Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩১-২০২০

মির্জাপুরে সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে ঈদ কাটবে ৭০ পরিবারের

মির্জাপুরে সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে ঈদ কাটবে ৭০ পরিবারের

টাঙ্গাইল, ৩১ জুলাই- টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বন্যার কারণে ৭০টি দরিদ্র পরিবারের ঈদ কাটবে বংশাই নদীতে নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানিতে নিমজ্জিত বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর দুর্ভোগ কমেনি। খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

মির্জাপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় বংশাই ও ঝিনাই নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবু দুর্ভোগ কমেনি বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত দরিদ্র মানুষগলোর।

উপজেলা সদরে পুষ্টকামুরী পূবৃপাড়া (সওদাগরপাড়া) বন্যার পানিতে অধিকাংশ বাড়িঘর নিমজ্জিত হয়ে গেছে।

এতে ওই পাড়ার অন্তত ৭০টি পরিবার বংশাই নদীর ওপর নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত ওখানে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বাস করছেন। কখনো রোদে পুড়ছে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

শুক্রবার সরেজমিনে ওই এলাকার মানুষগুলোর দুর্ভোগের কথা জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশাই নদীর পাশে দুই শতাধিক দরিদ্র মানুষের বাস। যাদের অধিকাংশেরই পেশা ছাতা ও গ্যাসলাইটার মেরামত। আর ফেরি করে কাচের জিনিস বিক্রি করা। অনেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা মূলত বেদে পরিবারের বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পাটের মতো চামড়া শিল্পও ধ্বংস করা হচ্ছে: রিজভী

ওই এলাকার বাবলী। বন্যার পানিতে ঘর ডুবে যাওয়ার পর তিনি স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে প্রায় ১২ দিন আগে আশ্রয় নেন একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর।

বাবলীর স্বামী আসাদ গ্যাসলাইটার ও ছাতা মেরামত করেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির জন্য কয়েক মাস ধরে তেমন কাজ নেই। তার ওপর বন্যা। বাড়ি ছেড়ে সেতুর ওপর ঠাঁই নেওয়ার পর কোনোরকমে সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না–খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বাবলী জানান, ঘর ছেড়ে আসার পর দিনে দুবেলা খান তারা। গতকাল সরাদিন ‘বনরুটি’ খেয়ে থেকে বিকেলের দিকে আলুভর্তা আর ভাত খান। রাতে পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রতিটা দিনই কাটছে এমনিভাবে।

বাবলীদের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়ে ওই এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৭০টি পরিবারের মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সেতুটির ওপর।

সবারই দিন কাটছে মোটামুটি বাবলীদেরই মতো। বন্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দু-একটি সাইকেল, ভ্যান ছাড়া সেতুটি দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এ কারণে তারা সেতুটিতে আশ্রয় নিতে পেরেছে।

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ১১ প্রাণ

সেতুটির ওপরে দুই পাশে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় ৭০টি ছোট ছোট পৃথক ছাউনি রয়েছে। সেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়স্থলে ছোট ছোট শিশুরা খেলা করছে। অনেক শিশু চৌকিতে ঘুমাচ্ছে। বড়দের অনেকে ক্লান্ত শরীরে গবাদিপশুর সঙ্গে একই ছাউনিতে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন।

বৃদ্ধ সোনাভানু বলেন, পরাই ১০ দিন ধইর‌্যা এনে আইছি। খ্যায়া না খ্যায়া দিন কাটাইতাছি। একবার একজনে আয়্যা কয়ডা চ্যাল দিল। তারপর আর কেউ খবর নিল না। কাম নাই। ভালো খাওন নাই। খালি ঘুম আর ঘুম। খালি প্যাটে তো ঘুমও আহে না।’

গরু-ছাগল নিয়ে সেতুটিতে আশ্রয় নিয়েছেন ছমন মিয়া। তিনি সেই গবাদিপশুর সঙ্গে একই পলিথিনের ছাউনিতে ঘুমাচ্ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, সেতুর ওপর আশ্রয় নেওয়া লোকদের সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এম এন  / ৩১ জুলাই

টাঙ্গাইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে