Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০ , ১৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১২-২০২০

এগিয়ে চলছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণকাজ

এগিয়ে চলছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণকাজ

ঢাকা, ১২ জুলাই- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীন দেশের প্রথম এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণ কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগিয়ে চলছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বিশেষায়িত এ হাসপাতালের নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ সরকার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মাণাধীন এ হাসপাতালের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন এর প্রকল্প পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান। সংশ্লিষ্ট কোরিয়ান প্রতিনিধি, প্রকৌশলী শ্রীকান্ত রায়ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণ কার্যক্রম যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর দিকে ১২ বিঘা জমির ওপর এ হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবার চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের জনসাধারণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত করার উদ্যোগ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর সম্প্রসারণের জন্য ২০১২ সালে বর্তমান হাসপাতালের উত্তর পাশের ৩.৮ একর (প্রায় ১২ বিঘা) জমির বন্দোবস্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় ওই জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

জনগণের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়।

হাসপাতালটি নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইডিসিএফের অর্থায়নে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ সহযোগিতা প্রদানের কার্যক্রম চলমান। প্রকল্পের আওতায় প্রথম ফেজে দুটি বেজমেন্টসহ ১১ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। সরকারের অর্থায়নে পরবর্তীতে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালানো হবে। ১৩ তলা হাসপাতাল ভবনটিতে থাকবে এক হাজার শয্যা। দেশের প্রথম সেন্টার বেইজড চিকিৎসাসেবা চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে। বাংলাদেশে এ ধরনের হাসপাতাল এই প্রথম।

বর্তমানে সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে সেন্টার বেইজড চিকিৎসাসেবা পদ্ধতি চালু আছে। নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনের প্রথম ফেজে থাকবে- ১. স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার; ২. ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার; ৩. হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার; ৪. কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার; ৫. কিডনি সেন্টার এবং দ্বিতীয় ফেজে থাকবে- ১. রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টার; ২. জেনারেল সার্জারি সেন্টার; ৩. অফথালমোলজি/ডেন্টিস্ট্রি/ডার্মাটোলজি সেন্টার এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন/রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হবে একটি রোগীবান্ধব সবুজ হাসপাতাল। এতে থাকবে সানকেন গার্ডেন, রুফটপ গার্ডেন এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব সুযোগ-সুবিধা। সুপরিসর এ হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও ইনফো ডেস্ক থাকবে। হসপিটাল ইনফরমেশন সেন্টার চালুর মাধ্যমে রোগী ও হাসপাতাল পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

জনসাধারণ এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি ভিভিআইপি ও ভিআইপি কেবিনও থাকবে হাসপাতালটিতে। এ হাসপাতালে কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধা থাকবে।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষ করে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দিগন্ত প্রসারিত হবে। সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৮০ জন চিকিৎসক, ৩০ নার্স ও ১০ জন কর্মকর্তাকে কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবাগ্রহণ করবেন দুই হাজার থেকে চার হাজার রোগী। অন্তঃবিভাগে প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা পাবেন। প্রতি বছর দেশের বাইরে যাওয়া ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটির মাধ্যমে ‘বিদেশ নয়, দেশেই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা’ দেয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাংলার আপামর জনসাধারণ যাতে দেশেই সুলভে সর্বোচ্চমাত্রার স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন সে লক্ষ্যেই ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১২ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে