Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৫-২০২০

পুলিশ ধরে নিয়ে গেল রাতে, সকালে মিলল লাশ

পুলিশ ধরে নিয়ে গেল রাতে, সকালে মিলল লাশ

রাজবাড়ী, ১৫ আগস্ট- রাজবাড়ীতে গভীর রাতে রবিউল বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সকালে তার লাশ পাওয়া গেছে পার্শ্ববর্তী একটি বিলে। পরিবারের অভিযোগ, রবিউলকে ধরে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন কালুখালী থানার এসআই ফজলুল হক।

ঘটনাটি ঘটেছে কালুখালী থানার মাজবাড়ি ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে। রবিউল ছিলেন বেকারি ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। শনিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে রবিউলকে গ্রেপ্তারের পর সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছে।

নিহতের বোন মাজবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আমেনা বেগম জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনায় রবিউলসহ চারজনের বিরুদ্ধে কালুখালী থানায় একটি মারামারির মামলা হয়। শুক্রবার রাত ২টার দিকে কালুখালী থানার এসআই ফজলুলসহ তিন পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। তার ভাইয়ের স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এরপর তার দুই ভাই রবিউল ও আকতারকে ধরে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। আকতার পালিয়ে বাঁচলেও রবিউলকে হত্যা করা হয়। শনিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি খালে তার ভাইয়ের লাশ পাওয়া যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার ভাইয়ের তিনটি শিশুসন্তান এতিম হয়ে গেল। ওদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।'

নিহতের স্ত্রী জানান, রাত ২টার দিকে এলাকার তিন দুর্বৃত্ত- রফিক, ইলিয়াস ও রাকিব তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশও তাদের সঙ্গে ছিল। তার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সকালে তার লাশ পান। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। এলাকাবাসী জানায়, রফিক, ইলিয়াস ও রাকিব মাদক কারবারে জড়িত। তারাই রবিউলকে হত্যা করেছে বলে তাদের মত।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় ৫২ মিনিটেই করোনা পরীক্ষা

শনিবার সকালে এসআই ফজলুলসহ তিন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় এলাকাবাসী ফজলুল ও স্থানীয় ইউসুফ মেম্বারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালুখালী থানার ওসি কামরুল ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দিলে ১১টার দিকে রাজবাড়ী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর লাঠিচার্জ করে তাদের তিন সহকর্মীকে মুক্ত করে।

এলাকাবাসী জানায়, সাম্প্রতিককালে মাজবাড়ি ইউনিয়ন এলাকায় মাদক ব্যবসা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিহত রবিউলসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায় বাধা দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হলো। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কালুখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, মাজবাড়ি ইউনিয়ন মাদকে ছেয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় লোকজন একদল মাদক কারবারিকে ধাওয়া করে। সন্ত্রাসীরা বিষয়টি ইউসুফ মেম্বারকে জানায়। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার এলাকায় সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে ইউসুফ মেম্বার না আসায় সালিশ আর হয়নি। রাতে পুলিশ রবিউল, আক্তার ও বাবুল নামে তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়।

এসআই ফজলুল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শুক্রবার ইলিয়াস কালুখালী থানায় একটি মারামারি মামলা করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেতবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই মামলার আসামি বাবুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় রেখে তিনি ঘুমাতে যান। তিনি রবিউলদের বাড়িতে যাননি। তবে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের বক্তব্যে দেখা যায়, পুলিশ তাদের বাড়িতে হানা দেয়।

ফজলুলের দাবি, ফজরের নামাজের পর ওসি ফোন করে জানান যে বেতবাড়িয়া গ্রামে ঝামেলা হয়েছে। এজন্য সেখানে জরুরি ভিত্তিতে যেতে বলেন। তারা সেখানে গেলে জানতে পারেন রবিউল পানিতে ডুবে মারা গেছেন। পরে লোকজন তার লাশ খুঁজে পায়। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

কালুখালী থানা সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণ পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। লাশ নিয়ে আসতে গেলে বাধা দেয়। এ সময় থানার পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। যাদের মধ্যে এসআই ফজলুলও রয়েছেন।

ওসি কামরুল হাসানের মোবাইল নাম্বারে কল দেওয়া হলে অপর দিক থেকে ফোন কেটে দেওয়া হয় বার বার। এ কারণে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, একটি মামলার আসামি হিসেবে রাতে কালুখালী থানার পুলিশ রবিউল ও তার ভাই আকতারকে গ্রেপ্তার করতে যায়। গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে ডোবায় থাকা নৌকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। ওই সময় অপর একটি নৌকায় প্রতিপক্ষ ইলিয়াসসহ কয়েকজন ধর ধর বলে চিৎকার করে। তাদের ভয়ে আকতার নৌকা থেকে নেমে একটি গাছের নিচে পালায়। আর রবিউল পানিতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কারও শিখিয়ে দেওয়া কথা।

সূত্র : সমকাল
এম এন  / ১৫ আগস্ট

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে