Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৭-২০২০

পদ্মার পেটে রিং বাঁধ, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

পদ্মার পেটে রিং বাঁধ, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

রাজবাড়ী, ০৭ জুলাই- পদ্মা নদীর রিং বাঁধের পাশে ফসলি জমিসহ স্কুল, মসজিদ, বাজার, কবরস্থানসহ ছিল কয়েকশ পরিবারের বসবাস। রাস্তাটি দিয়ে আনা-নেয়া করা হতো ফসলসহ বিভিন্ন পণ্য। মূল বেড়ি বাঁধের সাপোর্ট হিসেবেও কাজ করত এ রাস্তাটি। কিন্তু গত কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়েছে রিং বাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটার। নদীগর্ভে গেছে রাস্তা, স্কুল, কবরস্থান, বাজারসহ কয়েকশ বসতবাড়ি। এমনকি রাস্তাটিও মানুষের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বহু বছর আগে বেড়ি বাঁধের সাপোর্ট হিসেবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুরের বেনীনগর থেকে চরজৌকুড়ী হালিম বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয় মাটির রাস্তা। তখন নদী রাস্তা থেকে অনেক দূরে ছিল এবং এলাকাবাসী রিং বাঁধ হিসেবে রাস্তাটিকে চিনতে। রাস্তার একপাশে নিচু ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ আর আরেক পাশে ছিল স্কুল, মসজিদ, কবরস্থান, বাজারসহ প্রায় ৭ শতাধিক পরিবারের বসবাস। গত কয়েক বছরে রাস্তাটি ভেঙে স্কুল, বাজার, কবরস্থানসহ শত শত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সরাসরি বাঁধে গিয়ে লাগছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছর জরুরি প্রতিরোধমূলক কিছু বালুর বস্তা ফেলার কাজ করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন মহাদেবপুর রিং বাঁধের মধ্যে থাকা প্রায় প্রায় ৫ শতাধিক পবিরারের ৪ হাজারের বেশি মানুষ।

রিং বাঁধের ভেতরে থাকা এলাকাবাসী জানান, রামচন্দ্রপুর বেনীনগর চরজৌকুরী পর্যন্ত মহাদেবপুর রিং বাঁধ। এক সময় এ রাস্তাটি দিয়ে অনেক মানুষ চলাফেরা করতো। ফসলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হতো। কিন্তু নদী ভাঙতে ভাঙতে স্কুল, বসতবাড়ী, বাগান, কবরস্থানসহ রাস্তার অর্ধেকের বেশি নদীতে চলে গেছে। এখনও ভাঙছে, কিন্তু কেউ এদিকে নজর দিচ্ছে না।

তারা জানান, যেটুকু জমি আছে সেটুকুও এখন নদীতে যেতে বসেছে, কিন্তু ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। ভাঙন থেকে বাঁচতে শুধু এ এলাকাটা বেঁধে দেয়ার দাবি তাদের।

করোনা ভাইরাসের কারণে তিন মাস কোনো কাজ নেই। এখন যদি বাড়িও ভেঙে যায় তাহলে তারা কোথায় যাবেন। কিছু বালুর বস্তা ফেললেও থাকতে পারতেন। কিন্তু সেটাও ফেলা হচ্ছে না। পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে নদীভাঙন রোধে এখনই সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ২০০৩ সালে তিনি রাস্তাটি একবার সংস্কার করেছিলেন। তারপর আর কোনো কাজ হয়নি। এখন যেটুকু রাস্তা আছে সেটুকুও ভাঙছে। দ্রুত ভাঙন রোধ না করা গেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এছাড়া নদীর পানি বাড়লে এখন সরাসরি বাঁধে গিয়ে লাগছে। এতে মূল বাঁধও হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এটা রিং বাঁধ না, এটি একটি রাস্তা। নদীর পানির বিপৎসীমার যে লেভেল তার থেকে এটি নিচু। তারপরও ভাঙন রোধে মহাদেবপুর এলাকায় দু’একটি স্থানে কাজ করা হয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/৭ জুলাই

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে