Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৩-২০১৪

বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক

বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি- বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক। যানবাহন চলাচল আগের দিনের চেয়ে বেশি থাকায় ব্যস্ত কয়েকটি সড়কে জটও ছিল। দেশের অপর ছয় বিভাগীয় শহরেও অবস্থা ছিল একই রকম।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: রাজধানীতে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দিনভর পরিস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় সড়কগুলোতে ছিল প্রচুর যানবাহন ও মানুষের ভিড়। গণপরিবহনের পাশাপাশি অনেক ব্যক্তিগত গাড়িও চলেছে। ছিল প্রচুর রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বিজয় সরণি, ফার্মগেট, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগের সড়কগুলোতে বিভিন্ন সময়ে যানজট ছিল। শেষ বিকেলে ও সন্ধ্যায় এসব স্থানসহ বেশ কিছু সড়কে যানজট বাড়ে।
গত কয়েক দিনে নগরে নাশকতার মাত্রা কমে আসায় মানুষের মধ্যে আতঙ্কও ছিল কম। কর্তব্যরত কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন বৃদ্ধির পাশাপাশি রিকশার এলোমেলো চলাচল এই যানজটের জন্য দায়ী। এ ছাড়া স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ট্রাফিক-ব্যবস্থার শৈথিল্যেও অনেক সড়কে যানজট লাগে।

নগরে অবরোধের সমর্থনে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে মতিঝিলে শিল্পব্যাংক ভবনের কাছে বিআরটিসির একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের পশ্চিম পাশের রাস্তায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে পরপর চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি। ১৮-দলীয় জোটের ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাত থেকে খালেদা জিয়ার বাসভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

রাত পৌনে আটটার দিকে বিজয়নগরে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

চট্টগ্রাম নগরের পরিস্থিতিও ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। নগর পরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশার চলাচল ছিল সব প্রধান সড়কেই। কোনো কোনো সড়কের অবস্থা ছিল স্বাভাবিক দিনের মতো। বিপণিবিতান, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব খোলা ছিল। প্রবর্তকে মিমি সুপার মার্কেটে ক্রেতাদের বেশ কয়েকটি গাড়িও দেখা গেছে।

ট্রেন চলাচল করলেও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এদিকে অবরোধে দুর্দশায় পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের। নির্মাণশ্রমিক আবুল হোসেন জানান, খুলশীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতেন। অবরোধের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন।

সিলেট নগরেও পরিস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক। অন্যান্য অবরোধের চেয়ে সড়কে যান ও লোক চলাচল ছিল বেশি। নগরের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র কালীঘাট, সোবহানীঘাট, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার এলাকার বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল খোলা। তবে ক্রেতা সমাগম ছিল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কম।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ৬৪ কিলোমিটার পথে যাত্রী নিয়ে চলাচল করেছে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, লেগুনাসহ ছোট যান। মাইক্রোবাসগুলো ‘বিদেশযাত্রী’, ‘রোগী’ লিখে যাত্রী বহন করেছে। বিকেলের দিকে সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্টেশন থেকে ছাতক, দিরাই ও সুনামগঞ্জগামী কয়েকটি বাস ছেড়েছে। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক দিয়ে বিশেষ করে রাতে পাথরবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রী কম।

বরিশালে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ পরিবহনসহ নৌচলাচল স্বাভাবিক ছিল। ঢাকা থেকে বরিশালে ও বরিশাল থেকে ঢাকার পথে লঞ্চ চলাচল করেছে। বুধবার বরিশাল নৌবন্দর থেকে পাঁচটি লঞ্চযাত্রী বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
রংপুর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও শহরে সব ধরনের যানবাহন চলেছে। ব্যাংক-বিমা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রংপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের ওপর। তাদের নতুন বইও দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে অবরোধের মধ্যে গতকাল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে আসে। নগরীর সোনাদীঘি মোড়ে ফুটপাতে বই বিক্রি করেন সোহাগ রানা। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে মানুষ নেই বলে বিক্রিও নেই।

রাজশাহী নগরেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল বেড়েছে। পথে লোক চলাচল বাড়লেও দোকানে বেচা-কেনা কম। শীতকালীন ছুটির পর গতকাল রাজশাহী কলেজ খুললেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। দূরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও ট্রেন চলেছে।

খুলনা নগরের পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পিটিআই মোড়ে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। তবে নগরজুড়ে মানুষের মধ্যে ছিল আতঙ্ক। বড় বিপণিবিতানগুলো বন্ধ ছিল। সোনাডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়েনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে