Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (78 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-৩১-২০১৩

প্রিয়াঙ্কাকে লেখা রাহুলের প্রেমপত্র

প্রিয়াঙ্কাকে লেখা রাহুলের প্রেমপত্র

কলকাতা, ৩১ ডিসেম্বর- সম্প্রতি গেল টালিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কার জন্মদিন। স্ত্রীকে কি উপহার দেয় ভেবে ভেবে নায়ক রাহুলের ঘুম হারাম। হঠাৎ মাথায় এলো নতুন আইডিয়া। প্রিয়তম স্ত্রীকে প্রেমপত্র দিলে কেমন হয়। খোলা প্রেমপত্র। যা প্রকাশ হবে গনমাধ্যমে। আর সেটাই হবে প্রিয়াঙ্কার জন্মদিনের উপহার। হলোও তাই। জন্মদিনে প্রিয় স্ত্রীকে পত্র দিলেন রাহুল। কি ছিল সেই পত্রে? টক্কিজবিডি ডটকম পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো সেই পত্র-

প্রিয়াঙ্কা, আজ তোমার জন্মদিন৷ আর তুমি জানো, উপহারের বিষয়ে আমি প্যাথেটিক৷ প্রচুর ভেবেচিন্তে আমি গল্পের বই আর ডিভিডির বাইরে বেরোতে পারি না৷ কিন্ত্ত তোমার এ বছরের জন্মদিনটা খুব স্পেশ্যাল৷ যখন তুমি কেক কাটতে যাবে তখন তোমার কোলে একটা ২২ দিনের জ্বলজ্যান্ত পুটুলি থাকবে, যার নাম সহজ৷ তাই এই স্পেশ্যাল জন্মদিনে স্পেশ্যাল উপহার-এই চিঠি৷ তাও একান্তে নয়, একেবারে ছাপার অক্ষরে৷ কারণ, আমার মনে হয় তুমি এতেই সব থেকে বেশি খুশি হবে৷ তুমি চাও আমার লেখা অনেকে পড়ুক৷ ইনফ্যাক্ট আমার ধারণা তুমি ভাবো আমার দাড়ির গ্রোথ আরেকটু ভালো হলে আমি এতদিনে নোবেল পেয়ে যেতাম৷

তুমি মা হয়ে গেলে প্রিয়াঙ্কা? এই তো কয়েক বছর আগে ‘খেলা’র সেটে অ্যাডাল্ট কোনও গল্প হলে বড়রা তোমায় অন্য জায়গায় গিয়ে বসতে বলত৷ সেই তুমি এত বড় কবে হয়ে গেলে? ঠিক কবে শুরু হয়েছিল যেন প্রেমটা? পজেসিভ দাদার চরিত্রে অভিনয় করতে করতে অবসেসিভ প্রেমিক হয়ে গিয়েছিলাম ঠিক কবে থেকে? আসলে একটা মুহূর্ত তো নয়! অনেকগুলো, সব কটা মিলে মিশে ব্লার হয়ে একটা ডিজাইন হয়ে রয়েছে মাথার ভিতরে৷ সেখানে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি একটা প্রচণ্ড ফিল্মি ছেলে শাহরুখের সিনেমার ডায়লগ বাংলায় অনুবাদ করে তোমাকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করে চলেছে৷ কি ফিল্ডিং না খাটিয়েছ আমায়? সিরিয়াল তো এক সঙ্গে কম করিনি আমরা! ‘আস্থা’, ‘নানা রঙের দিনগুলি’, ‘খেলা’, অথচ সব দাদা-বোনের চরিত্র৷ যেদিন প্রথমবার অতনুদা (ঘোষ) নিজের টেলিফিল্মে হিরো-হিরোইনের রোল দিল, আনন্দে সারারাত ঘুমোতে পারিনি৷

প্রেম আমাদের দেরিতে হলেও বন্ধু ছিলাম আমরা শুরু থেকে৷ সৌভাগ্যবশত আজও আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড৷ কীভাবে একটা সতেরো বছরের মেয়ে আমার পৃথিবীতে ঢুকে গিয়ে আমার মানুষদের আরও কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে এই পাঁচ বছরে? আমি টেরই পাইনি৷ একটাও কথা না বলে ভালোবাসার, ভালো বাসতে পারার এই অগাধ ঐশ্বর্য্যের চাবিটা যে তোমার কোন বালিশের তলায় লুকোনো সেটা আমার জানা নেই৷ আমি কথা দিচ্ছি ‘বেশরম’ নিয়ে তোমার পেছনে আর লাগব না৷ মেনে নিচ্ছি তোমার রণবীর ভালো, বেশ ভালো৷ আমি ঠিক জানি না, আর কী লিখব৷ ব্যক্তিগত, একান্ত ব্যক্তিগত এইসব অনুভূতির কথা লেখা হয়ত সব থেকে কঠিন৷ বরং মনে পড়ছে অযোধ্যা পাহাড়ে, যেখানে একটা গোপন টিলার নীচে চিহ্ন দিয়ে বলে এসেছিলে ‘আমরা এসেছিলাম’৷

রোম্যান্টিক রাস্তাও নেহাত বাম্পারহীন নয় আমাদের৷ বালির সমুদ্রসৈকতে গিটার সমেত রোম্যান্টিক গান সহ লবস্টার, কাঁকড়া ও চিংড়ি খেয়ে যখন ভেবেছি ‘রোম্যান্সের চরম হল আজ’, ঠিক সেসময়ই বিলটা এসেছে৷ এবং আচমকা টের পেয়েছি আমি ক্যাশ কম নিয়ে বেরিয়েছি৷ এরকম ভাবেই জীবনটা চলে যাবে বোধহয়৷ রোম্যান্স আর বাস্তবের মধ্যবর্তী কোনও একটা স্তর দিয়ে৷ কারণ, নিঃসন্দেহে, আমরা রোম্যান্টিক বাস্তবে বিশ্বাসী৷ অথবা, বাস্তবিকই রোম্যান্টিক৷ সন্তান হওয়ার পর মায়ের প্রথম কথা কী হয়, জানি না, অন্যদের কী হয়, কিন্ত্ত সহজ হওয়ার পর ওটি-তে একচোখ জল নিয়ে তুমি বলেছিলে ‘একটু নাকটা চুলকে দেবে?’ কারণ তোমার দু’হাত আটকানো ছিল৷ ভালো থেকো এরকমই৷ তোমার পুনশ্চঃ- বলেছি কি? I love you. Happy Birthday.

 

 

টলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে