Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০১-২০১৪

বিশ্ব যুব দাবায় ফাহাদের চমক

বদিউজ্জামান


বিশ্ব যুব দাবায় ফাহাদের চমক

আল আইন, ০১ জানুয়ারি- সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশির কমতি নেই। আল আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মিলনায়তনে বিশ্ব যুব দাবার আয়োজন, সেখানকার ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চাকরি করেন ইসমাইল। বাংলাদেশের একমাত্র দাবাড়ু ফাহাদ রহমানের জন্য ভালোবাসার কমতি ছিল না তাঁর। প্রতিদিনের খেলা শেষে জিতলেই ফাহাদের জন্য বরাদ্দ থাকত কিটক্যাট, জুস ও চকোলেট। এত সব উপহার তো পেয়েছেই ফাহাদ, দেশের জন্য বয়ে এনেছে গৌরব—বিশ্ব যুব দাবার অনূর্ধ্ব-১০ গ্রুপের ব্লিত্জ বিভাগে জিতেছে রুপা। বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ ফিদে মাস্টারের এমন অর্জনে প্রতিদিনই উত্সাহ জোগাতে আসতেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। টুর্নামেন্টের শেষ দিনে ফাহাদের মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে দেন আল আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক উল্লাস। লাল-সবুজের সেই পতাকা, একগাদা চকোলেট আর টুর্নামেন্ট থেকে পাওয়া রুপার পদকটা নিয়ে কাল রাতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ ফিদে মাস্টার।

সকাল থেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের আনাগোনা ফাহাদদের বাড্ডার ভাড়া বাসায়। সবাইকে সামলে ঠিকই ইন্টারনেটে দাবা খেলতে মগ্ন দেখা গেল গুলশান মডেল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রকে।

স্ট্যান্ডার্ড দাবায় ফাহাদ খেলেছে ১১ রাউন্ড। এর মধ্যে জিতেছে ৮ ম্যাচ, একটিতে ড্র। সাড়ে আট পয়েন্ট পেয়ে হয়েছে পঞ্চম। ফাহাদের দাবি, ‘আমি তৃতীয়ই হয়েছি। প্রথম ম্যাচে ওয়াকওভার পাই। কিন্তু তিনজনের সমান পয়েন্ট থাকায়, ওয়াকওভারের কারণে আরবিটাররা আমাকে পঞ্চম বানিয়েছে। ওয়াকওভার পাওয়াটা কি আমার দোষ!’

দ্রুতগতির খেলায় ফাহাদ জিতেছে রুপা। সাত ম্যাচে একটিতেও হারেনি, ৬ জয়ের সঙ্গে একটি ড্র। কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট নয় ফরিদপুরের ১০ বছরের বালক, ‘আরও ভালো করার ইচ্ছা ছিল আমার। চেয়েছিলাম এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে। কিন্তু তাড়াহুড়া করে চাল দিতে গিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ড্র করে ফেলি। এটা সাত রাউন্ডের খেলা। আর একটা রাউন্ড সুযোগ পেলেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম।’

এই টুর্নামেন্টে ফাহাদ হারিয়েছে ভারতের ফিদে মাস্টার রাম আরবিন্দকে। যাকে ভারতের খুদে কার্লসেন বলেই চেনে সবাই। তবে আরবিন্দ নয় সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে জার্মানির মার্কো দবরিকভকে, ‘ভারতের কোনো দাবাড়ুর কাছে হারিনি। দুজনকে হারিয়েছি, একজনের সঙ্গে ড্র করেছি। এদের চেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ মার্কে। ওকে হারাতে বেশ কষ্ট হয়েছে আমার।’

পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্স আর্থিক সহযোগিতা করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা পেতে খুবই দুর্ভোগে পড়তে হয় ফাহাদকে। সেই কষ্টের কথা শোনাচ্ছিল ফাহাদ, ‘আমরা ঢাকা থেকে ভিসা নেইনি। আয়োজকেরা ইন্টারনেটে একটি অ্যাক্রিডিটেশন ফরম পাঠিয়েছিল। সেটা দেখালে বিমানবন্দরে কোনো সমস্যা হবে না—এমনটাই আয়োজকেরা জানিয়েছিল। কিন্তু দুবাই বিমানবন্দরে আমরা ১২ ঘণ্টা আটকা পড়ে ছিলাম। আয়োজকেরা শেষ পর্যন্ত ভিসা জোগাড় করে দেয়। এরপর খেলা শুরুর ঘণ্টা তিনেক আগে আল আইনে পৌঁছাই।’

ফিদে মাস্টার ফাহাদের স্বপ্ন দ্রুত আন্তর্জাতিক মাস্টার নর্ম পাওয়া, ‘ফেডারেশনে কোনো খেলা নেই। কিন্তু বেশি বেশি টুর্নামেন্ট না খেললে আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম হবে কীভাবে? এ জন্য দেশের বাইরে সব টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চাই।’ বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ারও স্বপ্ন দেখছে সে, ‘আগামী এপ্রিলে বিশ্ব জুনিয়র দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে চাই। সেখানে চ্যাম্পিয়ন হলে সরাসরি গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব দেওয়া হয়। আমি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।’

বিশ্বনাথান আনন্দকে হারিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব পেয়েছেন নরওয়ের মাগনাস কার্লসেন। সেই কার্লসেনকেই আদর্শ মানে ফাহাদ। খুদে কার্লসেনকে এরই মধ্যে হারিয়েছে। কে জানে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে একজন কার্লসেন!

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে