Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৯-২০২০

বৈশ্বিক তাপমাত্রা আটকানোর লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাবে ৫ বছরেই

বৈশ্বিক তাপমাত্রা আটকানোর লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাবে ৫ বছরেই

জেনেভা, ০৯ জুলাই- চলতি শতাব্দীতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মধ্যে আটকে রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা, সেটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই অতিক্রম করার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। আগামী ২০২৪ সালের আগেই তা ঘটার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। 

জলবায়ু পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করা যে কতটা কঠিন, সেই অসহায়তাই ফুটে উঠেছে বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে। খবর বিবিসির। 

প্যারিসে ২০১৫ সালের জলবায়ু সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বিশ্বনেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চলতি শতকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যেন ১৮৫০ সালের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে না উঠে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওই লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যেতে বসেছে কয়েক বছরের মধ্যেই। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার জন্য যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এক বা একাধিক মাসের গড় তাপমাত্রা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে, এমন সম্ভাবনাও ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। 

গবেষকরা বলছেন, পৃথিবীর এখনকার গড় বার্ষিক তাপমাত্রাই ১৮৫০ সালের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। তারা বলছেন, স্বল্প সময়ের জন্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উপরে থাকবে, আগের গবেষণায় এমন সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বলা হলেও এখন তা দ্বিগুণ মনে হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়তে পারে। 

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এতে বিশ্বের কিছু কিছু অঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি উষ্ণতার শিকার হবে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় পশ্চিম ইউরোপে ঝড়ের সংখ্যাও বাড়বে।  

মূল্যায়নে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিভিন্ন চলকের পাশাপাশি মানুষের কারণে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাবও বিবেচনা করা হয়েছে। 

তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি বছর বিশ্বের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় কার্বন নিঃসরণ কমছে বলে মনে করা হলেও ডব্লিউএমও'র দাবি,  ২০২০ সালের প্রথমভাগের এ অবস্থা বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রায় তেমন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। 

এ বিষয়ে ডব্লিউএমও'র মহাপরিচালক অধ্যাপক পেটেরি টালাস বলেন, 'করোনার কারণে অর্থনীতি ও শিল্পে দেখা দেওয়া মন্দা যে টেকসই ও সমন্বিত জলবায়ু বিষয়ক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নয়, ডব্লিউএমও তা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে।' 

তিনি আরও বলেন, 'বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ চলতি বছর কমলেও তা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্বই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।' 

ডব্লিউএমও মহাপরিচালক বলেন, 'কোভিড-১৯ যেভাবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি করেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ব্যর্থতাও শতকের পর শতক ধরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বাস্তুসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।' 

মহামারির এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি।

সূত্র : সমকাল
এম এন  / ০৯ জুলাই

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে