Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৭ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৬-২০২০

অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ধাপের ট্রায়ালে ‘ডাবল সুরক্ষা’

অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ধাপের ট্রায়ালে ‘ডাবল সুরক্ষা’

যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার পর নিজেদের ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের ট্রায়ালে সফল হওয়ার কথা জানালো ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। বিশ্বখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিষেধকটি যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা ‘ডাবল সুরক্ষা’ দিতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, অক্সফোর্ড তাদের প্রথম ধাপের ট্রায়ালের ডেটা চিকিৎসাশাস্ত্র-বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করবে।

ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রায়ালে যাদের টিকাটি দেয়া হয়েছিল তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে প্রতিষেধকটি ‘টি-সেলের’ জন্য যেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তেমনি ভাইরাস প্রতিরোধী কার্যকর অ্যান্টিবডিও তৈরি করছে। এই দুটি বিষয়কেই গবেষকেরা ‘ডাবল ডিফেন্স’ বলে মন্তব্য করেছেন।

একজন মানুষ যখন কোনো ভাইরাসে সংক্রমিত হন, তখন শরীর ওই ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে রক্তে যে উপাদান তৈরি করে তাকে অ্যান্টিবডি বলা হয়। কভিড-১৯’র ক্ষেত্রে অনেকের শরীরে আপনা-আপনি অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। অনেকের আবার হচ্ছে না, এদের জন্যই মূলত টিকা দরকার।

একইভাবে আমাদের ‘অভিযোজিত’ রোগপ্রতিরোধক ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘টি-সেল’।

অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বি-সেল দ্বারা। টি-সেল কিছুটা অন্য রকম। এরা অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ভাইরাসে সংক্রমিত মানবকোষকে ‘আক্রমণ’ করে। হাম এবং সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই সেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একজন মানুষ যখন সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠেন, তখন তার শরীরে সে সেল থেকে যায়, তাকে চিকিৎসকেরা ‘মেমোরি’ সেল বলেন। ভাইরাস আবার আমাদের আক্রমণ করলে এরা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকে।

‘কোনো টিকা ইমিউন সিস্টেমের এই দুটি অংশ তৈরি করতে পারলে, সেটি দারুণ হবে,’ মন্তব্য করে ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের ভাইরোলজিস্ট প্রফেসর জোনাথন বল বলেন, ‘যে টিকা একটি তৈরি করতে পারছে, তার থেকে দুটি তৈরি করাটি অবশ্যই ভালো হবে। আর তাকেই মূলত সফল ভ্যাকসিন বলা হয়।’

অক্সফোর্ড গত এপ্রিলে তাদের টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে। সেই থেকে বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, অক্টোবরের ভেতর টিকাটি আনা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রাণীর শরীরে একটি ট্রায়ালে এই টিকা কিছুটা নেতিবাচক ফল দেখায়। সেটি নিয়ে এতদিন চিন্তা ছিল অক্সফোর্ডের।

প্রাথমিক ধাপে ৫০০ মানুষের শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করার পর চূড়ান্ত ধাপে ৫ হাজার মানুষকে যুক্ত করা হয়েছে। এই ধাপের ট্রায়াল হচ্ছে ব্রাজিলে।

প্রথম ধাপের ডেটা বিশ্লেষণে অক্সফোর্ডের এই টিকায় বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

নতুন রোগের ভ্যাকসিন অধিকাংশ সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয় না। তাই তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। এই ধাপে অনেক মানুষকে যুক্ত করা হয় বলে নিরাপত্তার বিষয়টিও ভালো বোঝা যায়। অক্সফোর্ডের আশা, তৃতীয় ধাপেও সফল হবে তাদের ভ্যাকসিন।

এম এন  / ১৬ জুলাই

গবেষণা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে