Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১০-২০২০

রেল প্রকৌশলীই জড়িত মালামাল পাচারে!

তৌফিকুল ইসলাম বাবর


রেল প্রকৌশলীই জড়িত মালামাল পাচারে!

চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই- রেলের বিভিন্ন অফিস, ডিপো এবং স্টেশনে ব্যবহূত ইলেকট্রিক, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, পুরোনো আসবাবপত্র এবং ট্রেনের যন্ত্রপাতি পুরোনো হলেই সেগুলো নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সেল ডিপোতে। সেখানে মালামালগুলো উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করার পাশাপাশি কোনো কোনো ফার্নিচারের দাম নির্ধারণ করে রেলের আগ্রহী কমর্চারীদের কাছেও বিক্রির নিয়ম রয়েছে। আর এসব বিষয় দেখার জন্য রেলওয়ের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের অধীনে ডিপোতে রয়েছেন একজন সহকারী প্রকৌশলী।

তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই প্রকৌশলী মো. ইউনুসই পাচার করছেন এসব পুরোনো যন্ত্রপাতিসহ অনেক মূল্যবান মালামাল! ভুয়া মেমোর মাধ্যমে পাচারকালে এরকম একটি চালান ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রেলে এখন রীতিমতো তোলপাড় চলছে। অভিযোগ রয়েছে, রেলের মালামাল পাচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক বনে গেছেন প্রকৌশলী ইউনুস।

গত ২৭ জুন রেলওয়ে পাহাড়তলী ডিপো থেকে ভ্যানে করে ফার্নিচারজাতীয় মালামাল নিয়ে যাচ্ছিলেন ছয় ব্যক্তি। ডিপোর মূল ফটকের বাইরে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কর্তব্যরত হাবিলদার মো. আবদুল্লাহ আল নোমান মালামালগুলো আটক করে কাগজপত্র দেখছিলেন। এ সময় দুই ব্যক্তি হঠাৎ পালিয়ে গেলে তাদের সন্দেহ বাড়ে। যে মেমো দেখিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটি ভুয়া মনে হওয়ায় তারা মালামালগুলোর পলিথিনের মোড়ক খুলে দেখতে পান পুরোনো ফার্নিচারের ভেতর আরও এক বস্তা ভর্তি মালামাল রয়েছে। বস্তার ভেতরে রয়েছে ট্রেনের ইঞ্জিনের ছয়টি ব্রেকব্লক, যাত্রীবাহী বগির ২১ শাটার রিপ ও দুটি স্প্রিং। মেমোতে এসব যন্ত্রপাতির কথা উল্লেখ নেই।

এ সময় মালামাল বহনকারী মো. আলমগীর হোসেন (৫৫), মো. জসিম উদ্দিন (৩৬) ও মো. শরীফুল ইসলামসহ (৩৫) চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, প্রকৌশলী ইউনুসই মালামালগুলো তাদের দিয়েছেন। এ কারণে আরএনবির পক্ষ থেকে করা ফৌজদারি মামলার এজাহারেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রকৌশলী ইউনুস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে রেলের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরএনবির এসআই হাবিবুল্লাহ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে গড়িমসি করছেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চিঠিটি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, যে মেমো দেখিয়ে মালামালগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তাতে স্বাক্ষর রয়েছে রেলের চট্টগ্রামের আমবাগান নিউ স্টোর ডিপোর খালাসি পদের কর্মচারী শিমুল চন্দ্র দাশের। তিনি জানিয়েছেন, ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একটি মেমোতে স্বাক্ষর করতে বললে সরল বিশ্বাসে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। মেমোতে কী লেখা রয়েছে, তা তিনি জানতেন না।

তবে পলাশ নাম পরিচয় দিয়ে শিমুলের এক বড় ভাই জানিয়েছেন, শিমুল একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ঘটনার পর থেকে চাপে রয়েছেন তারা। এ অবস্থায় এই বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চান না তারা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন অফিস, স্টেশন ও ট্রেনের পুরোনো মালামাল সেল ডিপোতে আসার পর গুদামে রাখা হয়। মালামালের ধরন অনুযায়ী উন্মুক্ত নিলামে তুলে সেগুলো বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এখানকার গুদামে স্থান না হওয়ায় বাইরেও বিভিন্ন ধরনের মালামালের স্তূপ জমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের সংশ্নিষ্ট একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, ভুয়া মেমো বানিয়ে এবং পুরোনো আসবারপত্রের ভেতরে মূল্যবান যন্ত্রপাতিসহ নানা সরঞ্জাম পাচার করে দেওয়া হয়। পাচার চক্রের মূল হোতা ডিপোর সহকারী প্রকৌশলী ইউনুস রেলের ঘরে-বাইরের লোকজন নিয়ে সুকৌশলে এ কাজটি করে আসছিলেন। এভাবে রেলের মালামাল পাচার করে দিয়ে মালদার হয়ে গেছেন তিনি। বনে গেছেন একাধিক বাড়ি-গাড়ির মালিক। এসব বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মালামাল পাচারের ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন তিনি।

রেলের মালামাল পাচারের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হলেও একজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন এই বাহিনীর চট্টগ্রামের প্রধান পরিদর্শক ইসরাফিল মৃধা। এভাবে কাউকে ছেড়ে দেওয়া আইনবিরোধী হওয়ায় পরে তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চট্টগ্রামের সহকারী কমান্ড্যান্ট সত্যজিৎ দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুরস্কারের বদলে শাস্তি! : রেলের সেল ডিপো থেকে পাচারকালে মালামালের চালান হাতেনাতে ধরে ফেলা আরএনবির সদস্যরা এ জন্য পুরস্কার পাবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু পুরস্কার তো দূরের কথা, বরং শাস্তিই পেলেন তারা এ ঘটনায়! ঘটনার তিন দিনের মাথায় সেল ডিপোর আরএনবি হাবিলদার আবদুল্লাহ আল নোমানকে বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই)। তার সঙ্গে বদলি করা হয়েছে আরও আটজনকে। এ ঘটনায় হতবাক হাবিলদার নোমান বলেন, 'রেলের সেল ডিপো থেকে মূল্যবান মালামাল পাচার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমি মালামাল রক্ষার পাশাপাশি পাচারকারীদেরও আটক করেছি। এ ঘটনায় করা মামলার বাদীও হয়েছি। ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন, তাকে সেল ডিপো থেকে সিজিপিওয়াইতে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনেও নিয়েছেন।

এম এন  / ১১ জুলাই

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে