Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০ , ১৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১২-২০২০

ওষুধ-যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের কর্তৃত্ব থাকছে না

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল


ওষুধ-যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের কর্তৃত্ব থাকছে না

ঢাকা, ১২ জুলাই- স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ছোটবড় যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) বা কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের একক কর্তৃত্ব থাকছে না। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নীতিমালা তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। এর ফলে সিএমএসডি ছাড়াই আগামীতে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটা করতে পারবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ভরযোগ্য একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। একক প্রতিষ্ঠান সিএমএসডির বদলে প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে নতুনভাবে কেনাকাটা রীতি চালুর মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অনেকাংশে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেলা ও উপজেলা পর্য়ায়ের হাসপাতালে শত শত কোটি টাকার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ছোটবড় মেডিকেল যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সিএমএসডির মাধ্যমে ক্রয় করা হয়ে থাকে। কোটি কোটি টাকার এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মন্ত্রী, সচিব, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক ও চিকিৎসক নেতাসহ প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তদবির ও সুপারিশ তথা প্রভাব খাটিয়ে চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকার ভারি যন্ত্রপাতি ক্রয় করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি (সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি) কেনা হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজেই এ বিষয়ে জানেন না। প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত মেশিন পাঠিয়ে দিয়ে তা রিসিভ করতে বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপনের যথোপযুক্ত জায়গার অভাব, বিদ্যুৎ লোডিং ক্যাপাসটি এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল না থাকায় যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ও সুপারিশেও এমন তথ্য উঠে আসে।

সম্প্রতি দেশে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সিএমএসডির মাধ্যমে এন-৯৫ মাস্ক কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এন-৯৫ এর সিল মেরে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরাজভাজন হয়ে রাজধানী ও ঢাকার বাইরের একাধিক হাসপাতালের পরিচালক বদলির ঘটনাও ঘটেছে।

পরবর্তীতে সিএমএসডির পরিচালক পদে থাকা সেনা কর্মকর্তাকেও সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে দুদকের সুপারিশে সিএমএসডির তালিকাভুক্ত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণঅলয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব সিএমএসডির পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেনাকাটায় এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির দুর্বৃত্তায়ন থেকে বেরিয়ে আসতেই কেন্দ্রীয়ভাবে সিএমএসডির মাধ্যমে ক্রয় না করে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটার বিষয়ে নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ও জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে কেনাকাটার বদলে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কেনাকাটা করা হলে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিএমএসডির বদলে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ ও যন্ত্রপাতি যাতে কিনতে পারে, সেজন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালা চূড়ান্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১২ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে