Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৩-২০১৪

অস্থিতিশীলতায় মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি কমছে

অস্থিতিশীলতায় মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি কমছে

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি- সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নানা কারণেও সেখানে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতময় রাজনীতির কারণে সরকারের সব মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেছে রাজনীতি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি ফের জোরদারের আপাতত কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সেখানে জনশক্তি রপ্তানি ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সরকার বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দিতে পারছে না। নির্বাচনের পর এ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন হবে, এমন আভাসও এ মুহূর্তে মিলছে না।
সংশ্লিষ্ট অন্য এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, সরকারের দূরদর্শিতার অভাবে দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০’ কে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কাতারে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ-২০২২ কে কেন্দ্র করে দেশটিতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই। দুটি দেশের ক্ষেত্রেই দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সে দেশের সঙ্গে জোরদার কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে নতুন জনশক্তি পাঠানো কমে গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়া ও ভিসার অপব্যবহারের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে জনশক্তির বাজার সংকোচনের জন্য দায়ী।

জনশক্তি, কর্মশক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ছয় লাখ সাত হাজার ৭৯৮ জন। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা কমে হয়েছে চার লাখ আট হাজার। ২০১২ সালে সৌদি আরবে ২১ হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই লাখ ১৫ হাজার, কুয়েতে দুই জন, ওমানে এক লাখ ৭০ হাজার ৩২৬ জন, কাতারে ২৮ হাজার ৮০১ জন ও বাহরাইনে ২১ হাজার ৭৭৭ জন গেছেন। অন্যদিকে, ২০১৩ সালে সৌদি আরবে ১২ হাজার ৫৬৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ হাজার ৬২৬ জন, কুয়েতে ছয়জন, ওমানে এক লাখ ২৩ হাজার ১৬৩ জন, কাতারে ৫২ হাজার ৬১১ জন ও বাহরাইনে গেছেন ২৩ হাজার ৫০৬ জন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, চলমান অস্থিতিশীল রাজনীতি অব্যাহত থাকলে ভাবমূর্তিজনিত সংকটের কারণে জনশক্তি রপ্তানির মূল বাজার মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সুযোগ ভবিষ্যতে আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০’ ও কাতার বিশ্বকাপ-২০২২ কে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ দুটিতে ব্যাপক অবকাঠামো তৈরি হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এসব দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। অথচ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের বৈশ্বিক দুটো আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এর মধ্যেই নিজেদের জনশক্তি রপ্তানি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করেছে।

দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০’ ও কাতার বিশ্বকাপ-২০২২ কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অবকাঠামো নির্মিত হতে যাচ্ছে। এসব অবকাঠামো নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্কোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ ওয়ার্ল্ড এক্সপোর স্বাগতিক দেশ হিসেবে দুবাইয়ের পরিবর্তে শুরুতে রাশিয়ার একাতেরিনবার্গকে সমর্থন দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ভোটাভুটির সময় এসে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। বাংলাদেশের এ ধরনের তৎপরতায় খুব একটা সন্তুষ্ট নয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাতারে জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপারে দেশটির সঙ্গে সরকারের আলোচনার জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই।

বিনিয়োগের সম্ভাবনাও ধূসর: মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র সম্প্রতি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আলোচনা এগিয়ে নিলেও চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তারা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার শর্তে তারা বিনিয়োগ করবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বন্দর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও পর্যটনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বছর দেড়েক ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে বাহরাইন, ওমান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব খাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা (এক হাজার কোটি ডলার) বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

বাংলাদেশে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুই হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে কাতার। সব মিলিয়ে কাতারের এ দেশে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশটি বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৮০ কোটি ডলার রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা ও দোহায় কয়েক দফা আলোচনার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে কাতার। তা ছাড়া গত বছরের মার্চে কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে কাতারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ দেখতে আগ্রহী।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ আল ওয়ালেদ বিন তালাল বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নে তিনি আগ্রহী নন।

বাংলাদেশের তেল শোধনাগার নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল কুয়েত। চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণে এ প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরসহ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী দুবাইভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। গত মার্চে এ নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ সফর করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শাইখা লুবনা। বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা শেষে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের একটি প্রতিনিধিদলের অক্টোবরে ঢাকা সফরের কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে শেষ মুহূর্তে ওই সফর বাতিল করা হয়েছে।

ওমান গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কাজে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই দেশটি একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া ওমান বাংলাদেশের সঙ্গে কৃষি খাতে যৌথ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। মধ্যপ্রাচ্য সহযোগিতা কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) অন্যতম দেশ বাহরাইনও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কূটনীতিক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ কিংবা জাপানসহ দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের গণতন্ত্র কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেমন মাথাব্যথা নেই। তবে বাংলাদেশে নিজেদের বিনিয়োগ সুরক্ষার স্বার্থে এ দেশে স্থিতিশীলতা তাদের প্রধান বিবেচ্য। বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিনিয়োগের জন্য সহায়ক মনে করছে না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে