Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০১-২০১১

রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে
তিন বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন (এক হাজার কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে এই রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত আশঙ্কা করছেন, রিজার্ভ কমে যাওয়ায় লেনদেনের ভারসাম্যও (ব্যালান্স অব পেমেন্টে) চাপের মধ্যে পড়বে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "সা?প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয় বাড়লেও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের (রেমিটেন্স) প্রবাহ কমে যাওয়ায় রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ছে। এ কারণে অনেকদিন পর রিজার্ভ আবার ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় সরকার বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ না পেলে রিজার্ভ আরও চাপের মুখে পড়বে।"

"গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয় যেভাবে বেড়েছে তা হিসাব করলে এখনকার রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোই কঠিন হবে", যোগ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রত্যেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।

রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রতিদিনই কমছে বলে উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার গতিবিধি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় এরপর বেশ কিছুদিন রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরেই থাকে। এমনকি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার পরও গত তিন বছরে চার বার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

সর্বশেষ গত অগাস্ট মাসের শেষ দিকেও রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। কিন্তু আমদানি ব্যয় বাবদ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) ৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার মেটানোর পর রিজার্ভ কমে আসে। আর সা?প্রতিক সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তা ৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে গত বছরের অক্টোবর মাসে। ওই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আর চলতি বছরের ২৮ ফেব্র"য়ারি রিজার্ভ ছিল ১১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

মার্চ মাস শেষে রিজার্ভ বেড়ে ১১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার হয়। সেটিই ছিল এ যাবতকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ রিজার্ভ।

২০০৯-১০ অর্থবছরে গড় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আ ২০১০-১১ অর্থবছরে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার হয়।

চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে রিজার্ভ ছিল ১০ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অগাস্টের শেষে তা ১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার হয়।

এদিকে রিজার্ভ কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ক্রমশ কমছে। বৃহস্পতিবার মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়ে পাওয়া গেছে ৭৫ টাকা ২৪ পয়সা। কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকা ৬০ পয়সায়।

অন্যদিকে নেতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে রেমিটেন্সেও। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) রেমিটেন্স প্রবাহে ১৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি মাসে (সেপ্টেম্বর) তা কমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জুলাই মাসে প্রবাসীরা ১০৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। অগাস্ট মাসে পাঠিয়েছিলেন ১০৮ কোটি ডলার। আর চলতি মাসের ২৩ দিনে (২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) দেশে রেমিটেন্স এসেছে ৬৫ কোটি ডলার। বাকি সাত দিনের রেমিটেন্স যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা ১০০ কোটি ডলারের নিচে থাকবে বলেই অর্থনীতিবিদদের ধারণা।

অথচ ২০১০-১১ অর্থবছরে রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। তার আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বেড়েছিল ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরের শুরুতেও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে গত অর্থ বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় গড়ে বেড়েছিল ৪১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কিছুটা হলেও আশা জাগিয়ে রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে। গত ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জায়েদ বখত বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি অস্বাভাবিকভঅবে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৯১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে