Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (73 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৯-২০১৩

ক্রমেই স্থানচ্যূত হয়ে যাচ্ছে উত্তর মেরু!

ক্রমেই স্থানচ্যূত হয়ে যাচ্ছে উত্তর মেরু!

ওয়াশিংটন, ১৯ ডিসেম্বর- গবেষকরা জানিয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে উত্তর মেরু ক্রমেই এর নিজ অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে! পৃথিবীর আহ্নিক গতি বা নিজ কক্ষপথের উপর ঘূর্ণনের প্রকৃতি প্রায়ই খুব সামান্য পরিমাণে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এর ফলে পৃথিবীর উত্তর মেরুও সময়ের সাথে সাথে নিজ জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু এতদিন ভাবা হতো এই সরে যাওয়ার হার খুব সামান্য। কিন্তু এখন গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এই স্থানচ্যুতির ঘটনা ঘটছে অনেক দ্রুত গতিতে।

২০০৫ সালের ঘটনা। উত্তর মেরু হঠাৎ করেই পূর্ব দিকে সরে যেতে শুরু করলো। নাসা’র উপগ্রহ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য থেকে জানা গেলো, এর জন্য দায়ী মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া। শুধু তাই নয়, বরফ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রে পানিস্তরের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। তাই উত্তর মেরুর এই নিজ অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার ঘটনাটিও অব্যাহত থাকবে।

অস্টিনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষক জিয়ানলি চেন ও তার দল জানান, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের কারণে মেরু অঞ্চলের হিমবাহ ও বরফ স্তর গলে যাচ্ছে। আর এ কারণেই উত্তর মেরু ধীরে ধীরে স্থানচ্যূত হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে এটাও বোঝা গেল যে পৃথিবীর ভূ-মন্ডল আসলে এক জায়গায় দৃঢ অবস্থানে নেই। আর এই মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া ও সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শতকরা ৯০ ভাগ দায়ী। ১৮৯৯ সাল থেকে উত্তর মেরুকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে দেখা যায়, উত্তর মেরু ক্রমেই প্রতি বছর ১০ সেন্টিমিটার করে দক্ষিণ দিকে ৭০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা বরাবর অগ্রসর হচ্ছে। আবার ১৯৮২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৬ সেমি করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। পৃথিবীর ভরের পরিবর্তনের কারণে উত্তর মেরুর এই স্থানচ্যূতি ঘটছে। আর এর শুরু হয়েছে বরফ যুগ থেকে। কিন্তু ২০০৫ সালে চেন পেলেন আরেক ভিন্ন ফলাফল। দেখা গেল উত্তর মেরুর এই স্থানচ্যূতির গতিপথ পুরো উলটো হয়ে গিয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে এটা পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত আগের অবস্থান থেকে উত্তর মেরু সরে এসেছে প্রায় ১.২ মিটার।

কেন এরকম হয় সেটা জানার জন্য গবেষক দল নাসা’র GRACE বা Gravity Recovery and Climate Experiment উপগ্রহের সাহায্য নেন। এই উপগ্রহটি পৃথিবীর অভিকর্ষ ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যবেক্ষণ করে। এটা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ড ও এন্টার্টিকার বরফ গলে যাওয়ার কারণে ভূ-পৃষ্ঠের ভরের পরিবর্তন ঘটে ও সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। গবেষকরা আশা করছেন, প্রাপ্ত তথ্য থেকে উত্তর মেরু অঞ্চলে কি পরিমাণ বরফ গলে যাচ্ছে ও এর ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা কতটুকু বেড়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি বছর গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ২৫০ গিগাটন বরফ গলে যাচ্ছে। এন্টার্টিকাতে এই পরিমাণ ১৮০ গিগাটন। জিয়ানলি চেন তার গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল স্যান ফ্রান্সিসকোতে American Geophysical Unionএ উপস্থাপন করেন।

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে