Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০ , ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৭-২০২০

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি : নৌপুলিশের প্রতিবেদনে এলো শত্রুতার কথা

জাহাঙ্গীর আলম


বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি : নৌপুলিশের প্রতিবেদনে এলো শত্রুতার কথা

ঢাকা, ০৭ জুলাই- ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদসহ মামলার এজহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা শত্রুতামূলকভাবে পূর্বপরিকল্পনামাফিক দায়িত্বে অবহেলা এবং বেপরোভাবে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবিয়ে দিয়ে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটিয়েছেন। এছাড়া মর্নিং বার্ড লঞ্চের ৮৫ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা নৌপুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ময়ূর-২ লঞ্চের সুপারভাইজার আব্দুস সালামকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। প্রতিবেদনে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আব্দুস সালাম ময়ূর-২ এর সুপারভাইজার। ২৯ জুন সকাল ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দোতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই আসামি ও এমডি ময়ূর-২ এর কর্মচারীরা অর্থাৎ মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ আরও অজ্ঞাতনামা আসামিরা শত্রুতামূলকভাবে পূর্বপরিকল্পনামাফিক দায়িত্বে অবহেলা ও বেপরোভাবে এম এল মনিং বার্ড লঞ্চটি ডুবিয়ে দিয়ে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটায় এবং লঞ্চটির ধ্বংস করে। 

ঘটনাটি একটি আলোচিত ঘটনা। ওই আসামিসহ সহযোগী আসামিরা শত্রুতামূলকভাবে পূর্বপরিকল্পনামাফিক এই প্রাণহানি ঘটিয়েছে মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। ওই আসামি মামলার অপর আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে জানেন। তাই মামলার মূল রহস্য উদঘাটসহ মামলার ঘটনাটি শত্রুতামূলক দুঘটনা কি-না সে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের লক্ষ্যে আসামিকে ঘটনার বিষয় নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ড আবশ্যক।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সকাল ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দোতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। “এমএল মনিং বার্ডকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার সময় ‘ময়ূর-২’ এর মূল মাস্টার নয় এমন একজন শিক্ষানবিশ চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চের কোনো ত্রুটি নয়, মাস্টারের ভুলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।”

পরদিন লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপুলিশের সদরঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামসুল বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় বেপরোয়া লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৪৩৭ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার, জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার, মাস্টার শাকিল ও সুকানি নাসির।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/৭ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে