Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১১ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৩-২০২০

‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

টাঙ্গাইল, ২৩ জুলাই- ‘কসাই সাত্তার ও রেজাউল ডাক্তার আমার পোলাডারে মাইরা ফালাইছে। আমার সোনারচান কলিজার টুকরা জলোজ্যান্ত ছেলেডারে ওরা কেমনে কইরা মাইরা ফেলাইলো। আমার বুকের ধন ছাড়া আমি কেমন বাচুম। আমার পোলারে ইঞ্জিনিয়ার বানামু ওর বাপের কত স্বপ্ন ওকে নিয়া। এহন কে আমারে মা কইব।’

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়া উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দেওবাড়ি গ্রামের সৌরভের মা লুপা বেগম (৪০) ছেলের লাশের পাশে আহাজারি করে এসব কথা বলছিলেন।

সৌরভের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে তারই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মধ্যেও।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৌরভ আহমেদ লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। বাবা শাহাদত হোসেন পরিবারের খরচ যোগাতে পারি জমান প্রবাসে। ৪ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে সামান্য জ্বর আর বমির ভাব নিয়ে ভর্তি হন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে। পর দিন ৫ জুলাই দুপুর ১টার দিকে সৌরভের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ছুটি নিয়ে হাসপাতালের বাহিরে বের হলেই তারা লাইফ কেয়ার ক্লিনিকের দালাল রিনা আক্তারের খপ্পরে পড়েন। একরকম টেনে হিচড়ে ভালো চিকিৎসার কথা বলে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করান।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, খবর পেয়ে ছুটে আসেন ওই ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক আবদুস সাত্তার ও ডি আই রেজাউল করিম। এসেই তারা জানান সৌরভের অ্যাপেন্টিসাইড হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন না করালে তাকে বাঁচানো যাবে না। রক্তের গ্রুপ ছাড়া আর কোনো টেস্ট না করিয়েই ওই দুই চিকিৎসক দুপুর ২টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান সৌরভকে। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় অপারেশন শেষ হয়।

পরিবারকে জানানো হয় দ্রুত চার ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেন। ওর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে রক্ত না দিলে বাঁচানো যাবে না। ৭ জুলাই পর্যন্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে লাইফ কেয়ার নিজ দায়িত্বে সৌরভকে টাঙ্গাইলের মুক্তা ক্লিনিকে নিয়ে যান। ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে বুঝেই মুক্তা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সৌরভকে ফেরত পাঠান। পরে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন ভুল চিকিৎসার কারনে সৌরভের এ অবস্থা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে থাকা লাইফ কেয়ারে কর্মরত ব্রাদার নজরুল ইসলাম প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পালিয়ে যান। দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল বুধবার রাতে মারা যায় সৌরভ।

নিহত সৌরভের মা লুপা বেগম খুনি ডাক্তার সাত্তার ও রেজাউল করিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মেধাবী ছাত্র সৌরভে ভুল চিকিৎসা করে যারা মেরে ফেলছেন অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’

ভুল চিকিৎসার কারণে সৌরভের মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডিআই রেজাউল করিম ও আবদুস সাত্তার। তারা বলেন, সৌরভের অ্যাপেন্টিসাইডের অপারেশন করার পরই বুঝতে পেরেছি তার ব্ল্যাড ক্যান্সার হয়েছে। পরে আমাদের নিজ খরচে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জানলেও লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র : আমাদের সময়

টাঙ্গাইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে