Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (82 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১২-২০-২০১৩

জার্মানিতে নতুন মহাজোট সরকার

সরাফ আহমেদ


জার্মানিতে নতুন মহাজোট সরকার

বার্লিন, ১৯ ডিসেম্বর- সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মহাজোট সরকারের তিন প্রধান বাঁ থেকে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিগমার গ্যাব্রিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের হোর্স্ট সিহোফারজার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে তৃতীয় দফায় নির্বাচিত হলের আঙ্গেলা ম্যার্কেল। এবার তিনি একটি মহাজোট সরকারের প্রধান হলেন। ম্যার্কেলের রক্ষণশীল জোট ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ও ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) এবার সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের নিয়ে মহাজোট সরকার গঠন করেছে। 
গত ২২ সেপ্টেম্বর জার্মানির ১৮তম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচনে ম্যার্কেলের সিডিইউ/সিএসইউ জোট সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ব্যর্থ হয়। ফলে গঠন করতে হয়েছে মহাজোট সরকার।
নির্বাচনের পর দীর্ঘ ১১ সপ্তাহ ধরে তিনটি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে দলগুলোর বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিকেরা মহাজোট গঠনের সম্ভাব্যতা নিয়ে বারবার আলাপ-আলোচনায় বসেন। একপর্যায়ে দলগুলোর সভাপতি ও নেতারা গত ২৬ নভেম্বর দুপুর থেকে পরের দিন ভোররাত পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে মহাজোট সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে সরকার গঠন নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনার নজির নেই। 
তবে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসডিপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের তৃণমূল কর্মীরা সমর্থন দিলেই দলটি মহাজোট সরকারে অংশ নিতে পারবে, নচেৎ নয়। এ জন্য ১৪ ডিসেম্বর এক ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। এতে মহাজোট সরকারে দলের অংশ নেওয়ার পক্ষে তৃণমূল কর্মীদের ৭৫ শতাংশ ভোট পড়ে। এরপরই মহাজোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত হয়। 
এসডিপির পার্লামেন্ট সদস্যরা ১৫ ডিসেম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যার্কেলের জোটকে সমর্থন দেন। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর বার্লিনে পার্লামেন্টসংলগ্ন পাউল লোবে হাউসে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে ‘জার্মানির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ১৮৫ পৃষ্ঠার একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে তিন দলের সভাপতি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের আঙ্গেলা ম্যার্কেল, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের হোর্স্ট সিহোফার আগামী চার বছরের জন্য মহাজোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
পরে গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। এতে ম্যার্কেল ৬২১ সদস্যের মধ্যে ৪৬২ জনের ভোট পান। এবার এই মহাজোট সরকারে পার্লামেন্টে বিরোধী দল হচ্ছে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক বামদল।
হামবুর্গে ১৯৫৪ সালে আঙ্গেলা ডরথি ম্যার্কেলের জন্মের পরপরই তাঁকে নিয়ে সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী তাঁর ধর্মযাজক বাবা পশ্চিম থেকে পূর্ব জার্মানিতে চলে যান। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে যখন পূর্ব জার্মানির সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হচ্ছিল সে বছরই পদার্থবিদ্যার কৃতী ছাত্রী ড. আঙ্গেলা ম্যার্কেল সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের হাত ধরে ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হেলমুট কোহলের মন্ত্রিসভায় ১৯৯১ সালে মহিলা ও যুববিষয়ক এবং ১৯৯৪ সালে পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে হেলমুট কোহল-পরবর্তী অনেক ঝানু রাজনীতিক থাকলেও আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর আপন প্রতিভা আর কৌশলের জোরে সবাইকে পাশ কাটিয়ে জার্মানির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
২০০৮ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ঝড়ে যখন ইউরোপসহ সারা বিশ্বে অনেক দেশের বেসামাল অবস্থা, তখন মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবক্তা জার্মানিরও বেশ কিছু বড় ব্যাংক, শিল্প খাত বা মোটর গাড়ি তৈরির কারখানা দেউলিয়া হওয়ার পর্যায়ে চলে যায়। সে সময় আঙ্গেলা ম্যার্কেল মুক্তবাজার অর্থনীতিকে সুকৌশলে নিয়ন্ত্রিত করেন। শুধু অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, নানা সামাজিক সংস্কারও তাঁর ভাবমূর্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে।
৫৯ বছর বয়সী জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে এবার নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসীন হলেন। তাঁর অনেক সমর্থকের আশা, তাঁরই দলের দুই সাবেক চ্যান্সেলর কনরাড আডেনআওয়ার আর হেলমুট কোলের ক্ষমতায় থাকার রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাবেন তিনি।

 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে