্রীর খুবই আস্থাভাজন বলে দলে আলোচনা আছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার পরাজিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা দুজনই বর্তমান সাংসদ। এ দুটি দুটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের এসব পরাজিত প্রার্থী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি, দলীয় কোন্দল, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা, দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, আত্মীয়-স্বজনকে প্রাধান্য দেওয়া প্রভৃতি কারণে একদলীয় নির্বাচনেও তাঁরা জয়লাভ করতে পারেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দুই প্রতিমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী তিন প্রার্থীর পরাজয়ে দলের শীর্ষ পর্যায় হতবাক হয়েছে। কেন এই তিন প্রার্থী নির্বাচনে হারলেন তা নিয়ে দলের নানা পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

৩০০ আসনের মধ্যে আটটি আসনের ফলাফল স্থগিত আছে। বাকি ২৯২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩২, জাতীয় পার্টি ৩৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়, জাসদ পাঁচ, জাতীয় পার্টি (জেপি) এক, তরীকত ফেডারেশন এক, বিএনএফ এক এবং স্বতন্ত্র ১৩ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ ফরিদপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন চৌধুরী) কাছে পরাজিত হয়েছেন। নিক্সনের আনারস প্রতীকের কাছে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় জাফর উল্ল্যাহর নৌকা।

গত নির্বাচনে এ আসনে জাফর উল্যাহর স্ত্রী সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে কথিত এ আসনে বিপুল ভোটে পরাজিত হলেন দলের এই নীতিনির্ধারক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনী এলাকায় দুটি জনসভা করেন। তার পরও কাজী জাফর উল্যাহর পরাজয় ঠেকানো যায়নি।

পার্বত্য চট্ট্রগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি আসন থেকে জনসংহতি সমিতির ঊষাতন তালুকদারের কাছে পরাজিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের শক্তঘাঁটি এ আসন থেকে তিনি একাধিকবার বিজয়ী হয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীপঙ্কর তালুকদারের পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা কাজ করেননি। ক্ষমতার পাঁচ বছরে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। তা ছাড়া আদিবাসবীরাও তাঁকে ভোট দেননি।

ঢাকা-১ আসনে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের কাছে পরাজিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় একটা অংশ নির্বাচনে তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকরাম হোসেন চৌধুরী পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছলিম উদ্দীন তরফদারের কাছে। নবম সংসদের নির্বাচিত আকরামের নৌকার চেয়ে তরফদারের কলস মার্কা প্রায় ২৭ হাজার বেশি ভোট পেয়েছে। অথচ গত নির্বাচনে আকরাম এক লাখ ৭৬ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

মাত্র দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের মকবুল হোসেন। সেই পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলেছেন তিনি এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ খালেককে পরাজিত করে। ফুটবল মার্কা নিয়ে ১০ হাজারের বেশি ভোটে নৌকাকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কুষ্টিয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফাজউদ্দীন প্রায় ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল হক চৌধুরীর কাছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আফাজউদ্দীন এ আস থেকে নৌকা মার্কা নিয়ে পেয়েছিলেন প্রায় দেড় লাখ ভোট। এবার তিনি কোনোমতে ৫২ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজীব আলম সিদ্দিকী ঝিনাইদহ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সফিকুল ইসলামকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীককে হারিয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে। পরাজিত প্রার্থী সফিকুল গতবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন।

পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজীর কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। ঢাকা-৭ আসনে মো. সেলিম দলীয় প্রতীক না পেয়ে হাতি মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় প্রার্থী মোস্তাফ জালাল মহিউদ্দিনকে তিনি প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ভোট পেয়েছিলেন, তার চেয়ে এবার প্রায় এক লাখ ভোট কম পেয়েছেন।

নরসিংদী-৩ আসনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল হক ভূঞা স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সিরাজুল ইসলামের কাছে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

কুমিল্লা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্ল্লাহ হারুনের কাছে পরাজিত হয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আহসানুল আলম কিশোর।

গাইবান্ধা-৪ আসনে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। আনারস প্রতীক নিয়ে নবম সংসদে নির্বাচিত সাংসদ মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নৌকা প্রতীক থেকে তিনি প্রায় ৬০ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনের কাছে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির মহিবুল কাদির চৌধুরী। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াছিন আলীর কাছে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ হাফিজউদ্দিন আহমেদ। বরিশাল-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতানের কাছে পরাজিত হয়েছেন বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। এসব আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী ছিল না। আসন ভাগাভাগি করে এ আসনগুলো জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল।

নীলফামারী-১ আসনে আওয়ামী লীগের আফতাব উদ্দিন সরকার বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সাংসদ জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। নীলফামারী-৩ আসনেও আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফার কাছে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের। তিনিও নবম জাতীয় সংসদের সদস্য।
পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মজহারুল হক প্রধানকে পরাজিত করে জাসদের নাজমুল হক প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে