Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০১-২০১২

একজন বীরাঙ্গনা সাফিয়া খাতুন -লিখেছেন: মৌলিক মোহান্ত (ব্লগ নেম) - সামওয়্যারইন ব্লগ

একজন বীরাঙ্গনা সাফিয়া খাতুন
-লিখেছেন: মৌলিক মোহান্ত (ব্লগ নেম) - সামওয়্যারইন ব্লগ

তিনি একজন বীরাঙ্গনা। যে শব্দটি শোনলেই আমরা শিউরে উঠি।
৪০ বছর পর তার ভাগ্যে জুটেছে সামান্য সরকারী সাহায্য।
প্রিয় ব্লগার আপনিও সাহায্য করতে পারেন এই বীরাঙ্গনা কে।
পড়ুন খবর টি .......

Click This Link

বীরাঙ্গনা কমলার কপালে জুটছে ভাতা

-- জালাল আহমদ, বড়লেখা

দৈনিক উত্তরপূর্বসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বড়লেখার কমলা রাণীর কপালে জুটছে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে কমলা রাণীর বস্তিতে গিয়ে তাঁর খোঁজ-খবর নেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আমিনুর রহমান। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) তাজুল ইসলামের টেলিফোনিক নির্দেশে বড়লেখার পাহাড়ি এলাকা ডিমাই গ্রামের সাফিয়া খাতুনের (কমলা রাণী) খোঁজ নে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিমন্ত্রীর টেলিফোনিক নির্দেশ পেয়ে গত সোমবার বড়লেখা পৌর শহরের পাখিয়ালা গ্রামের আজমল আলীর কলোনিতে গিয়ে রিক্সাচালক ছেলে কাজলের ভাড়াটিয়া ঝুপড়ি ঘরে বসবাসরত সাফিয়া খাতুনের সাথে দেখা করে খোঁজ-খবর নেন এবং নগদ টাকা দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেন বড়লেখা ইউএনও।
এদিকে গত মঙ্গলবার সাফিয়া খাতুনকে সাহায্যের জন্য উপজেলা প্রশাসন একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলেছে। হিসাব নম্বরটি হলো-

সাফিয়া খাতুন, সঞ্চয়ী হিসাব নং-৮৪৮২, জনতা ব্যাংক, বড়লেখা শাখা।

যারা সাফিয়া খাতুনকে সহযোগিতা করতে চান তাদেরকে উক্ত হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর টেলিফোনিক নির্দেশের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এখন থেকে সাফিয়া খাতুন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সাফিয়া খাতুনের মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য সরকারি ভূমি খোঁজে দেখা হচ্ছে। সাফিয়া খাতুনের ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভূয়সি প্রশংসা করেন এবং বীরাঙ্গনা সাফিয়ার জন্যে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে বিত্তবানদের আহবান জানিয়েছেন।
উলেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর দৈনিক উত্তরপূর্বের ভেতরের পাতায়

‘বড়লেখার বীরাঙ্গনা কমলা রাণীর মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি আজো’
Click This Link
শীর্ষক সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।
-----------------------------------------------------------------------
সেই সংবাদটি পড়ুন ......
স্বাধীনতার সুফল ভোগীরাই সাফিয়াকে পাঠালো জঙ্গলে ! বড়লেখার বীরাঙ্গনা কমলা রাণীর মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি আজো
-- জালাল আহমদ, বড়লেখা

কমলা রাণী। তবে এই কমলা রাণী আসলে কিন্তু কমলা রাণী নন। এটা পাকিস্তানি আর্মিদের দেয়া নাম। তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ডিমাই গ্রামের ছিদ্দেক আলীর (মৃত কালা ছিদ্দেক) স্ত্রী সাফিয়া খাতুন।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সাফিয়া খাতুনের বয়স ছিলো ২৫। তিনি ছিলেন খুবই সুন্দরী। তাঁর ভাই আবুল কাশেম যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। সাফিয়া সুন্দরী আর ভাই মুক্তি এই তো ছিলো তাঁর অপরাধ।
সাফিয়া সুন্দরী বলে বড়লেখা থানার তিন রাজাকার তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। বীর মুক্তিযোদ্ধার বোন সাফিয়া তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজাকাররা পাকবাহিনীর বর্বর আর্মিদেরকে খবর দেয়। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সাফিয়াকে। চলতে থাকে তাঁর ওপর অমানবিক-পাশবিক অত্যাচার। যুদ্ধের সময় পাকহানাদারদের বর্বরতার শিকার সাফিয়া খাতুন (৭০) রোগে-শোকে ভোগে খেয়ে না খেয়ে আধমরা অবস্থায় বেঁচে আছেন। পাকহায়েনাদের হাতে তাঁর নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা এলাকার সকলের জানা থাকলেও জনপ্রতিনিধিসহ নিশ্চুপ প্রশাসন। সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তিনি। স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ তাঁর খোঁজ রাখেনি।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার বড়লেখার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ডিমাই গ্রামে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ছেলের মাধ্যমে জেনে পাখিয়ালা গ্রামের আজমল আলীর কলোনীতে গিয়ে দেখা গেল রিক্সাচালক ছেলে কাজলের ভাড়াটিয়া একটি বস্তি ঘরের সামনে বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। সাংবাদিক পরিচয়ে পেয়ে মনের ভিতর জমে থাকা অনেক ক্ষোভ আর কষ্টের কথা বললেন অকপটে।
সাফিয়া খাতুন জানান,‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বামী ছিদ্দেক আলীকে নিয়ে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ডিমাই গ্রামের বখাছড়া নামক স্থানে একটি ঝুপরি ঘরে থাকতেন। পাশে ছিল আমার দেবর অহিদের বাড়ি, সেখানে স্থানীয় মুক্তিবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল। পাহাড়ি ও নির্জন এলাকায় হওয়ায় সেখানে তার ছোট ভাই আবুল কাশেমসহ ২০/২৫জন মুক্তিবাহিনী থাকতেন। আমি তাদের জন্য ভাত রেধে দিতাম। পরবর্তীতে মুক্তিবাহিনীরা ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতের বারপুঞ্জি ক্যাম্পে যায়। মুক্তিবাহিনীর দলের সাথে থাকা পাখিয়ালা গ্রামের আজিজ ওরফে হাবলু, আব্দুল মতিন, মনির আলী বারপুঞ্জি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসে কেরামতনগর পাক বাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করে রাজাকারদের দলে যোগ দেয়। রাজাকারদের বড়লেখার বিভিন্ন স্থানের মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে খবর দিতে থাকে।
সাফিয়া খাতুন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি জানান, ‘বাংলা আশ্বিন মাসে রাজাকার আজিজ ওরফে হাবলু, আব্দুল মতিন ও মনির আলী পাক সেনাদের নিয়ে তার বাড়িতে রাতে হানা দেয়। রূপবতী হওয়ায় পাকসেনারা তার ওপর লোলুপ দৃষ্টি ফেলে। ওই রাতেই তাকে কেরামতনগর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকসেনারা তার নাম দেয় কমলা রাণী। ক্যাম্পে পাকসেনাদের মেজর আজমসহ অন্যান্যরা বেশ কয়েকদিন আমার ওপর শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এখান থেকে আমাকে শাহবাজপুর ক্যাম্পে পাঠানো হয়। সেখানেও আমাকে নির্মমতার শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে আবার কেরামতনগর ক্যাম্পে পাঠায়। দেশে তখন তুমুল যুদ্ধ চলছে সে সময় (তারিখ কিংবা মাস মনে নেই) সিও অফিসের একটি গাছের আড়ালে বসনহীন অবস্থায় দেখে জীবন বাজি রেখে মইন কমাণ্ডার আমাকে উদ্ধার করেন এবং তার পরণের কাপড় দিয়ে আমার শরীর ঢেকে দেন। পরে আমি আমার স্বামীসহ সন্তানদের নিয়ে ভারত চলে যাই।
তিনি আরো জানান, ‘দেশ স্বাধীনের পর পুনরায় দেশে ফিরে আসলেও পাকসেনাদের হাতে নির্যাতিত হওয়ায় তাকে সবাই ঘৃণা করতো। তারপরও স্বামীর মনোবলের কারণে তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে কষ্টের মাঝে দিনকাল চলছিল। এক সময় স্বামী মারা গেলে বেঁচে থাকার সংগ্রামে ভিটে-মাটি বিক্রি করে ফেলি। সকলের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন পাঠাই। কোন কাজ হয়নি। বর্তমানে তিনি রিক্সাচালক ছেলে কাজলের ভাড়াটিয়া একটি বস্তি ঘরে বাস করছেন। কেউ তাঁর খোঁজ নেয়না। বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতাও পাই না। অসুস্থ অবস্থায় ঔষধ পাই না; না খেয়ে অনাহারে থাকি। বৃদ্ধ বয়সে শীত-গরমে কষ্ট পাই। তবে এতেও আমার আনন্দ। কেননা আমাদের ইজ্জত আর শহীদের রক্তে স্বাধীন হয়েছে এদেশ। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে সরকার যেন মাথার গোঁজার ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধপাপীদেরও বিচারের দাবি জানান।
ডিমাই গ্রামের ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিন জানান, ‘সাফিয়া খাতুনকে বিধাবা কিংবা বয়স্ক ভাতা দেয়া হয়না। তবে মাঝে মাঝে ভিজিএফ’র চাল দেয়া হয়। আগামীতে যাতে ভাতা পান সে ব্যবস্থা করা হবে।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলাম মঈন জানান, আমরা যখন মুক্তির আনন্দে সিও অফিসে পৌছাই তখন সাফিয়াকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখি। আমি পরনের গামছা দিলে সে শরীর ঢাকে। পরে তাকে আমার বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা করাই।
বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার সিরাজ উদ্দিন জানান,‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন যেমন সত্যি ঠিক তেমনি সত্য মা-বোনেরা ইজ্জত দিয়েছেন দেশকে রক্ষা করতে। এদেরই একজন হলেন সাফিয়া খাতুন। এসব মহিলাদেরও সামাজিকভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতাসহ রাষ্ট্রীয় অন্যান্য সুবিধা এসব মহিলাদের বেলায় চালু করা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন।’

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে