Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০ , ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১১-২০২০

৩০ বছর ধরে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি

মো.নাজমুল হোসেন


৩০ বছর ধরে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি

ঢাকা, ১১ জুলাই- পুরো নাম আতিকুর রহমান খান। বয়স প্রায় ৬০ বছর। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন ঢাকা-বান্দুরা আন্তঃ সড়কের যানবাহন চলাচল। নিজের এবং পরিবারের কথা চিন্তা না করে বয়সের শেষ সময় এসেও যানজট নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারি চালিত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরু সেতু  হওয়ার ফলে বর্তমানে বান্দুরা ব্রিজের ঢালে প্রতিনিয়তই যানজট লেগেই থাকে। একা মানুষ অন্যদিকে বয়সের ভার সব মিলিয়ে এখন তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও মানুষ যাতে অল্প সময়ে বাড়িতে ফিরতে পারেন সর্বদা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছেন এই স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সেচ্ছায় কাজ করে যাওয়া এই স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক আতিক বলেন, ‘আমি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এখানে কাজ করি। বয়স হয়েছে তাই আগের মতো আর পরিশ্রম করতে পারি না। বড় ট্রাক কিংবা প্রাইভেট কার থেকে যা বকসিস পাই তাই দিয়েই সংসার চালাই।’

‘আমি এখানকার স্থানীয় না। তাই কাজ শেষ করে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান চলে যেতে হয়’, বলেন তিনি।

জানা যায়, ৮০ দশকের দিকে তৎকালীন সময়ে ওয়াদুদ মিয়ার হাত ধরেই মূলত এই ট্রাফিকের কাজে লিপ্ত হন আতিক। শুরুতে মরিচা ব্রিজের ঢালে বাসের লাইন ম্যানের কাজ করতেন তিনি। পরে মরিচা হতে বান্দুরায় চলে আসেন। তখন বান্দুরা টু জিনজিরা নবাবগঞ্জ বহর নামে বাস চলাচল করত। মূলত এই বাসের যানজট নিরসনেই কাজ করতেন তিনি। পরবর্তীতে বান্দুরা ব্রিজ নির্মানের পর, ব্রিজের ঢালে যানজট নিরসনে বিনা পয়শায় সেচ্ছাসেবী ট্রাফিক হয়ে এখন অব্দি কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

আতিকের নিজ বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার গিরিনগরে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ থাকায় সেদিন আর কাজে আসতে পারেননি তিনি। তাই বাড়ির উঠানেই পারিবারিক কাজ করছেন আতিক। ভাঙা দুটি টিনের ঘর, এক ছেলে, নাতি, ছেলের বউ এবং স্ত্রী নিয়ে থাকেন তিনি। ছেলে নাজমুল ভাড়ায় সিনএজি চালায়।

দিন শেষে জমা খরচ দিয়ে যা থাকে তাই দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে তাদের। মাঝে মধ্যে ইনকাম না হলে বাড়িতে তাদের চুলাও জ্বলে না। হয়তো সেই দিনটি না খেয়েই পার করতে হয় আতিক ও আতিকের পরিবারের। কিন্তু তার পরেও কোনো আফসোস নেই আতিকের স্ত্রীর। ঠিক মত খাবার খেতে না পারায় পরিবারের প্রায় সদস্যের দেহেই নানা রকম রোগ বাসা বেঁধেছে।

আতিকের স্ত্রী নাসিমা বলেন, ‘আমার বিয়ের আগে থেকেই তিনি এসব কাজ করেন। কিন্তু তাকে কখনো বাধা দেয়নি। তিনি মানুষের কাছ থেকে যে টাকা পায়, তাই দিয়েই দুমোঠো ডাল ভাত খেয়ে বাকি জীবন কাটাতে চাই। সেই সাথে শেষ বয়সে আমার স্বামীর জন্য সরকারের কাছে একটু সুব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’

আতিয়ারের প্রতিবেশী মো. শহিদ বলেন, ‘আতিক ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে আমি চিনি। আমিও এক সময় যমুনা পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। তখন থেকেই তাকে রাস্তায় কাজ করতে দেখতাম। সরকারের পক্ষ হতে তাকে যদি একটা কর্মস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, অন্তত শেষ বয়সে একটু ভালোভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারবেন তিনি।’

তার সাথে সুর মিলিয়ে যমুনা গাড়ির মালিক চন্দ্রন বাবু জানান, আমরা মালিক পক্ষ হতে তাকে সহায়তা করতে চাই। কিন্তু আমাদের সহায়তায় তো তার পেট বাচবে না। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদিন আহমেদ ঝিলু বলেন, ‘বিয়টি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিনা পয়শায় কাজ করে যাওয়া এই স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক এবং তার পরিবার যেন ভালোভাবে চলতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা চেষ্টা করা হবে।’

স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক আতিকের ব্যাপারে দোহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বান্দুরাতে কে স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক হিসেবে কাজ করছেন সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে খোঁজ নিয়ে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তার করার চেষ্টা করব।’

এম এন  / ১১ জুলাই

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে