Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৩-২০১৪

উড়ে এসেই বনে গেলেন সাংসদ

হাফিজুর রহমান


উড়ে এসেই বনে গেলেন সাংসদ

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি- দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। চাকরি করেন সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয়। দেশে আসেন খুব কম। দলের লোকজনও তাঁকে খুব একটা চেনেন না। সেই তিনি হুট করে দেশে এসেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হয়ে গেছেন।

সৌভাগ্যবান এই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরী (৪৫)। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলা জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। আর পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ না পাওয়ায় নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার বাসিন্দারাও হতাশ।

মুনিম চৌধুরীর বাড়ি নবীগঞ্জের কুর্শি গ্রামে। বাবার নাম আবদুল ওদুদ চৌধুরী, মা হুসনারা বেগম।

কুর্শি গ্রামের লোকজন জানান, মুনিম ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন। এর এক বছর পর তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি বাকিংহামশায়ারে থাকেন। চাকরি করেন মিল্টন ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে।

জেলা জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ একবার যুক্তরাজ্যে গেলে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন মুনিম। ওই সময় তিনি এরশাদকে জানান, তিনি ১৯৮৩ সালে নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ করতেন। এরশাদ তাঁকে দলের জন্য কাজ করতে বলেন। ২০০২-০৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্য শাখা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি হন। পাশাপাশি দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন মুনিম। ওই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

মুনিম চৌধুরী গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে দেশে আসেন। ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন। জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ হবিগঞ্জ-১ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে দলীয় প্রার্থী শাহ নেওয়াজ গাজী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ওই আসনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রতীক বরাদ্দের আগেই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মণীন্দ্র কিশোর মজুমদার মুনিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

বাহুবল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও ভোটার ইমরান হোসেন বলেন, ‘আগে কখনো মুনিম চৌধুরীর নাম শুনিনি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহ নেওয়াজ গাজী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর জানতে পারি, মুনিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হয়েছেন।’
বাহুবল সদরের ভোটার হেদায়তুল আলম বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাইনি। অথচ জনপ্রতিনিধি পেয়ে গেছি। এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর।’

মুনিমের গ্রামের বাড়ি কুর্শির বাসিন্দা আবদুল সালাম বলেন, ‘আমাদের মুনিম যখন সংসদ সদস্য পদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে দোয়া চান, আমরা ধরে নিয়েছিলাম প্রবাসী মানুষ দেশে নামডাক ছড়ানোর জন্য প্রার্থী হয়েছেন। তিনি যে সত্যি সত্যি সাংসদ হয়ে যাবেন, তা আমাদের কেউ ধারণা করেনি।’

গ্রামের কেউ সঠিক করে বলতে পারেননি তাঁদের সাংসদের পড়াশোনা কোথায় বা কতটুকু। মুনিম চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এইচএসসি পাস উল্লেখ করেন। হলফনামায় আরও বলা হয়, তিনি এ দেশে আয়কর দেন না। তাঁর হাতে নগদ আছে পাঁচ লাখ টাকা। ব্যাংকে আছে মাত্র ৫০০ টাকা। বার্ষিক আয় এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

জেলা জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা রাত-দিন কষ্ট করেও দলে মূল্যায়ন পাই না। মুনিম প্রবাসী। দলের জন্য কিছুই করেননি। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয় কোন যোগ্যতায়?’

যোগাযোগ করা হলে সাংসদ মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি প্রবাসী হলেও নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করেছি। কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের (মহাসচিব) দায়িত্বে আছি। আমি সাংসদ হওয়ায় এলাকার দল-মতনির্বিশেষে সবাই খুশি। অপেক্ষায় আছি কবে শপথ নেব।’

তবে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল বলেন, ‘মুনিম চৌধুরী জেলা জাপার একজন সদস্য। তিনি কেন্দ্রের কোনো পদে আছেন কি না, জানা নেই।’

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে