Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (64 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-৩১-২০১৩

ঢাকার এক নারী সাংবাদিক পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

ঢাকার এক নারী সাংবাদিক পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

বালুরঘাট, ৩১ ডিসেম্বর- ঢাকার এক অপরাধবিষয়ক দৈনিক পত্রিকার ফ্রিল্যান্স সাংবদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাংবাদিকের নাম বর্ষা চৌধুরী। ১৭ বছর বয়সের ওই তরুণী ও সাংবাদিক নিজেই নাকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের খপ্পরে পড়ে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন।

বর্ষার দাবি, তার বন্ধু সুজন মামার বাড়ি আমেদাবাদ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজস্থানে যোদপুরের এক হোটেলে মাত্র ২০ হাজার টাকায় তাকে বিক্রিও করে দিয়েছিল। সেখান থেকে স্থানীয় এক বাঙালি ব্যাক্তির সাহায্যে হাওড়া হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর পৌঁছতে বালুরঘাট স্টেশন থেকে স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশি ওই সাংবাদিকদের কথা শুনে রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত। পুরো ঘটনায়র তদন্ত নেমেছে বিশেষ গোয়েন্দা শাখা। বর্ষার সঙ্গে আরো তিন তরুণীর খোঁজে রাজ্য পুলিশ রাজস্তান ও গুজরাটে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই বন্ধু বেশের ওই নারী পাচারকারী বাংলাদেশি তিন যুবকের সন্ধানেও পুলিশ বিশেষ তল্লাশি শুরু করেছে।

এই ঘটনার সতত্যা স্বীকার করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ডিএসপি উত্তম ঘোষ জানান, বাংলাদেশি ওই তরুণীকে মালদার একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছি আমরা।

দক্ষিণ দিনাজপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চাইল্ড লাইনের সম্পাদক সুরুজ দাস জানান, পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও আমরাই মেয়েটিকে মালদার সুকান্ত মোড়ের সরকারি হোমে রাখার ব্যবস্থা করেছি। গত এক বছরে এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষিতা মেয়ে নানাভাবে প্রতারিত হয়ে ভারতে পাচার হয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া বর্ষা চৌধুরীকে উদ্বৃত করে স্থানীয় পুলিশ এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মালাদ-দক্ষিণ দিনাজপুরের স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক টেলিফোনে জানান, ১৫ দিন আগে ঢাকা থেকে চার বান্ধবী এবং তিন বন্ধু মিলে যশোরে বেড়াতে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকেই ইছামতী নদীতে নৌবিহারে বের হওয়ার প্রস্তাব করে বন্ধু সুজন এবং মনির। একপর্যায়ে নৌকা গিয়ে ঠেকে নদীয়া সীমান্তে। সেখানে নেমে বন্ধু সুজন বর্ষাদের প্রস্তাব করে ভারতের গুজরাটের আমেদাবাদে তার আপন মামা থাকেন। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া তারা যখন একবার ভারতে ঢুকে পড়েছে তো এই সুযোগে তারা বান্ধবীদের নিয়েই মামা বাড়ি ঘুরে আসার সুযোগ ছাড়বেন না। এই প্রস্তাব পেয়ে বর্ষা প্রথমে আপত্তি করলেও পরিস্থিতি অনুকুলে না বুঝে রাজি হয়ে যান। হাওড়া হয়ে বর্ষাদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজস্থানের যোদপুরের একটি হোটেলে। সেখানে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়ে সুজন-মনির চম্পট দেয়। বর্ষা চৌধুরী সেখানে যা হারানোর সবই হারান। কিন্তু সেখানেও একজন ভালো মানুষ পেয়ে গিয়েছিলেন। হোটেলের বাঙালি এক কেয়ারটেকারের সাহায্যে পালিয়ে হাওড়া হয়ে সোমবার রাতে হাওড়া-বালুরঘাট তেভাঘা এক্সপ্রেসে করে দক্ষিণ দিনাজপুর হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পথেই বর্ষা বাংলাদেশি বলে কোনো একজন যাত্রীর সন্দেহ হয় এবং ওই যাত্রী স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। বালুরঘাট স্টেশনে নামলেই পুলিশ বর্ষাকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকার রায়েরবাগের বাসিন্দা বর্ষা স্থানীয় অপরাধবিষয়ক দৈনিক 'সরেজমিন' পত্রিকায় মাস খানেক কাজ করেছেন। সম্প্রতি ওই কাজ ছেড়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।

বালুরঘাট থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষার সঙ্গে আরো তিন বন্ধুর নাম ও পরিচয় উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও মুখ খুলছে না।

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে