Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৭-২০২০

পরিত্যাক্ত ঘোষণার পরও সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

পরিত্যাক্ত ঘোষণার পরও সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

বাগেরহাট, ২৭ জুলাই- বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা খালের পরিত্যাক্ত ঘোষণা হওয়া সেই সেতু দিয়ে আবার শুরু হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল। পাশের বিকল্প কাঠের সেতুটি ১৬ দিন আগে একটি কার্গোর ধাক্কায় ভেঙে যাওয়ায় পরিত্যাক্ত ওই সেতুই এখন মানুষের একমাত্র ভরসা। কাঠের সেতুটি মেরামতের নামে খুলে রাখা হয়েছে প্রায় একসপ্তাহ। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে জেনেও নিরুপায় হয়ে প্রতিদিন রায়েন্দা বাজারের ব্যবসায়ীসহ দুটি ইউনিয়নের শত শত নারী-পুরুষ, শিশু চলাচল করছে পরিত্যাক্ত সেতু দিয়ে।

রায়েন্দা ও খোন্তাককাটা ইউনিয়েনর মানুষের সহজ চলাচলের জন্য নব্বইয়ের দশকে রায়েন্দা খালের ওপর লোহার পিলার ও আরসিসি ঢালাইয়ের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ধীরে ধীরে লোহার পিলার নোনায় ধরে ক্ষয় হতে থাকে। তিন মাস আগে পিলার সরে গিয়ে সেতুটি একদিকে হেলে পড়ে। এর পর উপজেলা প্রশাসন সেতুটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিকল্প হিসেবে ওই সেতুর পাশেই নির্মাণ করা হয় আরেকটি কাঠের সেতু। কিন্তু বিকল্প ওই সেতুটিও গত ১২ জুলাই দুপুরে একটি বালু বোঝাই কার্গো জাহাজের ধাক্কায় মাঝখান থেকে ভেঙে যায়। সেই থেকে আবার ওই পরিত্যাক্ত সেতুটি খুলে মানুষ চলাচল শুরু করে। কাঠের সেতুর ভাঙা অংশ মেরামতের নামে আজ প্রায় একসপ্তাহ ধরে খুলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ।

এই সেতু নিয়ে কলের কণ্ঠ অনলাইন এবং প্রিন্ট ভার্সনে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এলাকাবাসী দাবি জানায় স্থায়ী আরসিসি পিলারের সেতু নির্মাণের। কিন্তু আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে, দুই ইউনিয়নের মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।

অপরদিকে, শরণখোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কলেজ মোড় থেকে রাজৈর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত কাঁচা সড়কে হাঁটু সমান কাদা। খালের পাশ থেকে চলার ইটের রাস্তাটিও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বিকল্প ওই সড়ক দুটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলতে হচ্ছে সবাইকে।

সোমবার দুপুরে দুই মাসের শিশু সন্তান নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হচ্ছিলের পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের সালেহা বেগম। এ সময় তিন বলেন, ব্রিজে উঠলেই থর থর কাপতে থাকে। মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে। তার পরও রায়েন্দা বাজারে কাজের প্রয়োজনে আসতে হয়েছে। ওয়াপদার রাস্তায় কাদা তাই অন্য কোনো উপায় না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পার হতে হচ্ছে।

রায়েন্দা বাজারের ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন, খোকন শিকদার, বাদল আকনসহ অনেই জানান, রায়েন্দা খালের এই সেতুটি বাজারের ব্যবসায়ীসহ দুই ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। প্রায় ১০বছর ধরে সেতুটির পিলার নষ্ট হয়ে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সেতুর যা অবস্থা তাতে যেকোনো সময় ধসে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল্প কাঠের সেতুটি দ্রুত মেরাত এবং এই খালের ওপর আরসিসি পিলারের সেতু নির্মাণের দাবি জানান ওই ব্যবসীরা।

খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, কাঠের সেতুটি নির্মাণ করতে উপজেলা পরিষদ এবং রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দিয়েছে মাত্র দুই লাখ টাকা। তাছাড়া, তার পরিষদ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তিনি। মিস্ত্রির অসুস্থতার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। ইদের আগেই মেরামত সম্পন্ন করা হবে।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, ব্রিজ দুটি নিয়ে মানুষ খুবই দুর্ভোগে আছে। ভাঙা সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা এলজিইডি বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান মিনা বলেন, রায়েন্দা খালের দুই পারে জায়গা কম থাকায় অ্যাপ্রোস সড়ক করা যাচ্ছে না। তাই এখানে আরসিসির পরিবর্তে স্টিল ব্রিজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। রমজানের ইদের পর ঢাকা এলজিইডি সদর দপ্তর থেকে সয়েল টেস্টের জন্য কনসালটেন্ট টিম আসার কথা ছিল। তারা এখন পর্যন্ত আসেনি। সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হলেই পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে