Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০ , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০২-২০২০

জামালপুরের তিন উপজেলায় বন্যার অবনতি, শিশু নিখোঁজ

জামালপুরের তিন উপজেলায় বন্যার অবনতি, শিশু নিখোঁজ

জামালপুর, ৩ জুলাই-জামালপুরে যমুনা নদী তীরবর্তী উপজেলাগুলোয় বন্যার পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার জেলার মেলান্দহ, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বহ্মপুত্র নদে ডুবে সীমান্ত (১০) নামের এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে যমুনা নদীর পানি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, ঝিনাই নদীর পানি বেড়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার তিন লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় চারটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম, মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম, জামালপুর সদরের মেষ্টা, তিতপল্লা, লক্ষ্মীরচর ও তুলসীচর ইউনিয়নে নতুন করে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘরে পানি উঠেছে এবং পাট ও অন্যান্য ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

সদরের তুলসীরচর এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোতে নদীভাঙনের শিকার হয়ে অন্তত ৩৫টি বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়নের গাজীরপাড়া বাজার থেকে বাংগালপাড়া সড়কের ওপর নির্মিত একটি ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গেছে। এতে করে ওই এলাকার চারটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে সীমান্ত নামের (১০) এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ও স্থানীয় ডুবুরিরা শিশুটির সন্ধানে ওই এলাকায় টানা চার ঘণ্টা অনুসন্ধান চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি। শিশুটি স্থানীয় হামিদপুর গ্রামের বাবু মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে চলতি বন্যায় জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ছয়জন এবং সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে জেলার ইসলামপুর আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার ইসলামপুর উপজেলায় বন্যাকবিলত এলাকা পরিদর্শন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। জামালপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম তুলসীরচর এলাকা পরিদর্শন করে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ২১২টি গ্রামের তিন লাখ আট হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় ২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৯৬৮টি পরিবারকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছয় হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোয় এ পর্যন্ত নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ মজুদ না থাকায় ঢাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবরে ৭০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা ও পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী।  

সূত্র: কালের কন্ঠ

আর/০৮:১৪/৩ জুলাই

জামালপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে