Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১৪

নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়া নাকে স্কুলের পোড়া গন্ধ!

মাহমুদ মেনন


নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়া নাকে স্কুলের পোড়া গন্ধ!

ঢাকা, ০৭ জানুয়ারি- বছর শুরু। হাতে নতুন বই। স্কুলে যাবে শিশুরা। কিন্তু কিভাবে যাবে? স্কুলঘর যে পুড়েছে ভোটে!

স্কুলঘর ছাত্র-ছাত্রীর খুব প্রিয় একটি স্থান। কালবৈশাখী ঝড়ে যখন স্কুলের টিনের চাল উড়ে যায়, বা খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে, তখন সেই ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে শিশুর কান্নাভেজা চোখ কল্পনায় ভেসে ওঠে। গ্রাম-গঞ্জে যাদের বাস ছিলো কিংবা আছে তারা নিশ্চয়ই এমন ঘটনা অনেক দেখেছেন। তারা এও দেখেছেন ঝড়ের পর স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই লেগে পড়ে কাজে। সবাই মিলে ঠিকঠাক করে নেয় স্কুলঘর। আবার তাতে বসে ক্লাস। পড়া হয় সুর করে ছড়া-কবিতা-নামতা। প্রকৃতির সঙ্গে অভিমান করা শিশুরা আবার হাসে, খেলে স্কুলের আঙ্গিনায়।
কিন্তু এবার তাদের স্কুলগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্কুলের আসবাব বলতে শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ, শিক্ষকের টেবিল-চেয়ার এটুকুই। কিন্তু সেটুকুই পুড়ে কয়লা।
এরই মধ্যে বই উৎসব করে শিশুরদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়েছে। আনকোরা বইয়ের গন্ধ নেওয়া শেষ, এবার ছিলো পড়া শুরু করার পালা। কিন্তু বছরের শুরুতে নতুন বই হাতে নতুন ক্লাশে গিয়ে বসার আনন্দ বঞ্চিত হলো দেশের কোটি কোটি স্কুলছাত্র-ছাত্রী।

বছরের সাতটি দিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে একদিনও খোলেনি স্কুল। রোববার নির্বাচনের জন্য বন্ধ ছিলো স্কুল-কলেজ। সোমবার থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু। আর অনির্দিষ্টকালের অবরোধতো চলছেই। যা শুরু হয় বছরের প্রথম দিনটি থেকেই। তবে হরতাল-অবরোধ শেষ হলে হয়তো খুলবে স্কুল। কিন্তু ক্লাশ শুরু করা সম্ভব হবে কি দেশের শতাধিক স্কুলে? যেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন রোববারের নির্বাচনে ৪৩৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পেছনের কারণ ছিলো কেন্দ্রে আগুন। আর কেন্দ্রগুলোরও অধিকাংশই ছিলো স্কুলঘর।   

ভোট ঠেকানোর নামে পোড়ানো হয় এই স্কুলগুলো। কোথাও গভীর রাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্কুলে। আবার কোথাও প্রকাশ্য দিবালোকে। আর কোনো স্কুলে পুড়েছে আসবাবপত্র, কোনোটির দরজা, জানালা। পেট্রোল বোমা মেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ডজন খানেক স্কুল।

তথ্যে দেখা গেছে পুড়ে যাওয়া স্কুলগুলোর অধিকাংশই প্রাথমিক বিদ্যালয়। খবরে, ছবিতে দেখা গেছে রাত পোহাতেই এসব স্কুলে ছুটে গেছে শিশুরা।  

বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে সবচেয়ে বড় শিকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এর আগেই কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পিএসসি-এবতেদায়ী ও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা দারুণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। হরতাল অবরোধে বার বার পিছিয়ে যাওয়া পরীক্ষা শেষ করে কোনোমতে। তবে দারুণ ফল করে জবাব দেয় অদম্য শিশুরা।

বছরের শেষে সারাদেশে কয়েক কোটি শিশুর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতে লেগে গেছে গোটা ডিসেম্বর মাস। আর এ কারণে বছরের এই শেষভাগে শিশুদের গ্রামের বাড়িতে কিংবা এখানে-সেখানে বেড়াতে যাওয়ার মজাটুকু মাটি হয়েছে।

বছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের গন্ধ শুকে তারা ভুলেছে সেই কষ্ট। কিন্তু তারপরেও রেহাই পেলো না শিশুরা। এবার পোড়ানো হলো তাদের স্কুলঘর। তাদের নাকে এখন স্কুলের পোড়া গন্ধ।

স্কুলগুলো যারা পুড়িয়েছে তারা ভোট বিরোধী শক্তি। ভোট বিরোধীদের একটি অংশ জামায়াত-শিবির। যে দলটি দেশের স্বাধীনতাবিরোধী। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররাও এমন স্কুল কলেজ ধ্বংস করেছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারলেই জাতিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে এমন নীতি নিয়েছিলো পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। তাদেরই দোসর হিসেবে সেসময় সক্রিয় ছিলো ‍জামায়াত। শিক্ষাঙ্গনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার এই নীতি জামায়াতের পক্ষে বাস্তবায়ন করা খুবই সাবলীল কাজ।

আর এই দলটির সঙ্গে জোট বাধায় বিএনপিকেও এর দায় নিতে হবে।

সরকারও পারবে না দায় এড়াতে। কারণ আমরা দেখেছি সারা দেশে এত যে স্কুল পুড়লো তাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র একজন শিবির কর্মী। আর বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই আগুন নেভাতে যায় এলাকাবাসী। দমকল বাহিনী ছুটে গেছে কোথাও কোথাও। সমঝোতাহীন নির্বাচনে স্কুলঘরকে ভোটকেন্দ্রই কেনো করা হলো। আর করা হলে তার নিরাপত্তাই কতটুকু নিশ্চিত করা হয়েছে সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

তবে দায় যারই হোক তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে শিশুদের স্কুল ঘর পুড়েছে। এখন দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হোক স্কুলগুলো ঠিকঠাক করা এবং শিশুদের বুকের ওপর চেপে থাকা কষ্টটি দূর করে দেওয়া।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে