Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০১-২০১১

বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক ও চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার ২০

মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক ও চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার ২০
মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র ও আট লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত এমবিবিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। প্রশ্নপত্রের লোভ দেখিয়ে এ চক্র রাতভর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে। গতকাল দুপুরে আগারগাঁওয়ের র‌্যাব-২ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের হাজির করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. ফিরোজুল হাসান (৩২), বিডিএস চিকিৎসক (ইন্টার্নি) মঞ্জুর আলম (২৯), ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম (৩১), অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ (৩০), গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম (৩১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এমিল (২৬), ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন (৩৬), শিক্ষক আনিছুল ইসলাম (২৯), তৌহিদুল ইসলাম (৩০), রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা মানস দেব (২৪), ব্যবসায়ী নুরুন্নবী তেজ (৩৫), বেসরকারি কলেজের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম (২৭), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র শহিদুজ্জামান ওরফে শাহেদ (২৮), ব্যবসায়ী তানভির আহমেদ সিদ্দিক (৪২), ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম সুজন (৩২), কলেজছাত্র দাজমুল পারভেজ (৩০), ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন (২৫), ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (১৯), ব্যবসায়ী লিয়ন (২৫) ও ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম রাজু (২৪)।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ সোহায়েল সাংবাদিকদের জানান, গতকাল সকালে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রশ্নপত্র দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে একটি প্রতারকচক্র। দুটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় র‌্যাব সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৪ জনকে আটক করেন। তাঁদের মধ্যে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিয়ে প্রতারকচক্রের সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা অভিভাবকদের কাছ থেকে যে আট লাখ টাকা নিয়েছিলেন তাও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে ২৯টি মোবাইল ফোনসেট, তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে রাজধানীর ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে এ চক্রের আরো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোহায়েল বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই উচ্চশিক্ষিত। এরাই দেশের এত বড় ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছিল। আসলে এরা জ্ঞানপাপী।'
র‌্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক জানান, চক্রের ফাঁদে পড়ে অভিভাবকরা অগ্রিম দুই লাখ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেট তাদের হাতে তুলে দেন। এরপর পরীক্ষায় টিকে গেলে তাদের আরো আট লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ফেরত দেওয়া হবে না বলে অভিভাবকদের হুমকি দেয় প্রতারক চক্র।
র‌্যাব জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে খিলগাঁওয়ের এমএ কোচিং সেন্টার থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় কোচিং সেন্টারের ভেতরে ও সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থী এবং অভিভাকদেরও আটক করা হয়। তবে পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া প্রশ্নের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শেয়ার ব্যবসায় মার খেয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হই : গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিন বলেন, 'আমি মূলত একজন ব্যবসায়ী। শেয়ার ব্যবসায় মার খেয়ে পথে বসে গেছি। এরপর এমবিবিএস প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হই। অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ১০ লাখ টাকায় প্রশ্নপত্র দিতে চাই। সে অনুযায়ী তারিকুলের শ্যামলীর বাসায় সবাইকে আসতে বলি। এরপর একটি গাইড দেখে নিজেই এক সেট প্রশ্ন তৈরি করি। সেই প্রশ্নই শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে বিক্রি করি। আসলে এমবিবিএস প্রশ্নপত্র ফাঁস-টাস কিছুই নয়। এটি একটি প্রতারণা।'
কোচিং সেন্টারের মালিক প্রত্যেক অভিভাবকের কাছ থেকে অগ্রিম দুই লাখ টাকা নেন : গ্রেপ্তার তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কোচিং সেন্টারটির মালিক মনসুর আলী। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি র‌্যাব। দুই মাস আগে তিনি এই কোচিং সেন্টারে চাকরি নেন। মালিক তাঁকে পরিচালক পদ দিয়ে সব কিছু দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। মনসুর আলী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার বাণিজ্য শুরু করেন। সে মোতাবেক প্রত্যেক অভিভাবকের কাছ থেকে অগ্রিম দুই লাখ টাকা নেন।
আমি নির্দোষ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. ফিরোজুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি নির্দোষ। গত বৃহস্পতিবার বন্ধু তারিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে শ্যামলী এক নম্বর রোডের ২/সি/১ নম্বর বাসায় আসি। প্রতি মাসে তার বাসায় আমার আসা হয়। রাত দেড়টার দিকে র‌্যাব ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে। আমি এ চক্রের কেউ নই। আমি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে কিছুই জানি না।'
আড্ডা দিতে গিয়ে ফেঁসে যায়! : তারিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি ও ফিরোজুল হাসান একসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। ফিরোজুল প্রতি মাসে আমার বাসায় আসে আড্ডা দিতে। বৃহস্পতিবার রাতেও সে একই কারণে এসে ফেঁসে যায়। সে নির্দোষ।'
প্রশ্ন নিতে এসে গ্রেপ্তার হই : গ্রেপ্তার মানস বলেন, 'আমি রংপুরের প্রাইম মেডিক্যালে চাকরি করি। আমার এক মামাত বোন পরীক্ষার্থী। জুয়েল নামের একজন প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় আসতে বলে। গত বৃহস্পতিবার প্রশ্ন নিতে এসে গ্রেপ্তার হই। আমি প্রতারক চক্রের কেউ নই।'
আমি জড়িত নই : ডা. মঞ্জুর আলম বলেন, 'আমি ২০০৭ সালে ডেন্টাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। গত বৃহস্পতিবার রাতে এক বন্ধুর সঙ্গে শ্যামলী এলাকায় আসার পর রাস্তা থেকে র‌্যাব আমাকে গ্রেপ্তার করে। আমি এ চক্রের সঙ্গে জড়িত নই।'
শিক্ষক আনিসকে দুই লাখ টাকা দিই : র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনের আগে একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের। ফাহমিদা নামের এক অভিভাবক বলেন, 'আমার এক মেয়েকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বনশ্রীর প্রগ্রেসিভ কোচিং সেন্টারে ভর্তি করি। ওই কোচিং সেন্টারের আনিস নামের এক শিক্ষক গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দিতে চান। মেয়েকে পরীক্ষায় টিকিয়ে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায় রাজি হয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে খিলগাঁও এলাকার বাসা থেকে মালিবাগ ওভার ব্রিজের পাশে গেলে আনিসের এক প্রতিনিধি তাঁদের এক বাসায় নেন। এরপর ওই বাসায় গিয়ে দেখি আরো অনেক অভিভাবক-শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করছেন। পরে শিক্ষক আনিসকে দুই লাখ টাকা এবং মেয়ের এসএসসি ও এইচএসসির সার্টিফিকেট দিই। মেয়েকে পরীক্ষায় সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার পর আনিসকে আরো আট লাখ টাকা দিতে রাজি হই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের জন্য রাতে ওই বাসায় অপেক্ষায় থাকার সময় র‌্যাব সেখানে অভিযান চালিয়ে সবাইকে আটক করে। পরে আনিসকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।'
আনিসুর রহমানসহ র‌্যাবের হেফাজতে থাকা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, গতরাতে প্রতারকদের সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁদের যোগাযোগ হয়। এরপর তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বনশ্রী ও শ্যামলীতে যান। রাস্তা থেকে প্রতারক চক্রের লোকজন তাঁদের বাসায় নিয়ে গিয়ে দুই লাখ টাকা অগ্রিম ও দুটি সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়। ভোরে তাঁদের হাতে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু রাতেই র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে