Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০১-০৬-২০১৪

কাউকেই আর প্রতিপক্ষ মনে করেন না কামাল মজুমদার

ইসমাইল হোসেন


কাউকেই আর প্রতিপক্ষ মনে করেন না কামাল মজুমদার

 

ঢাকা,০৬ জানুয়ারি- কাউকেই এখন আর প্রতিপক্ষ মনে করেন না কামাল আহমেদ মজুমদার। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান।

রোববার অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর কাফরুল ও মিরপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এই সংসদ সদস্য।

নির্বাচনের একদিন পর সোমবার পল্লবীতে নিজস্ব মালিকানাধীন মোহনা টেলিভিশন ভবনে তার অফিসে  মুখোমুখি হয়ে আগামী দিনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন তিনি।

কামাল মজুমদার বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ এলাকাবাসীর সবাই আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলে মনে করি। আওয়ামী লীগ থেকে এখলাস উদ্দিন মোল্লা একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিন প্রার্থীর আর একজন জাসদের সাইফুল ইসলাম ৯০৩ ভোট পেয়েছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু এখন আমি এমপি, তাই কাউকে আর প্রতিপক্ষ মনে করি না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত দাবি করে বলেন, নাম-সুনামের জন্যই আমি রাজনীতি করি।

নির্বাচনের দিন দুপুরে এখলাস মোল্লা নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে কামাল মজুমদারের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ আনেন। যদিও শেষ পর্যন্ত এখলাস মোল্লা পেয়েছেন ৩ হাজার ৩০৯ ভোট।

প্রতিপক্ষের প্রার্থী কেন্দ্র দখলের যে অভিযোগ তুলেছেন সে সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কামাল মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে ছয়বার নির্বাচন করেছি। আমার নিজস্ব কোনো বাহিনী নেই। কেন্দ্র দখল করলে ভোট গেল কোথায়? সব কেন্দ্রেই তো প্রতিযোগিতা হয়েছে।

গতবার এক লাখ ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হলেও এবার মাত্র ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে কামাল মজুমদার পেয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার ৯৭ ভোট।  

১৯৯৬ সালে প্রতিপক্ষের এখলাস মোল্লা বিএনপি থেকে নির্বাচন করে তার কাছে ৯০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন উল্লেখ করে কামাল মজুমদার বলেন, ঢাকা-১৬ আসনে তার ভাই ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা যাতে পরাজিত না হন সেজন্য উনি বয়কট করেছেন।

এছাড়া এখলাস মোল্লাকে যারা ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন তারা শেষ পর্যন্ত পাশে না থাকায় এ বয়কটের কারণ দাবি করে তিনি বলেন, উনি যে ভোট পেয়েছেন তা জামায়াত-বিএনপির ভোট।

নিজ এলাকায় খুব পপুলার দাবি করে কামাল মজুমদার বলেন, ডিজিটাল প্রচারণার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোনে এক লাখ ভয়েস মেসেজ দিয়ে আমি ভোট চেয়েছি।

এই আসনে নাশকতার আশঙ্কা না থাকায় ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে উপস্থিত হলেও অনেক ভোটার ভোট দিতে না পেরে কান্নাকাটি করেছে দাবি করেন তিনি।

তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৭৬ ভোটের বিপরীতে তিন প্রার্থী মিলে মাত্র ৩৪ হাজার ৭৫০ ভোট পেয়েছেন। শতকরা হিসেবে তা ১০ দশমিক ৯০ ভাগ।

এ প্রসঙ্গে কামাল বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভুলের কারণে নবায়ন করা ভোটার তালিকার সঙ্গে কেন্দ্রের ভোটার তালিকার হেরফের হয়েছে। এজন্য অনেকে ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

আবারও নির্বাচিত করায় ধন্যবাদ জানিয়ে যারা ভোট দিতে পারেনি সেজন্য ভোটারদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন কামাল মজুমদার।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কাজ করবেন- জানতে তিনি বলেন, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা আরো উন্নতি করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।

মিরপুরে মনিপুর স্কুলসহ বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা কামাল মাজুমদার এবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য স্কুল-কলেজে বৃত্তির ব্যবস্থা করব।

এলাকার রাস্তাঘাট সম্প্রসারণসহ পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবেন বলেও জানালেন তিনি।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব।

মিরপুর-কাফরুল এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টার নেই জানিয়ে সদ্য নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন এবং সরকারিভাবে কবরস্তানের ব্যবস্থা করা হবে।

মুসল্লিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে নামাজ পড়তে পারেন সেজন্য যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে