Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (52 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৫-২০১৪

সুচিত্রার সেরা পাঁচ

সুচিত্রার সেরা পাঁচ

কলকাতা, ০৫ জানুয়ারি- জীবনের শেষ সময়ে এসে আর সবার মতো ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেনকেও হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে সময় পার করতে হচ্ছে। কখনও ভালো, কখনও মন্দ শরীর নিয়েই মিডিয়ার শিরোনাম হচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি আবারো তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা এ মুহূর্তে স্থিতিশীল থাকলেও, ভক্তদের মনে বেড়েই চলেছে দুশ্চিন্তার আভা।

মাত্র কয়েক বছরের অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় ৬০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।   

সাড়ে চুয়াত্তর
১৯৫৩ সালে নির্মল দে পরিচালিত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় অভিষেক হয় সুচিত্রা সেনের। এই ছবিতে মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। মুক্তির পরপরই চারদিকে আলোড়ন সৃষ্টি করে ছবিটি। ফল স্বরূপ বক্স-অফিসে ব্যাপক সাফল্য। এর মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রে শুরু হয় উত্তম-সুচিত্রা জুটির ২০ বছরের রাজত্ব।
 
চলচ্চিত্রটির গল্পে পুরুষদের মেস অন্নপূর্ণা বোর্ডিংয়ে একদিন হঠাৎ এসে ওঠে রমলা অর্থ্যাৎ সুচিত্রা সেন। শুরু হয় তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিচিত্র চরিত্রের মানুষগুলোর বিচিত্র রকমের চেষ্টা। আর এর মধ্যেই মেসের সদস্য উত্তম কুমারের সঙ্গে রমলার প্রেমও শুরু হয়ে যায়।

বিজন ভট্টাচার্যের রচনায় ছবিটিতে আরো অভিনয় করেন তুলসী চক্রবর্তী, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরো অনেকে।

সপ্তপদী
পরিচালক অজয় করের পরিচালনায় ১৯৬১ সালে মুক্তি পায় উত্তম-সুচিত্রা জুটির ‘সপ্তপদী’ চলচ্চিত্রটি। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিতে আরো অভিনয় করেন ছবি বিশ্বাস, ছায়া দেবী, তরুণ কুমার, উৎপল দত্তসহ আরো অনেকে।

ছবিটির গল্পে হিন্দু কৃষ্ণেন্দুকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলতে চেয়েছিল খ্রিস্টান রিনা ব্রাউন অর্থ্যাৎ সুচিত্রা সেন। কিন্তু এ সম্পর্ক কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি কৃষ্ণেন্দুর গোঁড়া বাবা। দূরে চলে যায় রিনা। অনেক দিন পর বিপন্ন এক মুহূর্তে আবার তাদের দেখা হয়। তখন মৃত পিতার নিষেধের বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন কৃষ্ণেন্দু। এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে গল্প।

‘সপ্তপদী’ চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচিত্র উৎসবে অংশ নেন সুচিত্রা সেন। সেখান থেকে সিলভার প্রাইজ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি জিতে নেন তিনি।

দীপ জেলে যাই
পরিচালক অসিত সেনের বিখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্র ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। এই চলচ্চিত্রটি কেবল বাংলা চলচ্চিত্রের নয়, গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। এ চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন রাধা চরিত্রটি।

ছবিটির গল্পে হাসপাতালের একজন সেবিকার চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। একবার তার দায়িত্ব পড়ে রোগী তাপসকে (বসন্ত চৌধুরী) সারিয়ে তোলার জন্য। কিন্তু রোগীকে মানসিক সেবা দিতে গিয়ে শুরু হয় বন্ধুত্ব এবং সবশেষে পরিণতি পায় প্রেমে।

হারানো সুর
১৯৫৭ সালে পরিচালক অজয় কর নির্মাণ করেন ‘হারানো সুর’ ছবিটি। সেই সময়কার ধারাবাহিকতায় এই ছবিতেও উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন।  

মুক্তির পরপরই ছবিটি ভারতের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ‘সার্টিফিকেট অফ মেরিট’ লাভ করে। প্রযোজক হিসেবে ছিলেন নায়ক উত্তম কুমার নিজেই।

ছবিটির গল্পে স্মৃতিভ্রষ্ট উত্তম কুমারের প্রেমে পড়ে যায় ডাক্তার রমা অর্থ্যাৎ সুচিত্রা সেন। নায়ককে সুস্থ করে তুলতে তাকে বিয়েও করেন রমা। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় আবার স্মৃতি ফিরে পায় উত্তম কুমার। নিজের বিবাহিত স্ত্রী রমার কথা ভুলে গিয়ে বাড়িতে ফিরে যায় অলক। ওই বাড়িতেই চাকরি নেয় রমা। অলক তাকে চিনতে পারে না। তবু কেন মনে ফিরে ফিরে আসে এক চেনা সুর।

গৃহদাহ
উত্তম কুমার প্রযোজিত গৃহদাহ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। এই ছবিতেও উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন।

ছবিটির গল্পে ব্রাহ্ম মেয়ে অচলার অর্থ্যাৎ সুচিত্রা সেনের হাত থেকে বন্ধু উত্তম কুমারকে বাঁচাতে এসে উল্টো নিজেই তার প্রেমে পড়ে যায় সুরেশ। কিন্তু মহিমকেই বিয়ে করে গ্রামে চলে যায় অচলা। সামান্য ঘটনায় তাদের সম্পর্কে চিড় ধরে। সুযোগটি নেয় সুরেশ। অচলাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে কলকাতায়। শুরু হয় ত্রিমুখী টানাপোড়ন।

 

 

টলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে