Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৭-২০১৪

সরকারের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে মা ও ছেলের দুই কথা

এম রফিক রাফি


সরকারের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে মা ও ছেলের দুই কথা

ঢাকা, ০৭ জানুয়ারি- সংবিধান রক্ষার দায় সেরে ফেলেছে সরকার। এবার গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সমঝোতার ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন করার পালা। এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কোনো রকম সমঝোতার সম্ভবনা নাকচ করে দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদিও তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সমঝোতার জন্য তার আহ্বান সর্বশেষ সোমবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
 
সরকারের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে নির্বাচনের পরদিন তারেক রহমানের না এবং খালেদা জিয়ার হ্যাঁ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রধান বিরোধী দলের বর্তমান চেয়ারপারসন ও ভবিষ্যৎ চেয়ারপারসনের এই সুস্পষ্ট বৈপরিত্য রাজনৈতিক কৌশল নাকি প্রকৃতপক্ষে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
 
বিএনপি নেতারা অবশ্য তারেক রহমানের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছেন, এ বক্তব্য রাজনৈতিক কৌশল। রাজপথে আন্দোলন জিইয়ে রাখতে হলে আপোষহীন মনোভাব দেখাতে হয়। কিন্তু দুই শীর্ষ নেতৃত্ব একই সময় যখন দুই বিপরীত কথা বলেন সেটা তখন কৌশল নাকি দ্বন্দ্বের অর্থ প্রকাশ করে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোনো নেতা কিছু বলছেন না।
 
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রথম দিকে রাজপথে আন্দোলন করেই দাবি আদায়ের মনোভাব পোষণ করলেও পরিণতি বুঝে শেষ পর্যন্ত সে অবস্থান থেকে সরে আসে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এখন সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে বারবারই সরকারের প্রতি সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে আসছে তারা। বিরোধী দলবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারও সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছিল। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী নেত্রীকে ফোনও করেছিলেন। তবে তা সেই ফোনালাপের দিনই ভেস্তে গেছে।
 
সর্বশেষ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ সহকারী অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর মধ্যস্থতায় দুই দলের মহাসিচব পর্যায়ে বৈঠক শুরু হয়। তারা তিন দফা বৈঠক করেন। বৈঠকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও তুলে ধরেন তারা। কিন্তু প্রস্তাব নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌছুতে না পারায় বৈঠক চতুর্থ দফা পর্যন্ত আর গড়ায়নি। নিজেদের সংশোধিত সংবিধান রক্ষা করতেই হবে। তাই বিরোধী দলকে ছাড়াই নির্বাচন করলো সরকার।
 
নির্বাচনের একদিন আগে পর্যন্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিত রেখে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানানো হয়। এমনকি নির্বাচনের দিনই বিরোধী ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে সরকারকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানানো হয়।
 
এ অবস্থায় নির্বাচনের পরদিন সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তাদের সাথে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভবানা নাকচ করে দেন। পাশাপাশি নির্বাচন বর্জন করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি।
 
এরপর বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ পরিহার এবং যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করার শর্ত আরোপ করেন তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারকে সমঝোতার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, 'আমি অবিলম্বে নির্বাচনের নামে এই প্রহসন বাতিল, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য আহবান জানাচ্ছি।'
 
এখন সমঝোতা নিয়ে তারেক রহমানের না, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব ও খালেদা জিয়ার আহ্বান- এ তিনটি বিষয় নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। এমনিতেই দুই নেত্রীর অনড় অবস্থানের কারণে সংলাপের সম্ভাবনা বারবারই ভেস্তে যাচ্ছে তার ওপর প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ দুই নেতার বিপরীতমুখি অবস্থান সঙ্কটকে আরো বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা।
 
তবে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপে মনে হয়, এসব কথা শুধুই রাজনৈতিক। তারেকের বক্তব্য যেমন রাজনৈতিক কৌশল তেমনি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবও 'চালাকি'। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বলেন, শেখ হাসিনার প্রস্তাব শর্তযুক্ত। শর্ত দিয়ে কোনো আলোচনা শুরু করা যায় না। আলোচনার কথা বলে শেখ হাসিনা চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আসলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান না। তবে তাকে সমঝোতায় আসতেই হবে, অন্যথায় তার জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
 
সমঝোতা নাকচ করে তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নেতারা বলেন, তারেকের বক্তব্যে রাজনৈতিক কৌশল লক্ষ্যনীয়। সরকারকে চাপে রাখতেই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। সমঝোতার কথা নাকচ করে, আন্দোলন জোরদার করলে, আন্দোলনের মুখে সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে। তখন সরকারই বিএনিপর সঙ্গে সমঝোতার জন্য এগিয়ে আসবে।
 
নেতারা বলেন, বিএনপি এখনো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়। সেজন্যই খালেদা জিয়া এতকিছুর পরও সরকারকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হলে তা দেশ, গণতন্ত্র ও তাদের জন্য ভালো হবে। অন্যথায় তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।
 
তবে তারেক ও খালেদা জিয়ার সংঘর্ষিক বক্তব্যকে 'সমন্বয়হীনতা' বলেও মন্তব্য করেছেন দলের এক নেতা।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, 'দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমন্বয় খুবই জরুরি। তা না হলে একেক জন একেক রকম বক্তব্য দেবেন। নেতাকর্মীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নেতাকর্মীরা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বে। আন্দোলনের গতি বাধাগ্রস্ত হবে।'
 
এদিকে জামায়াতকে বাদ দেয়ার শর্ত আরোপ করে সংলাপে আসার আহ্বানকে অনেক বিশ্লেষক সংলাপ ও সমঝোতার পথে একটি অন্তরায় বলে মনে করছেন। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ বলছে, জামায়াতের কারণেই নির্বাচনে আসছে না বিএনপি। জামায়াত তাদের সমঝোতায় যেতে দিচ্ছে না। আর আন্দোলন করার মতো সাংগঠনিক শক্তি না থাকায় জামায়াতকে ছাড়ছে না বিএনপিও। শুধু রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তাহলে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি!
 
যদি তাই-ই হয়, তাহলে জামায়াতকে ছেড়ে আসার শর্ত দিয়ে সংলাপের আহ্বান আওয়ামী লীগের কোনো সচেতন রাজনৈতিক কূটকৌশল কি না তা হয়ত ভেবে দেখছে বিএনপি। কারণ জামায়াতবিহীন দুর্বল বিএনপিকে তখন যেকোনো শর্তে রাজি করানো সহজ হবে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিজয়টা হবে আওয়ামী লীগেরই। তাছাড়া জামায়াত ছাড়া বিএনপিকে ছিন্নমূল রাজনৈতিক দল বলে বারবার তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা তাদেরকে আরো জেদি করে যে তুলছে না তাও তো বলা যায় না।

 

 

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে