Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (68 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৯-২০১৩

বদলাবে না নোবেলের বাছাই প্রক্রিয়া

বদলাবে না নোবেলের বাছাই প্রক্রিয়া

স্টকহোম, ২৯ ডিসেম্বর- নোবেল পুরস্কারের বাছাই-প্রক্রিয়ার সংস্কারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন সুইডেনের রয়্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট স্যার পল নার্স। এ বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ‘ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থা’কে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল বলে জোর আলোচনার মধ্যেই তাঁর এ বক্তব্য এল। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

পল নার্স বলেছেন, এ পুরস্কার প্রদানের জন্য বিশেষ ব্যক্তিকে নির্বাচন করাই চালিয়ে যাওয়া উচিত, কোনো দল বা প্রতিষ্ঠানকে নয়। তিনি বলেন, ‘অনেক সময়ই বড় দল যুক্ত থাকে, কিন্তু ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দিলে যে প্রভাব পড়ে, দল বা ব্যক্তিবর্গকে স্বীকৃতি দিলে তা হয় না।’

পদার্থবিদ্যার নোবেল ও সার্নের ৪ বিজ্ঞানী

ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থা সার্নের (সিইআরএন) সাম্প্রতিক আবিষ্কারে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা রাখে বিজ্ঞানী পিটার হিগস ও ফ্রাসোয়া অঁলোর তত্ত্ব। পদার্থের ভর সৃষ্টিতে একটি ক্ষুদ্র কণার অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেন তাঁরা। ‘হিগস-বোসন’ কণা নামে পরিচিতি পাওয়া এ কণাটিকে অনেকে ‘ঈশ্বর কণা’ হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন।

এ অবদানের জন্যই চলতি মাসে সুইডেনের রাজার হাত থেকে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারটি নেন যুক্তরাজ্যের পিটার হিগস ও বেলজিয়ামের ফ্রাসোয়া অঁলো।

তবে পরমাণুর ভর সৃষ্টির ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরও চার বিজ্ঞানী। কয়েক হাজার বিজ্ঞানীর সমবেত প্রচেষ্টায় ‘লার্জ হার্ডন কোলাইডর’ নামে সার্নের বিশাল গবেষণাগারে কয়েক বছর ধরে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০১২ সালে এ নিয়ে সাফল্যের ঘোষণা দেন ওই বিজ্ঞানীরা।

ওই চার বিজ্ঞানীর একজন অধ্যাপক কার্ল হেগেন এ বছরের এপ্রিলে বিবিসিকে বলেন, আবিষ্কারটির বিষয়ে সার্নের ঘোষণা প্রচারের পর পিটার হিগসকে ‘রক তারকার মতো’ সংবর্ধনা দেন সবাই, কিন্তু বাকিদের স্বীকৃতি নেই বললেই চলে।

এ বছরের পুরস্কার ঘোষণার অনেক আগেই হেগেন মন্তব্য করেছিলেন, নোবেল না পেলেও কিছু মনে করবেন না তিনি। তবে তিনি বলেন, ‘কিন্তু একটা অংশকে পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে এ বিষয়টি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া হয় যে আমরা সবাই কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদানে এ আবিষ্কারে ভূমিকা রেখেছি।’

জেনেভায় সার্নের গবেষণাগারে লার্জ হার্ডন কোলাইডরে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা

আলফ্রেড নোবেলের সময়ে বিজ্ঞানের চর্চা এমন ছিল না
নোবেল পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া সংস্কারের পক্ষে অনেকেই জোর দাবি তুললেও নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়মানুযায়ী কোনো বিষয়ে যুগপত্ভাবে তিন জনের বেশি ব্যক্তিকে নোবেল দেওয়া হয় না।

এ ছাড়া বিজ্ঞানের গবেষণায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ বলছেন এ রীতিও পরিবর্তন করা উচিত। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সার্ন পরিচালিত ‘লার্জ হার্ডন কোলাইডরে’ হাজারো বিজ্ঞানীর যুগপত্ অবদানের বিষয়টিকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেই এ দাবিতে জোর দিচ্ছেন তারা।

সার্নকেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করে মার্কিন বিজ্ঞান-ব্লগার ড. অ্যাশ জোগালেকার বলেন, ‘১১৩ বছর আগে আলফ্রেড নোবেল যখন নোবেল পুরস্কার চালু করেন তখন বিজ্ঞানের চর্চা অনেক ভিন্ন ছিল। মূলত ব্যক্তি পর্যায়েই এ চর্চা হতো এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক দলগত প্রয়াসও ছিল খুব কম এবং তা করা হত অনেক অল্প ব্যয়েই।’

জোগালেকার আরও বলেন, ‘কিন্তু এর বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক অগ্রসর বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের কাজই এখন দলগত প্রচেষ্টায় হয়। বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের বড় বড় দলের অংশগ্রহণে এটা হয়ে থাকে।’

নিজেও নোবেল পুরস্কার পাওয়া রয়্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট স্যার পল নার্স অবশ্য বলেছেন, ড. জোগালেকারের যুক্তিটি ‘অর্থবহ’। কিন্তু এর পরও একটা ‘কিন্তু’ আছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুইডেনের রাজার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এবং সবগুলো ক্যামেরা আপনার দিকেই তাক করা তখন আপনি সার্নকে স্বীকৃতি দিতে পারবেন না। সেখানে যদি আপনারা ২০ জন থাকেন, তাহলে এ বিষয়ে সত্যিকারের অর্জনের অধিকারী এক, দুই বা তিনজনের বিষয়টি আর সামনে আসবে না।’

সৃজনশীলতার পুরস্কার ব্যক্তিরই

১৯৯৭ সালে নোবেল পুরস্কার লাভকারী অধ্যাপক স্যার জন ওয়াকার রয়্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেকটাই একমত। তিনি মনে করেন ব্যক্তির সৃজনশীলতা থেকেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সূচনা হয় এবং তা অন্যদের উত্সাহিত করে।

‘ক্যামব্রিজে চারদিকে নোবেল বিজয়ীদের মাঝে ছিলাম আমি। তাঁদের মধ্যে নির্দিষ্ট একজনই আমাকে প্রভাবিত করেছিলেন এবং তিনি ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার। আমি তাঁর কাছে যাই এবং তাঁকে আমার ভাবনার কথা বলি। তিনি আমাকে বলেন, তুমি কেন এটা নিয়ে পড়ে থাকছ না। আমি তাই করি এবং আমার জীবনের পরবর্তী ৩৫ বছরের গতিপথ এভাবেই নির্দিষ্ট হয়ে যায়।’

রয়্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট স্যার পল নার্স আরও জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তির নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি একটা জাতিকে অনেক কিছু দেয়। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানে উন্নত একটা জাতির অনন্য মেধাবীরাই এটা পেয়ে থাকেন। দ্বিতীয়ত, আমরা বিশ্ব সংস্কৃতিতে সংযোজন ঘটাচ্ছি। আপনি কী কখনো প্রশ্ন করবেন, যে শেক্সপিয়ারের গুরুত্ব কী ছিল?’

 

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে