Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১০-২০২০

স্বাস্থ্য সুরক্ষার আদব ও দোয়া

স্বাস্থ্য সুরক্ষার আদব ও দোয়া

স্বাস্থ্য ও সুস্থতা মহান আল্লাহর নেয়ামত ও আমানত। তাই স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে অবহেলা করা মোটেও সমীচিন নয়। কোনো কারণে অসতর্কতায় একবার অসুস্থ হয়ে গেলে তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা অনেক কঠিন কাজ। সে কারণেই হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন-

'অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে মর্যাদা দাও।'

আর নিজেদের সুস্থতায় বার বার এ দোয়া পড়তে উম্মতে মুহাম্মাদিকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সব সময় এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবি-

اَللَّهُمَّ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَ الْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسْلِ وَ ضَلْعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةَ الرِّجَالِ

উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসলি ওয়া দালয়িদ দাঈনি ওয়া গালাবাতির রিঝালি।'

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি অস্থিরতা, চিন্তা, নিরুপায় অবস্থা, অলসতা ও অসুস্থতা, ঋণের বোঝা এবং লোকদের দ্বারা আমাকে পরাজিত করা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থণা করছি।' (বুখারি, মুসলিম)

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৩টি বিশেষ আদব রয়েছে। আর তাহলো-

- অবহেলা ও অসলতা পরিহার করা

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কোনো অবহেলা বা অলসতা না করা। কেননা স্বাস্থ্য ও সুস্থতা যেহেতু মহান আল্লাহর নেয়ামত ও আমানত। তাই এর শুকরিয়া ও জিম্মাদারি পালন করা খুবই জরুরি। তাই একদিকে সুস্থ থাকার চেষ্টা করা আর অসুস্থতা হয়ে গেলে তা নিয়ে অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা।

উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে-

ছোট্ট ছোট্ট উঁই পোকা যেমনিভাবে বড় বড় পাঠাগারের বই-পুস্তককে কেটে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে দেয়, তেমনি ক্ষুদ্র রোগ জীবাণু বা অসুস্থতাও মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সুতরাং স্বাস্থ্যের সুস্থতার দাবি হচ্ছে, অলসতা বা অবহেলা না করে সুস্থ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং চিকিৎসা গ্রহণ কর সুস্থ হওয়ারও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

মনে রাখতে হবে

একজন মুমিনের প্রতি আল্লাহ তাআলা যে দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছেন তা পালনে শারীরিক শক্তি, জ্ঞান ও মস্তিষ্কের শক্তি, ইচ্ছা শক্তি, কর্ম স্পৃহা খুবই জরুরি। দুর্বল মন ও অসুস্থতা নিয়ে যেমন দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়, তেমনি আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিও করা সম্ভব নয়। তাই সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার বিকল্প নেই।

- হাসি-খুশি ও প্রাণচাঞ্চল্য থাকা

সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য সব সময় হাসি-খুশি, প্রফুল্ল, কর্মচঞ্চল ও সক্রিয় থাকা। নিশ্চিন্ততা, স্বচ্চরিত্রতা, মৃদু হাসি এবং সজীবতার দ্বারা জীবনে সার্থক, সুন্দর প্রাণচাঞ্চল ধরে রাখা। তাই সব সময় চিন্তা, রাগ, দুঃখ-হিংসা, কুচিন্তা, সংকীর্ণমনা, দুর্বলমনা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে দূরে থাকা জরুরি। তাই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-

'সাদাসিধে থাকুন, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন এবং হাসি-খুশিতে থাকুন।' (মিশকাত)

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার এক যুবককে দেখতে পেলেন যে, সে দুর্বল ব্যক্তির ন্যায় পথ চলছে। তিনি তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমার কি রোগ হয়েছে? যুবক উত্তর দিলেন, কোনো রোগ হয়নি। তিনি তাকে (যুবককে) বেত্রাঘাত করার জন্য লাঠি উঠালেন এবং ধমক দিয়ে বললেন- 'রাস্তায় চলাচলের সময় পূর্ণ শক্তি নিয়ে চলবে।'

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারেস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে কাউকে বেশি মৃদু হাসতে দেখিনি।' (তিরমিজি)

সুতরাং সুস্থতার অন্যতম আদব সব সময় হাসি-খুশি প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে চলা ফেরা করা। দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকা। আর আল্লাহর কাছে বেশি বেশি এ দোয়া করা। যে দোয়াটি পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি-

اَللَّهُمَّ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَ الْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسْلِ وَ ضَلْعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةَ الرِّجَالِ

উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসলি ওয়া দালয়িদ দাঈনি ওয়া গালাবাতির রিঝালি।'

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি অস্থিরতা, চিন্তা, নিরুপায় অবস্থা, অলসতা ও অসুস্থতা, ঋণের বোঝা এবং লোকদের দ্বারা আমাকে পরাজিত করা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থণা করছি।' (বুখারি, মুসলিম)

- সামর্থ্যের অতিরক্তি কাজ পরিহার করা-

নিজের ক্ষমতা বা সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত বোঝা বা দায়িত্ব গ্রহণ না করা। নিজের শরীরের শক্তি, সাহসের অতিরিক্ত বোঝা বা দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া যাবে না। শারীরিক শক্তিকে অন্যায় বা বিপথে (কুপথে) নষ্ট করা যাবে না।

মনে রাখতে হবে

শক্তিশালী ও সাহসী ব্যক্তির দায়িত্ব হলো তার শক্তি ও সাহস সংরক্ষণ করা এবং তার ক্ষমতা ও সাহস অনুযায়ী মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে কার্যক্রম সমাধান করা। হাদিসে এসেছে-
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কাজ এতটুকু করবে যতটুকু করার শক্তি তোমার আছে। কেননা আল্লাহ তাআলা সে পর্যন্ত বিরক্ত হন না, যে পর্যন্ত তোমরা বিরক্ত না হও।' (বুখারি)

হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি নিজেকে নিজে অপমানিত করা উচিত নয়। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, মুমিন ব্যক্তি কিভাবে নিজেকে নিজে অপমানিত করে? প্রিয় নবি উত্তর দিলেন- (মুমিন ব্যক্তি) নিজেকে নিজে অসহনীয় (কাজের মাধ্যমে অর্থাৎ ক্ষমতার বাইরে এমন কাজের মাধ্যমে) পরীক্ষায় নিপতিত করে।' (তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার আদব রক্ষায় হাদিসের নসিহতগুলো গ্রহণ করে উল্লেখিত দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। মহমারি করোনা ও সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে গোটা মানবজাতীকে হেফাজত করুন। আমিন।

এন এইচ, ১০ জুন

ইসলাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে