Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩১-২০২০

শরীয়তপুরে ৭০ হাজার পরিবারের ঈদ কাটবে পানিবন্দি অবস্থায়

বেলাল হোসাইন


শরীয়তপুরে ৭০ হাজার পরিবারের ঈদ কাটবে পানিবন্দি অবস্থায়

শরীয়তপুর, ৩১ জুলাই- শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার গ্রামের দিনমজুর সইজদ্দি সরদার (৭০)। স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন ছেলের বউ ও ছয় নাতী-নাতনী নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন।

এবারের বন্যায় তাদের বাড়ির উঠানে দুই ফুট পানি। তার পরিবারে এবারের ঈদ কাটবে পানিবন্দি অবস্থায়। শুধু সইজদ্দিনই নয়, তার মতো জেলার ৭০ হাজার পরিবারের ঈদ কাটবে পানিবন্দি অবস্থায় এবং ৫০০ পরিবারের ঈদ কাটবে আশ্রয় কেন্দ্রে।   

শরীয়তপুরে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলছে বন্যা। বন্যার সঙ্গে শুরু হয়েছে পদ্মার ভাঙন। শরীয়তপুরে পদ্মার পানি সর্বোচ্চ বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এখন কিছুটা কমে ২০-২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এতে জেলার জাজিরা, নড়িয়া, সদর ও ভেদরগঞ্জ এই চার উপজেলার দুই পৌরসভা ও ৪৮টি ইউনিয়নের ৭০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ফসল। শরীয়তপুর-ঢাকা ও নড়িয়া-জাজিরা সড়কসহ অনেক কাঁচাপাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  

জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় সচল ৫ হাজার ২৪৩টি গভীর নলকূপের মধ্যে ২৭২টি তলিয়ে গেছে এবং ১৬৫টি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে ৪৯০টি পরিবারের আড়াই হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ১১ প্রাণ

বন্যা মোকাবিলায় চার উপজেলায় ২২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। নগদ দুই লাখ টাকা, ৬০০ মেট্রিক টন চাল, চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৫৩৬ প্যাকেট শিশু খাদ্য, গো-খাদ্যের জন্য তিন লাখ ২০ হাজার টাকা, ১০০ বান্ডেল ডেউটিন ও ঘর মেরামতের জন্য বান্ডেল প্রতি ৩ হাজার করে মোট তিন লাখ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে ২৬ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে ৪২২টি পরিবার। এতে মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। নদী ভাঙনের শিকার ১৫০ পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা দুর্গত ও নদী ভাঙা মানুষের জন্য ৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু, নগদ এক লাখ টাকা, ৩১০ মেট্রিক টন চাল, ১৫শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার, ২০০ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  

নড়িয়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ২৫ হাজার ৭০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পদ্মায় ভাঙনের শিকার হয়েছে ৩৯টি পরিবার। এতে আক্রান্ত মোট এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। উপজেলায় ৩৫০ পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।  

বানভাসি মানুষের জন্য ৩৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু, নগদ এক লাখ টাকা, ১৬০ মেট্রিক টন চাল, ১৫শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার, ২শ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যে জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  

সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬০ হাজার মানুষ। বন্যার্তদের জন্য, ১০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু, ৯০ মেট্রিক টন চাল, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৮০ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। এছাড়া ২৭টি পরিবার ও একটি বাজারের ২০টি দোকান নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ হাজার মানুষ। বন্যা দুর্গতদের জন্য ৩৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু, ৪০ মেট্রিক টন চাল, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৫৪ প্যাকেট শিশু খাদ্য, গোখাদ্যের জন্য ১০ হাজার টাকা, ১০০ বান্ডেল ঢেউটিন, ঘর মেরামতের জন্য বান্ডেল প্রতি ৩ হাজার করে মোর ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ৬৫টি নলকূপ উচুকরণ, ১২৭টি নলকূপ মেরামত, চারটি নলকূপের জীবানুমুক্তকরনণ, আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫টি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বানভাসি মানুষের মধ্যে ৫০ হাজার ৩৫০ প্যাকেট পানি বিশুদ্ধকরণ পাউডার, ১০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ২০টি জেরিক্যান বিতরণ করা হয়েছে।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আমির হামজা জানান, বন্যায় জেলার ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমির আবাদী ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমন বীজতলা ৯২ হেক্টর, রোপা আমন ২৪৮ হেক্টর, আউস ১৩৫০ হক্টর, বোনা আমন ১৫৮০ হেক্টর, পাট ৩১০ হেক্টর, শসকসবজি ৩৪৭ হেক্টর, আখ ৭৫ হেক্টর, পান ১৮ হেক্টর ও ফলবাগান ৩০ হেক্টর।  

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম. আহসান হাবীব জানান, শুক্রবার (৩১ জুলাই) শরীয়তপুরের নড়িয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে জেলার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।  

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষন ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত নগদ ২ লাখ টাকা, ৬০০ মেট্রিক টন চাল, ৪ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৫৩৬ প্যাকেট শিশু খাদ্য, গোখাদ্যের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, ১০০ বান্ডেল ডেউটিন ও ঘর মেরামতের জন্য বান্ডেল প্রতি তিন হাজার করে মোট তিন লাখ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ
এম এন  / ৩১ জুলাই

শরীয়তপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে