Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৩-২০২০

আয়া সোফিয়াকে মসজিদ করা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুরস্কে

আয়া সোফিয়াকে মসজিদ করা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুরস্কে

আঙ্কারা, ১৩ জুলাই- পর্যটকদের কাছে তুরস্কের অন্যতম আকর্ষণ আয়া সোফিয়া। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে যান। কেবল অনন্য এক স্থাপত্যশিল্পই নয়, এটি পরিণত হয়েছে তুরস্কের রাজনীতির প্রতীকেও।

বাইজেনটাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময় আয়া সোফিয়া নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৪৫৩ সালে অটোমানরা কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর দ্বিতীয় সুলতান মেহমেদ গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন।

আধুনিক তুরস্কের স্থপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক এটি জাদুঘরে পরিণত করেন ১৯৫৩ সালে। এরপর থেকে অসাম্প্রদায়িক তুরস্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় আয়া সোফিয়াকে।

এই পরিচয়ে আবারো পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এরদোয়ানপন্থিরা বরাবরই আয়া সোফিয়াকে কনস্টান্টিনোপলের খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ইসলামের শেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে দেখেন। 

কামাল আতাতুর্কের সিদ্ধান্তকে উল্টে দিয়ে সেটি আবারো মসজিদে রূপান্তরের দাবি ছিল তাদের। সেই চিন্তাকে এবার বাস্তবে রূপ দেয়ার পথে হাঁটছেন এরদোয়ান।

১৯৩৫ সালে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আতাতুর্ক যে নির্দেশ জারি করেছিলেন, তা বৈধ ছিল কি না; বৃহস্পতিবার তা নিয়ে বসবে তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত, দ্য কাউন্সিল অব স্টেট।

এরদোয়ানের রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (একেপি) ডেপুটি চেয়ারম্যান নুমান কর্তুলমুস এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আয়া সোফিয়া আমাদের ভৌগলিক সম্পত্তি। তলোয়ার দিয়ে যারা এটি জয় করেছেন এই সম্পত্তির অধিকার তাদেরই।

নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী একেপি। তার অংশ হিসেবে গত মাসে ১৪৫৩ সালে অটোমানদের কন্টানটিনোপল (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) জয়ের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়া সোফিয়ার ভেতরে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এরদোয়ানের এই উদ্যোগকে একেপির ভোটার আকর্ষণের কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। কেননা বেশ কিছু জরিপে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলটির জনসমর্থন হারানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

যদিও এ ধরনের উদ্যোগ সেখানে বড় ধরনের বিরোধেরও জন্ম দিতে পারে। ইস্টার্ন গির্জার প্রধান প্রথম পেট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, আয়া সোফিয়া মানব সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক স্থাপনা। এটি কারো একক সম্পত্তি নয়।

আয়া সোফিয়াকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার বিরোধিতা করেছেন ইস্তাম্বুলের গ্রিক বংশোদ্ভুতদের সংগঠনের প্রধান নিকোলাস উজোনোলুও।

তিনি মনে করেন, এই স্থাপনা ধর্ম এবং সভ্যতার মধ্যে স্বাধীনতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। একে ‘তলোয়ারের বিজয়' হিসেবে দেখানো সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

আয়া সোফিয়াকে নতুন করে পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন দেখেন না দেশটির ইতিহাসবিদেরাও। ইস্তাম্বুলে বোয়াজিসি  বিশ্ববিদ্যালয়ের এডহেম এলডেম বলেন, সারা পৃথিবীতে এমন হাতে গোনা কয়েকটি নিদর্শন রয়েছে, যা রক্ষা করা উচিত। আয়া সোফিয়া সর্বজনীন এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বিশ্বের কাছে তা তুলে ধরারই পক্ষপাতী তিনি।

ধর্মতত্ত্ববিদ এহসান এলিয়াচিক বলেন, আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের পেছনে ধর্মীয় কোনো যৌক্তিকতা নেই। তলোয়ার দিয়ে জয়ের মাধ্যমে কোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জোরপূর্বক দখল করা কোরআনে নিষিদ্ধ বলেও মত দেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গ্রিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বলেছেন- অনুগ্রহ করে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করবেন না। তুরস্ক কি আপনাদের কথায় চলবে? আমরা কাউন্সিল অব স্টেটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সূত্র: ডয়চেভেলে

আর/০৮:১৪/১৩ জুলাই

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে