Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৭-২০২০

কুড়িগ্রামে দুর্ভোগে বানভাসিরা

কুড়িগ্রামে দুর্ভোগে বানভাসিরা

কুড়িগ্রাম, ২৭ জুলাই - দ্বিতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের বানভাসিরা। এক মাস ধরে বানের পানিতে ভাসছে কয়েকশ গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে আছেন কয়েক হাজার পরিবার। বাঁধ-সড়কে আশ্রয় নিয়ে আছেন বানভাসি মানুষ। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি আর পয়:নিষ্কাশন সমস্যায় দুর্বিসহ হয়ে উঠছে তাদের জীবন।

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা, গঙ্গাধর, নীলকোমল, কালজানি, বোয়ালমারী, ফুলকুমার, শিয়ালদহ, সোনাভরি, হলহলিয়া, জিঞ্জিরাম, ধরণী, হলহলিয়া ও জালছিড়া-এই ১৬ নদ-নদী বিধৌত এই জেলা। এর মধ্যে জিআরসি স্বীকৃত অভিন্ন নদ-নদী হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও জিঞ্জিরাম। ফলে বৃষ্টিপাতের সাথে এসব নদী দিয়ে উজানের ঢল নেমে আসায় উপুর্যুপরি দু’দফা বন্যা আঘাত হেনেছে জেলায়।  

জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার বন্যা ১০ দিন স্থায়ী ছিল। এই বন্যার পানি সরে যেতে না যেতেই গত ১১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়েছে। এই বন্যায় জেলার ৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৬টি ইউনিয়নের ৪৭৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে পানিবন্দী হয়ে আছেন প্রায় ৬২ হাজার ৬৩০ পরিবারের ২ লাখ ৫০ হাজার ৫২০ মতো মানুষ। এ অবস্থায় বাড়িঘর ছেড়ে ১৩২ টি আশ্রয় কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২২ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন।

আরও পড়ুন: নদীগর্ভে বিলীন কুড়িগ্রামের ৬ স্কুল, প্লাবিত ৪৯৪

এছাড়া বন্যায় এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের মতো বাড়িঘর কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪৪টি। সড়ক ৩৭ কিলোমিটার ও বাঁধ ৩২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ৪১ হাজার ৫৭৯টি নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোতে পানি কমতে থাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা কবলিত এলাকাগুলো এখনও পানিতে ভাসছে। বাড়িঘরে কোথাও বুক সমান-কোথায় কোমর সমান পানি থাকায় পানিবন্দী দশা থেকে মুক্তি পাননি বানভাসিরা। আর বাড়িঘর ছেড়ে বাঁধ ও রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে পারছেন না।  

রোববার সকালে ধরলা নদীর ফেরীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।  

পাশাপাশি, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় অবস্থিত ২০০ মিটার সলিড স্পারের ব্লক পিচিং করা ৫০মিটার স্যাঙ্ক পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। গাবুর হেলান গ্রামে স্পার ভাঙনের কবলে পড়েছে।

 জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ১৯০ মেট্রিক টন জিআর চাল, শুকনা খাবার বাবদ জিআর ক্যাশ ১৩ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য বাবদ ৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য বাবদ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা হিসেবে ৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে করে বন্যা আক্রান্তসহ দু:স্থ এবং অসহায় ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫৩৫টি পরিবারকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আর জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ৮ জনই শিশু।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২৭ জুলাই

কুড়িগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে