Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (78 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৫-২০১৩

দক্ষিণ সুদানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ

দক্ষিণ সুদানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ

নিউ ইয়র্ক, ২৫ ডিসেম্বর- দক্ষিণ সুদানে গত সপ্তাহের সহিংসতায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিটি রাজ্যের বেনতিউয়ে অবস্থানরত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ সমন্বয়কারী তবি লানজের বিবিসিকে গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানান।

এদিকে দক্ষিণ সুদানে সহিংসতায় সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নৃশংসতার তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সেনারা গণহত্যার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ জাতিগোষ্ঠীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্ষণ ও লুটপাট চালিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন।

তবি লানজের বলেন, দক্ষিণ সুদানের জন্য গত সপ্তাহটি ছিল ধ্বংসাত্মক, ভয়ংকর। এর আগে প্রেসিডেন্ট সালভা কির বলেন, তাঁর সৈন্যরা রাজ্যের প্রধান শহর বোরের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। গত সপ্তাহে বিদ্রোহীরা এ শহরটি দখল করেছিল।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। দুজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেন, তাঁরাসহ প্রায় ২৫০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল সরকারি বাহিনী। সবাইকে রাজধানী জুবার একটি থানায় নিয়ে নির্বিচারে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়। তাঁরা দুজন গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে তাঁরা থানা থেকে পালিয়ে জুবায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন।

আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। তাঁদের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিশ্বের সর্বশেষ স্বাধীন এই দেশটিতে ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নৃশংসতার নানা চিত্র। লড়াইয়ের এক পক্ষে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত সেনারা এবং অপর পক্ষে গত জুলাইয়ে বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাচারের অনুগতরা।

প্রেসিডেন্ট কিরের অভিযোগ, মাচার তাঁর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে মাচারের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালাতে বাহিনীর ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে রাজধানী জুবার উত্তরা-ঞ্চলীয় কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ মাচারের অনুগত বিদ্রোহীদের হাতে রয়েছে।

ঘটনার শিকার ওই দুই ব্যক্তি জানান, নুয়ের গোত্রের বাসিন্দা বলেই তাঁরা সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাচার এই গোত্রেরই বাসিন্দা। যে সেনারা এসব হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তারা দিনকা গোত্রের। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গোত্রেই প্রেসিডেন্ট কিরের জন্ম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কেননা, খুব কম সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীকেই শহরে মুক্তভাবে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে।

যে থানায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ উঠেছে, সেটি জুবার গুয়েদেলে এলাকায় অবস্থিত। সাংবাদিকেরা ওই থানায় পরিদর্শনের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের ফিরিয়ে দেন। অবশ্য, ওই এলাকায় গেলেই হত্যাকাণ্ড চালানোর বিষয়টি কিছুটা আঁচ করা যায়। মৃত্যুর পর যে পূতিগন্ধ টের পাওয়া যায়, তার ব্যাপক উপস্থিতির পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি উড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া থানা ভবনের দেয়ালে প্রচুর গুলির চিহ্ন রয়েছে।

আফ্রিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে