Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

'যে কারণে ভোট পড়েনি ৪২ কেন্দ্রে'

রফিক মৃধা


'যে কারণে ভোট পড়েনি ৪২ কেন্দ্রে'

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- সারাদেশের অনেক ভোটকেন্দ্রে নগণ্য সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি অনেকটাই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। বিশেষ করে ৪২টি ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা কোথায় গেলেন তারা কেন ভোট দিতে আসেননি।

জাতীয় পার্টির সাথে অর্ধশত আসনে সমঝোতা, দলীয় অন্তর্কোন্দল, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে নেতাকর্মীদের প্রতি চরম অবমূল্যায়ন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত দলীয় এমপির প্রতি অনাস্থা এবং বিরোধী দলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সহিংস আন্দোলন ইত্যাদি কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেও অনেকে ভোটকেন্দ্র মুখি হননি।

গতকাল রোববার ভোট গ্রহণকালে দেখা গেছে, ভোটের সব আয়োজন থাকা সত্ত্বেও সারাদেশের সাতটি সংসদীয় আসনের কমপক্ষে ৪২টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। আবার একেবারে শূন্য না হলেও অনেক কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ১ থেকে ৩টি।

এর মধ্যে লালমনিরহাট-৩ আসনে শূন্য ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আসনটির ৮৯টি কেন্দ্রের ২৬টিতে একটি ভোটও পড়েনি। সদর উপজেলার বড়বাড়ী ও মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের সাতটি করে কেন্দ্র এবং কুলাঘাট ও পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে ছয়টি করে কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এই ২৬টি কেন্দ্রের প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের কেউ ভোট দিতে যাননি। সহিংসতায় স্থগিত হয়ে গেছে আরো ৪টি কেন্দ্র। নিজ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই করে পুড়িয়েছে নির্বাচন বর্জনকারীরা।

জিএম কাদের নির্বাচনের মাঠে না থাকায় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ না থাকার কারণেই আসনটির রেকর্ডসংখ্যক ২৬টি কেন্দ্রে কোনো ভোটার উপস্থিত হননি বলে মনে করা হচ্ছে।

বলা হয়ে থাকে, সারাদেশের জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন গড়ে ৩৮-৪০ শতাংশের মতো। গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনেও দলটির প্রতি দেশের মানুষের এমন সমর্থনই প্রতিফলিত হয়েছে। সর্বশেষ চারটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোট ৪৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ম্যান্ডেট পেয়েছিল তারা। ২০০১ সালের নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরে গেলেও তাদের প্রতি ৪০ দশমিক ২১ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করা দলটির প্রতি ভোটারদের সমর্থন ছিল ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এ অবস্থায় গতকালের নির্বাচনে ৪২টি কেন্দ্র ভোটারশূন্য থাকায় আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক এই ভোটাররাই বা কোথায় গেলেন এমন প্রশ্নই সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।

এবার জাতীয় পার্টির সঙ্গে ৪৮টি আসনে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হওয়ায় ওই সব আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা সরে গেছেন। এ অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচন নিয়ে নিঃস্পৃহ অবস্থানে ছিলেন, যার প্রতিফলন হিসেবে কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটই পড়েনি।

সিলেট-২ আসনের বিশ্বনাথ উপজেলার রামদানা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সারাদিনে একটি ভোটও পড়েনি। এ কেন্দ্রটি বিএনপির ‘নিখোঁজ’ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর জন্মস্থান। এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৯১০টি।

ভোটার উপস্থিতি কম ছিল জামায়াত-অধ্যুষিত সাতক্ষীরা-১ ও ২-এর ভোট কেন্দ্র গুলোতে। দুটি আসনে ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ দুই আসনের ২৭৭ কেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্র আবার ভোটশূন্য ছিল। সদর উপজেলার গোদাঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৮৫ ভোটের একটি ভোটও পড়েনি। আগরদাড়ি আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রও ছিল ভোটারশূন্য। আগরদাড়ি মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রেও কোনো ভোট পড়েনি। শিয়ালডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র একটি।

জামালপুর-৪ আসনের সরিষাবাড়ি উপজেলার আরামনগর বাজার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরসরিষাবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুয়া বাঘমারা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বলারদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এ চারটি কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৮৬।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একজন ভোটারও ভোট দিতে আসেননি। তাই শূন্য ভোটবাক্স উপজেলা সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

রাজশাহী-৬ আসনের মারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রও ছিল ভোটশূন্য। ২ হাজার ৭৯৭ ভোটারের একজনও আসেননি। কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও ছিলেন না। বগুড়া-৭ আসনের মালিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২ হাজার ১৫৯ ভোটারের কেউ ভোট দিতে আসেননি। একই আসনের রামচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র তিনটি।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর ও পুরন্দপুর ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি।

বজরাপুর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুস সালাম জানান, ২ হাজার ৫৪২ ভোটারের কেউ ভোট দেননি। শূন্য ব্যালট বাক্স সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া-বেড়া ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। রওশনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২ হাজার ৩৩৮ ভোটারের কেউ ভোট দেননি। ভোট পড়েনি পাশের কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। প্রিজাইডিং অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফেনী-২ আসনের সোনাগাজী উপজেলার চরকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৬৩২ ভোট ও মাদ্রাসা কেন্দ্রের ২ হাজার ৩৮০ ভোটারের কেউ ভোট দেননি। কক্সবাজার-৪ আসনে উখিয়ার হরিণমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৯৫ ভোটারের কেউ ভোট দেননি।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে