Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১২-২০২০

ব্যর্থ হতে বসেছে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান

ফজলুল হক শাওন


ব্যর্থ হতে বসেছে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান

ঢাকা, ১২ জুলাই- চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ২০ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের জন্য যে অভিযান শুরু করেছে তাতে সাড়া মিলছে না। কারণ ধান-চালের যে মূল্য সরকার নির্ধারণ করেছে তার চেয়ে খোলাবাজারে দাম বেশি। এর আগে আমন মৌসুমে সরকারি গুদামে ধান দেয়া এবং লটারিতে নাম উঠাতে যারা তদবির করতো তারাও এবার কোনো সাড়া দিচ্ছে না। কারণ লটারিতে যাদের নাম উঠেছে তারা প্রকৃত কৃষক নয়। বাজার থেকে ধান কিনে এরপর তাদের গুদামে সরবরাহ করতে হবে। বাজার থেকে ধান কিনে গুদামে দিলে লোকসান হবে। এ জন্য এবার তাদের সাড়া-শব্দ নেই। ফলে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হতে বসেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বোরো মৌসুমে সরকার আট লাখ মেট্রিক টন ধান, ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহে অভিযান শুরু করে। গত মে মাস থেকে এ অভিযান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মাত্র দেড় মাস সময় আছে। আগস্টে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে।

জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত সরকার ৯৫ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন ধান, তিন লাখ ১৭ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৪১ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করেছে। জুলাই ও আগস্ট বৃষ্টি ও বন্যার মাস। এছাড়া চলতি মাসের শেষে ঈদ। সুতরাং এ দেড় মাসে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপদকালীন মজুতের জন্য সরকার প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে স্থানীয় চালকল মালিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহ করেন। করোনার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার এ সংগ্রহ অভিযানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ লক্ষ্যে এবার ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অন্যবারের চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে। কিন্তু লটারি করতেই প্রায় দেড় মাস চলে যায়। এর মধ্যে কৃষকের হাত থেকে ধান মজুতদারদের গুদামে চলে গেছে। ফলে সরকার এখন আর ধান পাচ্ছে না।

অভিজ্ঞ মহল জানায়, ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে যে কোনো দুর্যোগের সময় সরকার বিপদে পড়বে। প্রয়োজনে অধিক দামে চাল কিনে সরকারকে সরবরাহ করতে হবে দুর্যোগকালে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা, আগাম বন্যা ও সারাবিশ্বে দুর্ভিক্ষের আভাস পেয়ে অনেক কৃষক এবার ধান হাত ছাড়া করছে না। যারা মজুতদার তারা ধান কাটা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ধান ক্রয় শুরু করে। মিলারও একই সঙ্গে ধান মজুত করে। ফলে যেসব কৃষক ধান বিক্রি করেছে সেগুলো ইতিমধ্যে মজুতদারদের গুদামে গেছে। মিলারদের সঙ্গে চালের জন্য সরকারের যে চুক্তি হয়েছে সে চুক্তি অনুযায়ী মিলাররাও চাল দিতে পারছে না। কারণ সরকার যেখানে ৩৬ টাকা কেজি চাল ধরেছে সে চাল বাজারে ৪০-৪২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এখন তারা বলছে বেশি দামে ধান কিনে ৩৬ টাকা কেজিতে চাল সরবরাহ সম্ভব নয়।

বিভিন্ন জেলা উপজেলায় কর্তব্যরত খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কর্মকর্তা ও গুদাম ইনচার্জদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান-চাল সংগ্রহের এ সময় প্রায় ১০ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বেশকিছু উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম ইনচার্জকে বদলি করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের এই সময় তাদের বদলির কারণে অনেক জায়গায় ধান-চাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কারণ একজন খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে স্থানীয় মিলার এবং কৃষকসহ অনেকের একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের নিজস্ব সম্পর্কের কারণেই ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু হঠাৎ বদলির ঘটনা সব কিছু থমকে দিয়েছে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, নিলফামারী, গাজীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের সময় আগে কখনও এমন বদলির ঘটনা ঘটেনি। নতুন একজন কর্মকর্তা যোগদান করেই তার সফলতা দেখানো অনেকটা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের গুদামে ধান দেয়া প্রসঙ্গে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ জাগো নিউজকে বলেন, লটারিতে যাদের নাম উঠেছে তারা প্রকৃত কৃষক নয়। তারা কখনও ধান চাষ করে না। তারা কেউ ভ্যান চালক, কেউ মুদি দোকানদার বা অন্য ব্যবসায়ী। গত আমন মৌসুমে তারা ৬০০ টাকা মণ দরে ধান কিনেছে। শুকিয়ে ৭০০ টাকা এবং ১০০ টাকা ঘুষসহ ৮০০ টাকা পড়লেও প্রতি মণে তাদের ২০০ টাকা লাভ হয়েছে। ওই সময় লটারিতে নাম ওঠা না ওঠা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছিল। কিন্তু এবার লটারিতে নাম উঠলো কী উঠলো না তা নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। কারণ বাজারেই ধানের দাম বেশি। এ কারণে নানা ধকল সহ্য করে কেউ গুদামে ধান সরবরাহ করতে চাইছে না।

খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রতিবেদককে বলেন, ১১ জুলাই পর্যন্ত ৯৫ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন ধান, তিন লাখ ১৭ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৪১ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো অসুবিধা হবে না। ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ কৃষক খোলাবাজারেই ভালো দাম পাচ্ছে এ কারণে গুদামে ধান দিতে কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অটো মেজর রাইচ অ্যান্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খোলাবাজারেই মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩৬ টাকা। বিষয়টি সরকারের ওপর মহলে জানানো হয়েছে। আশা করি সরকার চালকল মালিকদের স্বার্থের বিষয়টি দেখবে।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা দেশের যেসব অঞ্চল থেকে ধান সংগ্রহ করি সেসব এলাকায় ধানের দাম বেশ চড়া। ওই দামে ধান কিনে সরকারি মূল্যে চাল সরবরাহ করলে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চালকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাজার ঘুরে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা। অন্যদিকে বাজারভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ১০৭০-১১০০ টাকা মণ দরে। যে কারণে কেউই সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১২ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে