Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১১-২০২০

কুড়িগ্রামে বড় বন্যার আশংকা

কুড়িগ্রামে বড় বন্যার আশংকা

কুড়িগ্রাম, ১১ জুলাই- কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। নেমে যাওয়া ঘর-বাড়িগুলোতে আবার পানি উঠতে শুরু করেছে। প্রথম দফা বন্যার পর মানুষজন বাড়িতে ফিরে যাওয়ার তিনদিনের মধ্যেই আবার পানিবন্দি হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ মহা দূর্ভোগে পড়েছেন। মানুষজন ঘর-বাড়ি ফেলে আবার ছুঁটছেন উঁচু জায়গা ও আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামে তিনি এবার বড় বন্যার আশংকা করছেন। আসাম, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দুটি পয়েন্টে ১ মিটারের বেশি উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুনাচল প্রদেশে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ওই পানি ধেয়ে আসছে এদিকে। 

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে বলেও জানান তিনি । 

এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। গত কয়েকদিন থেকে চলমান ভারি বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিত মানুষের যাপিত জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে কোরবানি ঈদের আগে কয়েক লাখ কোরবানির পশু নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষজন। এ মুহূর্তে না পারছেন হাটে তুলতে, না পারছেন পশুগুলোর খাবার জোটাতে। কমদামে কিনে নেওয়ার জন্য ওইসব এলাকায় শুরু হয়েছে পশুর দালালদের আনাগোনা।

উলিপুর উপজেলার বন্যা কবলিত সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর কলাকাটার কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি এক বছর ধরে ৮ টি মহিষ ও ৪ টি ষাঁড় লালন-পালন করে বড় করেছেন। এসব গবাদিপশু নিয়ে এথন বিপাকে পড়েছেন তিনি। দুইদিনের জন্য চর ভেসে উঠেছিল। কিছু ঘাসও পাওয়া যাচ্ছিল। এখন সেগুলো আবার তলিয়ে গেছে। 

সাহেবের আলগা উইনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক হোসেন জানান, বন্যা আার ভাঙ্গনে পর্যুদস্ত তার ই্উনিয়ন। সুখের বাতির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম আশ্রয়কেন্দ ও একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। তিনি লিখিতভাবে তা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। এছাড়া তার ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, ঈদকে সামনে রেখে ৪ লাখ সাড়ে ২৮ হাজার পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৯০ মেট্রিটন চাল, ১২ লাখ টাকা মজুদ আছে। এরমধ্যে ২ লাখ শিশু খাদ্য ও ২ লাখ টাকা পশুখাদ্যের জন্য বরাদ্দ আছে। এগুলো বন্যা কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান স্যার উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা জরুরি সভায় জেলা ও সকল উপজেলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে প্রস্তুত করে রেখেছি। বন্যায় যখন যা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে তাই করা হবে।   

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এম এন  / ১১ জুলাই

কুড়িগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে