Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৭-২০২০

বেনাপোলে ৩ হাজার ৭০ কোটি ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ঘাটতি

বেনাপোলে ৩ হাজার ৭০ কোটি ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ঘাটতি

যশোর, ২৭ জুন- দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউজে চলতি (২০১৯-২০২০) অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই- মে) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৭০ কোটি ১২ লাখ টাকা ঘাটতি হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এপথে ভারতের সঙ্গে টানা আড়াই মাস আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আহরণ অর্ধেকে নেমে আসে।

এছাড়া বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৈধ সুযোগ সুবিধাবঞ্চিতসহ নানা কারণে ব্যবসায়ীরা এপথে আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আয়ে পিছিয়ে ছিল এ কাস্টমস হাউজ।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৬ হাজার ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বেনাপোল কাস্টমস হাউজকে। চলতি অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেধে দেওয়া হয় ৫ হাজার ৬০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এসময় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আদায় করে মাত্র ২ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৩ লাখ  টাকা। এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৩ হাজার ৭০ কোটি  ১২ লাখ টাকা। এসময় ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৮ মেট্রিকটন বিভিন্ন ধরনের পণ্য।

এর আগেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি ছিল। এসময় লক্ষ্যমাত্রা  দেওয়া হয়েছিল ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। 

এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এসময় আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, আড়াই মাস এপথে আমদানি বন্ধ ছিল। এ কারণে রাজস্ব ঘাটতি আরো বেশি হয়েছে। এপথে রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন বাড়াতে হবে। এছাড়া বন্দরে বার বার রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। বন্দর কোনো ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় তারা এ বন্দর ছেড়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন জানান, করোনার কারণে প্রথমত আড়াই মাস ধরে  আমদানি বন্ধ ছিল। এছাড়া পণ্য খালাসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, পণ্য ছাড়করণের ক্ষেত্রে বৈধ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় আমদানি কমে যাওয়া একটি কারণ। এতে রাজস্ব দিন দিন ঘাটতি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এছাড়া শুরু থেকেই রাজস্ব ঘাটতি হয়ে আসছে তাতে চলতি অর্থবছর শেষে বিপুল পরিমাণে ঘাটতি দাঁড়াবে। বার বার রাজস্ব ঘাটতির কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন, চাহিদা অনুপাতে বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়া এবং উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া কিছু আমদানিকারক জানান, বেশি লাভজনক হওয়ায় সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরে বৈধ পণ্যের সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলে ভায়াগ্রার মত মাদক ঢুকছে। এসব চালানের দু একটা আটক করলেও অধিকাংশ চালান থাকছে ধরাছোঁয়ায় বাইরে। এসব দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনতে পারাই সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছে। এতে অনেক ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করছেন। এতেও কিছুটা আমদানি কমেছে।

উল্লেখ্য, যোগোযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দেশে স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য  আমদানি হয়ে থাকে। যা থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসতো। এপথে আমদানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, ক্যেমিক্যাল, অক্সিজেন বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য।

সূত্র : বাংলানিউজ
এম এন  / ২৭ জুন

যশোর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে