Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৩-২০২০

সাহেদ চক্রে পাপিয়াও!

সাহাদাত হোসেন পরশ


সাহেদ চক্রে পাপিয়াও!

ঢাকা, ১৩ জুলাই- অভিযুক্ত প্রতারক মো. সাহেদ ২০১৬ সালের দিকে উত্তরায় রিজেন্ট ক্লাব গড়ে তোলেন। এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল নরসিংদীর যুবলীগের সাবেক আলোচিত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার। তবে পাপিয়া ওই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। এজন্য তার মনোনীত একজন প্রতিনিধি পাঠান। পাপিয়ার পাঠানো ওই তরুণীকে নিয়েই রিজেন্ট ক্লাব উদ্বোধন করেছিলেন সাহেদ। ক্লাবের আড়ালে সেখানে মূলত মদ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আসর বসানো হতো।

সাহেদের প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মী জানান, সাহেদের চক্রে পাপিয়াও ছিলেন। এটা ছিল ওপেন সিক্রেট। ঢাকার একটি থ্রি-স্টার হোটেলের প্লাটিনাম মেম্বার সাহেদ। ওই হোটেলের ছাদে একাধিক পার্টিতে সাহেদ আর পাপিয়া উপস্থিত ছিলেন। একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছোট-বড় আর ছিঁচকে সব ধরনের প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন সাহেদ। অবৈধ রিকশার লাইসেন্স দিয়ে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অবৈধ লাইসেন্স দিয়ে প্রতি রিকশাবাবদ এককালীন দুই হাজার টাকা নিতেন সাহেদ। আর মাসে ২০০ টাকা নিতেন। প্রায় পাঁচশ'র ওপর রিকশার অবৈধ লাইসেন্স দিয়েছেন তুরাগ এলাকার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নাম ব্যবহার করে। প্রতিটি লাইসেন্সে মালিকের নাম দেওয়া রয়েছে মো. সাহেদ। পিতা সিরাজুল।

অবৈধ রিকশা নিয়ে ঝামেলা হলে তা দেখভাল করার জন্য আলাদা বাহিনীও তার রয়েছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদকের বড় সিন্ডিকেটও ছিল সাহেদের। বিশেষ করে উত্তরা ও গাজীপুর এলাকায় মাদক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এ কাজে তাকে প্রশাসনের একজন বড় কর্মকর্তা সহায়তা করেন। মাদক নিয়ে কোথাও ঝামেলা তৈরি হলে করে ওই কর্মকর্তাই সব সামলাতেন। এ ছাড়া উত্তরাকেন্দ্রিক একজন কথিত সাংবাদিকও সাহেদের মাদক সিন্ডিকেটে জড়িত ছিলেন।

জানা গেছে, সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট ক্লাবেও নিয়মিত মদের আসর বসত। মাসোহারা নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় ২০১৭ সালে ওই ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে বিপুল মদ ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিল শাওন দাস, জহিরুল ইসলাম রনি, মো. সোহান, তানভীর, রিপন ও সোহেল। তবে ওই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানার তৎকালীন ওসি দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও তাতে রহস্যজনক কারণে সাহেদের নাম ছিল না।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলেও সাহেদ বাণিজ্য করতেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করতেন বনশ্রীকেন্দ্রিক একটি ম্যারেজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের এক নারী। মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের যেসব নারী পারিবারিকভাবে কোনো ঝামেলায় থাকতেন তাদের ব্যাপারে সাহেদকে তথ্য দিতেন ওই নারী। এরপর সাহেদ নানা কৌশলে তাদের ব্যবহার করতেন।

সাহেদের প্রতিষ্ঠানের একজন সাবেক সহকর্মী জানান, অবৈধ ওষুধ কারবারেও জড়িত ছিলেন সাহেদ। সাওয়ার ইসলাম অপু নামে একজন এক কাজে তাকে সহায়তা করতেন। রিজেন্টের দুই হাসপাতালের নিচে ফার্মেসির মালিক ওই অপু। অবৈধ ওষুধের কারবার ছাড়াও চিকিৎসা নিয়ে নির্মম বাণিজ্য করত সাহেদ সিন্ডিকেট। গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ধরে রিজেন্টে নিয়ে আসা হতো। এ কাজের জন্য মাসিক চুক্তিতে লোক নিয়োগ করা ছিল তার।

বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী এনে নিয়মিত রিজেন্টে ভর্তি করাতেন জীবন, আবিদ, প্রকাশ, বিকাশসহ কয়েকজন।

রিজেন্ট হাসপাতালের এক সাবেক কর্মী জানান, এখানে আইসিইউ মানসম্পন্ন না হলেও এটা ঘিরেই বড় ধরনের নির্মম বাণিজ্য ছিল সাহেদের। কোনো রোগী মারা গেলেও আইসিইউতে আটকে রেখে স্বজনদের বলা হতো এখনও জীবিত রয়েছেন। বাড়তি টাকা আদায়ের জন্য মৃত রোগীকে জীবিত দেখিয়ে আইসিইউতে রাখা হতো।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো কর্মীকেও ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিতেন সাহেদ। পুলিশকে ম্যানেজ করেই ওই মামলায় কয়েকজনকে ফাঁসানো হতো। রিজেন্টের অনেক কর্মী তার মামলা খেয়ে দেশছাড়া হয়েছেন। কেউ কেউ প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াতেন।

রিজেন্টের সাবেক এক কর্মী জানান, একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অনেক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল সাহেদের। এসব নিয়ে মাঝেমধ্যে টুকটাক ঝামেলায় পড়তেন তিনি। একবার রিজেন্টের হিসাবরক্ষণ শাখার কর্মকর্তা মার্জিয়া আক্তার মুমুকে মারধর করেন সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরাবি রিম্মি। রিম্মির সন্দেহ ছিল মুমুর সঙ্গে সাহেদের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পরে মুমুকেও বিয়ে করেন সাহেদ।

রিজেন্টের একাধিক কর্মী জানান, প্রশাসনের অনেক অসাধু লোকজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় নানা অপকর্ম করেও পার পেতেন সাহেদ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বড় উন্নয়নমূলক কাজে পাথর সরবরাহসহ নানা কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। অন্যরা যে রেটে পাথর সরবরাহ করতেন তার চেয়ে অনেক কম রেটে সাপ্লাই দিতেন সাহেদ। এ কারণ হলো- অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাথর এনে হুমকি-ধমকি আর ভয় দেখিয়ে তাদের টাকা দিতেন না তিনি। বিনা পয়সা পাথর এনে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন সাহেদ। তাই সৎ ব্যবসায়ীদের তুলনায় অনেক কম রেটে পাথর সরবরাহ করার 'খ্যাতি' ছিল তার।

এম এন  / ১৩ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে