Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০ , ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১০-২০২০

সাহেদের প্রতারণা, কেঁচো খুঁড়তে বের হচ্ছে সাপ

মাহমুদুল হাসান নয়ন


সাহেদের প্রতারণা, কেঁচো খুঁড়তে বের হচ্ছে সাপ

ঢাকা, ১১ জুলাই- রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের প্রতারণার একের পর এক ভয়াবহ তথ্য বের হয়ে আসছে। বলতে গেলে ‘কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ’ বের হওয়ার মতো অবস্থা। তদন্তে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করোনার ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট ও ভুতুড়ে বিল বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মামলা হয়েছে সাহেদ করিমসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার এড়াতে সাহেদ গাঢাকা দিয়েছে। তবে তাকে ধরতে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সাহেদের গ্রেফতারের বিষয়ে শিগগিরই তথ্য দিতে পারব।

যত বড় ক্ষমতাবান হোক না কেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাড় পাবে না।

পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল দেয়াসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ মেলে। প্রতারণার ভয়াবহতা দেখে হতবাক হয়ে যান অভিযান পরিচালনায় যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওইদিনই রিজেন্টের আট কর্মকর্তা কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরার শাখা ও অফিস সিলগালা করা হয়। এর পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে হাসপাতালটির মিরপুর শাখা বন্ধ করে দেয়া হয়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, আমরা সাধারণত এ ধরনের অভিযান পরিচালনার আগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে গোয়েন্দা তদন্ত করি। এই অভিযানের আগেও আমরা টানা চার-পাঁচদিন তদন্ত করেছি। আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল, হাসপাতালটিতে পিসিআর মেশিন না থাকার পরেও টেস্ট করে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। বিনিময়ে নেয়া হচ্ছে টাকা। এরপর কিছু ভুয়া পরীক্ষার প্রমাণ আমরা পাই। কিছু সার্টিফিকেট আমাদের হাতে আসে সেগুলো আইইডিসিআরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সেখানে এসব রিপোর্টের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। মূলত এ দু’টি অভিযোগ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলেও পরে তার প্রতারণা দেখে বিস্মিত হই।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা শুরুতে ভুয়া টেস্টের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু এখন দিন যতই যাচ্ছে দেখছি অসংখ্য জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সাহেদ। যাদের সঙ্গে তার ব্যবসা ছিল, তাদের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে। অভিযানের পর অসংখ্য মানুষ আমাকে কল করে তার প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরছে। পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তার থেকে পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে সাপ্লাই দিয়ে আর টাকা দেয়নি। সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে একজন কল করে জানিয়েছে, তার থেকে বালু এনে সাপ্লাই দিয়ে সে টাকা আর পরিশোধ করেনি। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলির কথা বলে কোটি কোটি টাকা সে হাতিয়ে নিয়েছে। অবাক করা বিষয় হল পুলিশের এসপি পদমর্যাদার একটি বদলির জন্যও সে প্রতারণা করেছে।

অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র বলছে, ২১ মার্চ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর কোভিড-১৯ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চুক্তি করে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে। সে সময় তারা অনলাইনে দেখতে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তখন তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। তবে বর্তমানে যে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ আসছে সেটি তারা এভাবে জানতে পারেনি।

প্রতারণায় রমণীদের ব্যবহার : বিভিন্ন প্রতারণায় সাহেদ করিম সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহার করত। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, বাড়িওয়ালা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রগুলো জানিয়েছে এসব তথ্য। তারা বলছে, সাহেদ তরুণীদের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে কাজ বাগিয়ে নিত। অনেক সময় সরবরাহকারীদের দিয়ে কাজ করিয়ে বিল দিতেন না। এমনও হয়েছে, পাওনাদারদের কাছে তরুণীদের পাঠিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় মান-সম্মানের ভয়ে তারা আর পাওনা টাকা চাইতেন না। এভাবে অনেকের সঙ্গেই প্রতারণা করে সাহেদ। এ ক্ষেত্রে নাম উঠে এসেছে জনৈক তরুণী লিজা, সাদিয়া ও হিরা মণির। এমন আরও অন্তত চার-পাঁচ তরুণী সাহেদের হয়ে কাজ করত বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এমন অভিযোগের বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আমরাও পেয়েছি।

শুক্রবার রাজধানী ধানমণ্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের গ্রেফতারের বিষয়ে শিগগিরই তথ্য দিতে পারব। যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে তার ছাড় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

৭ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের সময় সাহেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিল বলে মন্ত্রী নিজেই জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফোন দিয়ে তার হাসপাতালে রোগী ভর্তি করি, সেই সুবাধে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হাসপাতাল সিল করে দিচ্ছে। আমি বলেছি, আপনি নিশ্চয়ই কোনো অন্যায় কাজ করেছেন, এজন্য সিল করছে। বিনা কারণে তো সিল করে না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে বলল আমি তাহলে কী করব? আমি বললাম, হয় আপনি ফেইস করেন, নতুবা কোর্টে গিয়ে আপনার যদি কিছু বলার থাকে কোর্টে যান। এটুকুই আমি বলেছি।’ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তার সংসদ সদস্যকে ছাড় দেননি, তার দলীয় নেতাদেরও ছাড় দিচ্ছেন না। যার (সাহেদ) কথা বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয়, তাকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

সাহেদকে খুঁজছে র‌্যাব-পুলিশ : সাহেদকে ধরতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। একটি সূত্র জানায়, বুধবার একটা সময়ে তাকে ধরার খুব কাছাকাছি গিয়েছিল র‌্যাব। কিন্তু সে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এ বিষয়ে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, আমরা তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। একাধিক টিম কাজ করছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, সে (সাহেদ) খুবই ধূর্ত প্রকৃতির লোক। তবে এভাবে পালিয়ে সে থাকতে পারবে না। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে আছে। আশা করছি, শিগগিরই সে ধরা পড়বে।

সহযোগী তরিকুল ৫ দিনের রিমান্ডে : করোনা পরীক্ষার ও চিকিৎসার নামে প্রতারণা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের সহযোগী তরিকুল ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এম এন  / ১১ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে