Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৮-২০২০

দেশে সংক্রমণের ৪ মাস, জুনেই মৃত্যু ৫৬%

দেশে সংক্রমণের ৪ মাস, জুনেই মৃত্যু ৫৬%

ঢাকা, ০৮ জুলাই- দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের চার মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। এ সময়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন সংখ্যা যুক্ত হচ্ছে। তবে আশার কথা, আক্রান্তের অনেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও তিন হাজার ২৭ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনে দাঁড়াল। মোট আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন ১৭তম অবস্থানে। আর দেশে প্রতি ১০ লাখে পাঁচ হাজার ৩২১ জনের পরীক্ষা হয়েছে। মোট জনসংখ্যার কতজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৭তম।

আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন হাজার ২০১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৫ জন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ১৫১ জনে পৌঁছেছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ২৭তম অবস্থানে। আগের দিন সোমবার মারা গিয়েছিলেন ৪৪ জন। মোট মৃত্যুর ৫৬ শতাংশই হয়েছে জুন মাসে। এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ৯৫৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মোট ৭৮ হাজার ১০২ জন সুস্থ হলেন। আগের ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছিলেন তিন হাজার ৫২৪ জন। মোট সুস্থ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে থাকা করোনায় মৃতদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হন। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। মার্চে মৃতের সংখ্যা ছিল পাঁচজন। এরপর সময় যত গড়িয়েছে বেড়েছে আক্রান্ত, সেইসঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুও। এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে মাসে ৪৮২ জন, জুনে এক হাজার ১৯৭ জন এবং জুলাই মাসের সাত দিনে ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ১৫১ জনের। মোট মৃত্যুর ৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশই হয়েছে জুন মাসে। জুলাই মাসে মারা যাওয়া ৩০৪ জনের মধ্যে ২৭৭ জন হাসপাতালে, ৭৩ জন বাসায় এবং চারজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। অর্থাৎ জুলাইয়ে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশই হাসপাতালে মারা গেছেন। ২৪ শতাংশ বাসায় মারা যান এবং এক দশমিক ৩১ শতাংশ মৃত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছান।

অর্ধেকের বেশি মৃত্যু ঢাকা বিভাগে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন এক হাজার ১০৪, চট্টগ্রামে ৫৫৭, রাজশাহীতে ১০৭, খুলনায় ৯৭, বরিশালে ৭৮, সিলেটে ৯১, রংপুরে ৬৫ এবং ময়মনসিংহে ৫২ জন। মোট মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, খুলনায় ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, বরিশালে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, সিলেটে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, রংপুরে ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৯৪০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩২৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭১ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৫ জন এবং ১০ বছরের নিচে ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন : করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকার আহ্‌ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব চালু হওয়ায় দেশে এখন ৭৪টি ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৪৯১টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৩ হাজার ১৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত (গতকাল) আট লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫৫ জনের তথ্য তুলে ধরে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, তাদের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। বয়স বিশ্নেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দু'জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৭, চট্টগ্রামে ১২, বরিশালে ২, রাজশাহীতে ২, খুলনায় ৭, সিলেটে ২, রংপুরে ২ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ৩৯ জন এবং বাসায় ১৫ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া একজন হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এসেছেন।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৮০২ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৮৭৩ জন। আইসোলেশন থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৭২৩ জন এবং এখন পর্যন্ত (গতকাল) ১৫ হাজার ৪৭৮ জন ছাড় পেয়েছেন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৫১ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইন মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। মোট তিন লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭৯৮ জন এবং মোট তিন লাখ ১৮ হাজার ১৬৭ জন ছাড়া পেয়েছেন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৬৩ হাজার ৪৪১ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে টিকাদান চালু আছে। টিকা নিশ্চিত করতে পিতা-মাতারা শিশুদের নিয়ে কেন্দ্রে আসুন।

সূত্র: সমকাল
এম এন  / ০৮ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে