Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (147 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

এ সরকার পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করতে পারবে!

এ সরকার পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করতে পারবে!

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- সরকারি দল বলছে সংবিধান রক্ষার জন্যই ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদল বলছে এটি প্রহসনের নির্বাচন। বর্তমান দ্বিধাদ্বন্দ্ব পরিস্থিতিতে এ সরকার আগামী ৫বছর দেশ পরিচালনা করতে পারবে!

৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে বিরোধীদল প্রতিহত করার জন্য ১৮ দলীয় জোট প্রথম থেকেই আহ্বান করে আসছিল। একদম শেষ মুহূর্তে এসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে মিডিয়া বার্তার মাধ্যমে দশম সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য শেষ ডাক দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের স্ব-উদ্যোগে নির্বাচন কেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু কেন্দ্রের নির্বাচন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এরকম কেন্দ্রের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকশ, যেখানে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৮ হাজারেরও বেশি।

শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। যদিও নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এরকম চিত্র দেখা গিয়েছিল। যদিও ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশনের ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত করতে পারেনি।

কিন্তু ১৯৮৮-এর নির্বাচনে স্বৈরাচার এরশাদ প্রায় তিন বছর ক্ষমতায় থাকতে ছলেবলে কৌশলে সমর্থ হয়েছিলেন। একই সূত্র ধরে বলা যায়, যেহেতু বর্তমানে ক্ষমতাসীনরা বাংলাদেশের ক্ষমতার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সরকার হিসেবে ক্ষমতাসীন, তাই তারা হেসে-খেলেই আগামী পাঁচ বছর পার করে দিতে পারবেন। এ সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গত পাঁচ বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনের নামে ১৮ দলীয় ঐক্যজোটকে জনবিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে যে নির্বাচন হলো সে নির্বাচনকে প্রহসন বলা অনেক কম বলা হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে এ প্রহসনিক নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার অন্য কোনো বিকল্প এ মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। বাংলাদেশ সংবিধান নির্বাচনকে সরকার পরিবর্তনের জন্য আবশ্যিক করেছে। কিন্তু নির্বাচনের পদ্ধতি এবং ধরণ কি হবে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনবোধ করেনি।

পাঁচ জানুয়ারি যথাযথই নির্বাচন হয়ে গেছে। এ নির্বাচনে কোথাও কোথাও সহিংসতা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হয়তো আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে বর্তমান নির্বাচনে কোনো নতুনত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে এখানে যে অভিনব নতুনত্ব আছে তা হলো ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসন সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের আগেই জয়ী হয়ে যাওয়া। সেই সঙ্গে যোগ হচ্ছে বাকি ১৪৭টি আসনে একই দলের সদস্যদের মধ্যে তথাকথিত নির্বাচনী প্রতিযোগিতা। হয়তো কয়েকটি আসনে একই দলের বিরোধীরাও জয়লাভ করে কিছুটা চমক দেখাতে পারেন। কিন্তু তাতে নির্বাচনের ফলাফলের তেমন কোনো হেরফের হবে না। সেই সঙ্গে যেখানে নির্বাচন হয়েছে সেখানে কম ভোট পড়া ও নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

নির্বাচনের মাধ্যমে দলের সভাপতি বা চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার দলের গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রধানই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের সভাপতি বা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে দল চালাতে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে বলেও দৃশ্যমান নয়। দলের সদস্য তো দূরের কথা খোদ জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন দেখা দেয়নি। ওইসব পদের সভাপতি বা নেতা নির্বাচনে যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কোনো বাধা বা সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সমস্যা বা জটিলতা থাকারও কোনো যুক্তি নেই।

আওয়ামী বিরোধীদের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনাটি হলো আওয়ামী লীগের জন্য কোনো বিরোধীদল লাগে না। তাদের পতনের জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট। ইতিহাসে এর অনেক প্রমাণ রয়েছে।

অন্যদিকে গত পাঁচ বছরের বিএনপির রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে এটি খুবই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যে, তারা ওই সময়ের মধ্যে জনমত সৃষ্টি তো দূরের কথা তাদের নিজের দলকেও গুছিয়ে আনতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের মহাসচিব নিয়োগেও তারা চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা গত পাঁচ বছর জাতীয় প্রেসক্লাব ভিত্তিক রাজনীতি তথা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে যে রাজনীতি চালিয়ে আসছে সে রাজনীতিতে সুবিধাবাদী পকেট নেতা তৈরি করা গেলেও জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধাভাজন রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী তৈরি করা যে যায়নি তা চরমভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

১৯৯০ সালের মাঝামাঝি ‘পুশইন’ নামক তৎকালীন নতুন একটি সমস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সরাসরি বিরোধিতার ফলে এরশাদ ছয় মাসের মাথায় জনগণের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এরশাদের পতনের মূল শক্তি ছিল তৎকালীন ছাত্রসমাজ বা নতুন প্রজন্ম।

শেখ হাসিনা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দল ও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন,  আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করেই সমাধান করা যাবে। সে জন্য ধৈর্য ধরতে হবে, সহনশীল হতে হবে এবং সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলেছি, আগামী নির্বাচন। আগামী যখনই আসবে, নির্বাচন হবে। ওনার অবস্থাটা কি দাঁড়াল উনি তো একূল-ওকূল দুকূল হারিয়ে বসে আছেন। তার পরও আমরা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তবে এটা নির্ভর করে বিএনপির নেত্রীর ওপর।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি ভালো আছেন। গলফ খেলছেন। অসুস্থ হয়েছেন, চিকিৎসা চলছে।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, ৫ জানুয়ারি ভোটারবর্জিত একতরফা কারসাজিকে জনগণ ঘৃণাভরে বর্জন করেছেন। অবিলম্বে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন বাতিল, সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সমঝোতায়  আসুন।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, সন্ত্রাসের পথে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার অপচেষ্টায় শেষরক্ষা হবে না, বরং তাতে সংকট আরও জটিল ও গভীর এবং সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে।’ তিনি বলেন, বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এই ‘অবৈধ সরকার’ দীর্ঘায়িত হবে না।

কেন্দ্র থেকে যখন যে কর্মসূচি ঘোষণা হবে, তা পালন এবং স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ও সমন্বয় করে আন্দোলন চালানোর জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তি বিশেষের ক্ষমতার উৎকট বাসনা আর সীমাহীন উৎপীড়ন বেশি দিন চলতে পারে না।

তারেকের ঘোষণা বলেন, ‘আমাদের সবার মূল লক্ষ্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করে গণতন্ত্রকামী মানুষের চেতনার প্রতিফলন ঘটানো। সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত সর্বাত্মক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’ তারেক রহমান দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজ নিজ এলাকায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী ‘অবৈধ সরকারের’ সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান ।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নয়। ৩০০ আসনের ১৫৩টিতে বিনা ভোটে প্রতিনিধি করা হয়েছে। এটা একেবারে অবৈধ। কারণ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাল ভোট থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যা নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার জন্য করা হয়নি।

দেশ আবার হেনরি কিসিঞ্জারের সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দিকেই যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। সঙ্কট উৎরাতে হলে পদক্ষেপ সরকারকেই নিতে হবে, সরকার প্রধানকেই নিতে হবে।

বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, যারা কট্টর আওয়ামী লীগ সমর্থক এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্যাপক জনসমর্থন ছাড়া আজকালের দিনে দেশ পরিচালনা খুবই দুরূহ। এটা নিশ্চিত যে, নতুন যে সরকার গঠিত হবে তারা উন্নয়ন কার্যক্রমসহ দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রেই অতীতের সরকারের মতো সাফল্য আনতে পারবে না এবং এর ফলে আমাদের উন্নয়নের হার কমে যাবে, আশঙ্কা করি, দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ সব মিলিয়ে আমরা একটা দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটে পড়ে গেলাম।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা যেটা দেখেছি, এটা কোনোভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন হতে পারে না। পাঁচ বছর ধরে মানুষ ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকে। তারা অপেক্ষায় ছিলেন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য। কিন্তু দেশের ৯ কোটি ভোটারের মধ্যে সাত কোটি ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এ নির্বাচন নিয়ে অনেক সিরিয়াস ও মৌলিক প্রশ্ন দেখা দেবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায়ও আমি সন্তুষ্ট নই। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ১১১টি ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাহলে তাদের প্লান কী ছিল। ৬৪টি ভোটকেন্দ্রে একটিও ভোট পড়ল না। অথচ ওই সব ভোটকেন্দ্রের সব কিছু ঠিক ছিল। এটা কিভাবে সম্ভব।

দুপুর ১২টার সময় অনেক প্রার্থী প্রার্থিতা তুলে নিয়েছে। অভিযোগ করেছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। মনে রাখতে হবে এটা শেষ নির্বাচন নয়, এর পরও নির্বাচন থাকবে এবং অন্য নির্বাচন কমিশনও দায়িত্ব পালন করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরাও ছবিতে দেখেছি একজন প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই ভোট দিচ্ছে।

সুজনের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা বৈধ নির্বাচন কি না তা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। যে নির্বাচন হলো তা কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন বলা যাবে না। আমরা যে তথ্য পেয়েছি এটা মানসম্মত নির্বাচন হয়নি। এটা একটা নামসর্বস্ব নির্বাচন হয়েছে।

একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটা ধাপ এই কাগুজে নির্বাচন : সুপ্রিম কোর্ট বার

রোববারের নির্বাচনকে কাগুজে নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, রোববার হয়েছে কাগুজে ও ভোটারবিহীন নির্বাচন। ভোট পড়েছে কি পড়েনি- এটা আপনারা সবাই দেখেছেন। পরে সরকার এই কাগুজে ভোটের ফল ঘোষণা করেছে। দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা একটি মহলের রয়েছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনার একটি ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সামনের পথ অনেক দুর্গম। আমাদের অবশ্যই দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষার জন্য অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে। হাসিনার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীদের আন্দোলন চলবে।

তিনি আরো বলেন, একটি টিভি চ্যানেলে উপস্থিত থেকে আমি দেখেছি ফেনীর একটি ভোটকেন্দ্রে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫০ ভোট পড়েছে। আর এক ঘণ্টার মধ্যে বিকেল ৪টায় দেখা গেছে সেখানে ১৩০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। অর্থাৎ এক ঘণ্টায় প্রায় ১১০০ ভোট কাস্ট হয়েছে।

বিএনপি যত তাড়াতাড়ি দলকে সংগঠিত করে জনমত তৈরি করা সম্ভব হবে তত দ্রুতই ভোটারবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচিত শক্তিকে বিদায় করা সম্ভব হবে। কোনো অভ্যন্তরীণ বা বহিঃশক্তির ষড়যন্ত্র বা দৈবদুর্বিপাকে ৫ জানুয়ারি-উত্তর সরকারের পতন বা ধ্বংস কামনা করলে তা হবে দিবাস্বপ্নের নামান্তর। এখন দেখার বিষয়  সংবিধান রক্ষা আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সরকার কতদিন দেশ পরিচালনা করতে পারে।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে